নাসিমের বাড়ি সাতক্ষীরার তালায়। তিনি বিটিভিতে ফসলের ক্ষেতে চিংড়ি চাষ লাভজনক এরকম একটি অনুষ্ঠান দেখে উদ্বুদ্ধ হন। তিনি ফসলের ক্ষেতে চিংড়ি চাষ করে লাভবান হন। লোনা পানির জন্য অন্যদের জমিতে ফসল ভালো হয় না বলে অন্যরাও ফসলের ক্ষেতে চিংড়ি চাষ করেছেন। কিন্তু চিংড়ির সাদা দাগ রোগে অধিকাংশ চাষির চিংড়ি মারা যায়। এতে তাদের অনেক ক্ষতি হয়।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

মাছ চাষ হলো কোনো নির্দিষ্ট জলাশয়ে মানুষের খাদ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মাছের পরিকল্পিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক উৎপাদন।

Tamanna
Tamanna
1 year ago
উত্তরঃ

ধান চাষের জমিতে সবসময়ই পানি রাখতে হয়। তাই ধানের জমিতে একইসাথে একই ব্যবস্থাপনায় ও একই সময়ে চিংড়ি চাষ করা সম্ভব।

এই পদ্ধতিতে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার হয়। চিংড়ির মল ও বর্জ্য ধানক্ষেতে সার হিসেবে কাজ করে। ধানের জন্য ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গগুলো চিংড়ি খেয়ে ফেলে। ধানক্ষেতে চিংড়ি চাষের ফলে ধানের ফলন ১০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এই সমন্বিত পদ্ধতি অবলম্বন করলে চাষির আয় বাড়ে। পরিবারের সুষম পুষ্টি নিশ্চিত হয়। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং সামগ্রিক উৎপাদন দ্বারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব। তাই ধানক্ষেতে চিংড়ি চাষের সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল।

Tamanna
Tamanna
1 year ago
উত্তরঃ

চিত্র-ক হলো গলদা চিংড়ি। ধানের সাথে চিত্র-ক অর্থাৎ গলদা চিংড়ি চাষের কৌশল নিচে দেওয়া হলো-

ধানক্ষেতে চিংড়ি চাষের ক্ষেত্রে যে জমিতে বছরে ৩-৪ মাস সময় এবং ১০-২০ সেমি গভীরতায় পানি আটকে রাখা যাবে এমন জমি নির্বাচন করতে হবে। জমির আইল শক্ত, মজবুত এবং উঁচু করে তৈরি করতে হবে। পানির গভীরতা সমান রাখার জন্য জমির সকল স্থানে চাষ দিয়ে সমতল রাখতে হবে। জমিতে ভালোভাবে চাষ দেয়ার পর প্রচলিত নিয়মে রাসায়নিক সার ও গোবর সার মিশিয়ে জমি তৈরি করতে হবে। জমির ঢাল অনুযায়ী ক্ষেতের ভিতরে আড়াআড়িভাবে কয়েকটি নালা খনন করতে হবে। প্রতিটি নালা ৫০-৬০ সেমি গভীর এবং ৬০-১০০সেমি প্রশস্ত হতে হবে। নালার মাথায় কিংবা সংযোগস্থানে নালার চেয়ে গভীর ও প্রশস্ত করে গর্ত খনন করতে হবে যার গভীরতা হবে ১ মিটার। এরপর ধানের চারা সারিবদ্ধভাবে রোপণ করতে হবে। ধানের চারা রোপণের ক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০-২৫ সেমি এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ১৫-২০ সেমি রাখতে হবে। এক্ষেত্রে ধানের চারা রোপণের ২০-২৫ দিন পর চিংড়ির পোনা ছাড়তে হয়। জৈষ্ঠ্য মাসে ধান রোপণের ১০-১৫ দিন পর সাধারণ নিয়মে গলদা চিংড়ির পোনা প্রতি হেক্টরে ৫ সেমি আকারে ১০-১৫ হাজার হারে মজুদ করা হয়। উপরে উল্লিখিত পদ্ধতিতে ধানের সাথে গলদা চিংড়ির চাষ করা হয়। 

Tamanna
Tamanna
1 year ago
উত্তরঃ

নাসিম বিটিভিতে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে লাভজনকভাবে ফসলের ক্ষেতে অর্থাৎ ধানক্ষেতে গলদা চিংড়ি চাষ সম্পর্কে জানতে পেরে সে অনুযায়ী চাষ করেন এবং তাকে দেখে এলাকার অন্যান্য চাষিরাও উদ্বুদ্ধ হন। 

এলাকার অন্যান্য চাষিগণ নাসিমের দেখানো পথ অনুসরণ করে ধানক্ষেতে চিংড়ি চাষ শুরু করেন। প্রথমে তারা চিংড়ি চাষের জন্য জমি ভ নির্বাচন, জমির আইল তৈরি বা মেরামত করেন, আইলের চারপাশে ভেতরের দিকে খাল এবং সুবিধাজনক স্থানে এক বা একাধিক ডোবা বা গর্ত নির্মাণ করেন। চিংড়ির জন্য জমি উপযুক্তকরণের পাশাপাশি ধান চাষের জন্যও প্রস্তুত করা হয়। তারা জমিতে সার প্রয়োগ করেন ও জমির মাটির ধরন অনুযায়ী ধানের জাত নির্বাচন করে চারা রোপণ করেন। পরে চিংড়ির পোনা মজুদ করেন ও প্রয়োজনমাফিক সার, খাদ্য, পানি সরবরাহের মাধ্যমে পোনা বড় করে তোলেন। কিন্তু পোনা মজুদের কিছুদিন পর চিংড়ির দেহে সাদা সাদা দাগ দেখা যায়। আক্রান্ত হওয়ার কিছুদিন পর অধিকাংশ চিংড়ি মারাও যায়।
নাসিমের এলাকার চাষিরা যথাযথ পরিচর্যা ব্যবস্থাপনা গ্রহণ না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তারা পোনা মজুদের পূর্বে পোনা শোধন করেননি। পুকুরে রোগের আক্রমণ হলে জৈবসার প্রয়োগ বন্ধ, চুন ও সুষমখাদ্য প্রয়োগ ও পুকুরের পানি পরিবর্তন করতে হয়। কিন্তু চাষিরা এ সকল কাজ করেননি। আবার সংক্রমণ হলে রোগাক্রান্ত চিংড়ি পুকুর থেকে সরিয়ে ফেলতে হয় যাতে অন্যান্য সুস্থ চিংড়িকে ভাইরাস থেকে বাঁচানো যায়। কিন্তু তারা এ ব্যবস্থাও না নেয়ায় অধিকাংশ চিংড়ি মারা যায়।

উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, নাসিমের দেখাদেখি এলাকার অন্যান্য চাষিরা ধানক্ষেতে চিংড়ি চাষ পদ্ধতি অবলম্বন করলেও তাদের রোগ ব্যবস্থাপনায় গৃহীত কার্যক্রম সঠিক ছিল না।

Tamanna
Tamanna
1 year ago
156

Related Question

View All
উত্তরঃ

কোনো প্রাণীর যথাযথ বৃদ্ধি ও কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন পাওয়ার জন্য। প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি বাইরে থেকে যে খাদ্য সরবরাহ করা হয় তাই সম্পূরক খাদ্য।

Tamanna
Tamanna
1 year ago
4.4k
উত্তরঃ

পুকুরে নিয়মিত সার প্রয়োগ করলে পানিতে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরির হার সন্তোষজনকভাবে বাড়ে এবং মাছের ফলন বৃদ্ধি পায়।
পুকুরে মাছের খাদ্য হিসেবে প্রাকৃতিকভাবে যে উদ্ভিদ ও প্রাণিকণা জন্মায় তাকে প্লাংকটন বলে। প্লাংকটন উৎপাদনের আধিক্যের ওপর মাছের উৎপাদন নির্ভর করে। ফাইটোপ্লাংকটনের আধিক্যের জন্য নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম প্রভৃতি পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। পানিতে এইসব উপাদান অনেক সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে না। এছাড়াও মাছ আহরণ, পানি পরিবর্তন এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক কারণে পুকুরে পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ কমে যায়। তাই পুকুরের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন জৈব ও অজৈব সার ব্যবহার করে
প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের যোগান দেওয়া হয়।

Tamanna
Tamanna
1 year ago
2.2k
উত্তরঃ

চিত্র-ক হলো গলদা চিংড়ি। ধানের সাথে চিত্র-ক অর্থাৎ গলদা চিংড়ি চাষের কৌশল নিচে দেওয়া হলো-
ধানক্ষেতে চিংড়ি চাষের ক্ষেত্রে যে জমিতে বছরে ৩-৪ মাস সময় এবং ১০-২০ সেমি গভীরতায় পানি আটকে রাখা যাবে এমন জমি নির্বাচন করতে হবে। জমির আইল শক্ত, মজবুত এবং উঁচু করে তৈরি করতে হবে। পানির গভীরতা সমান রাখার জন্য জমির সকল স্থানে চাষ দিয়ে সমতল রাখতে হবে। জমিতে ভালোভাবে চাষ দেয়ার পর প্রচলিত নিয়মে রাসায়নিক সার ও গোবর সার মিশিয়ে জমি তৈরি করতে হবে। জমির ঢাল অনুযায়ী ক্ষেতের ভিতরে আড়াআড়িভাবে কয়েকটি নালা খনন করতে হবে। প্রতিটি নালা ৫০-৬০ সেমি গভীর এবং ৬০-১০০সেমি প্রশস্ত হতে হবে। নালার মাথায় কিংবা সংযোগস্থানে নালার চেয়ে গভীর ও প্রশস্ত করে গর্ত খনন করতে হবে যার গভীরতা হবে ১ মিটার। এরপর ধানের চারা সারিবদ্ধভাবে রোপণ করতে হবে। ধানের চারা রোপণের ক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০-২৫ সেমি এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ১৫-২০ সেমি রাখতে হবে। এক্ষেত্রে ধানের চারা রোপণের ২০-২৫ দিন পর চিংড়ির পোনা ছাড়তে হয়। জৈষ্ঠ্য মাসে ধান রোপণের ১০-১৫ দিন পর সাধারণ নিয়মে গলদা চিংড়ির পোনা প্রতি হেক্টরে ৫ সেমি আকারে ১০-১৫ হাজার হারে মজুদ করা হয়।
উপরে উল্লিখিত পদ্ধতিতে ধানের সাথে গলদা চিংড়ির চাষ করা হয়।

Tamanna
Tamanna
1 year ago
741
উত্তরঃ

চিত্র-ক ও চিত্র-খ দ্বারা যথাক্রমে গলদা ও বাগদা চিংড়িকে বোঝানো হয়েছে।

গলদা ও বাগদা চিংড়ির বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্যগুলো হলো-

বৈশিষ্ট্য

গলদা চিংড়ি

বাগদা চিংড়ি 

মাথা ও ক্যারাপেস বড় এবং দেহের ওজনের প্রায় অর্ধেক ছোট এবং দেহের ওজনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। 
রোস্ট্রামলম্বা ও বাঁকানোখাটো ও সোজা।
রোস্ট্রামে কাঁটার সংখ্যাউপরিভাগে ১১-১৪টি এবং নিচের দিকে ৮- ১৪টি।উপরিভাগে ৭-৮টি এবং নিচের দিকে ২-৩টি।
অ্যানটেনিউলতিনটি ফ্লাজেলাযুক্ত।দুটি ফ্লাজেলাযুক্ত।
শিরোবক্ষঅন্যান্য অঙ্গ যেমন- উদর অংশ অপেক্ষা বড় ও উন্নত।অংশটি অপর অংশের তুলনায় স্বাভাবিক।
প্লুরাদ্বিতীয় উদর খন্ডকের প্লুরা প্রথম ও তৃতীয় খন্ডকের প্লুরাকে আবৃত রাখে।দ্বিতীয় উদর খন্ডকের প্লুরা কেবল প্রথম খন্ডকের প্লুরাকে আবৃত করে রাখে।
বক্ষোপাঙ্গপ্রথম দুটি উপাঙ্গ চিলেটে বা সাঁড়াশির ন্যায় অংশে রূপান্তরিত হয়।প্রথম তিন উপাঙ্গ চিলেটে বা সাঁড়াশির ন্যায় অংশে রূপান্তরিত হয়।
আবাসস্থলপ্রধানত স্বাদু পানি।লোনা পানি।
বর্ণহালকা সবুজ বাদামি।হালকা বাদামি।
Tamanna
Tamanna
1 year ago
633
উত্তরঃ

প্লাংকটন হলো পানিতে মুক্তভাবে ভাসমান আণুবীক্ষণিক জীব যা মাছ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।

Tamanna
Tamanna
1 year ago
626
উত্তরঃ

পুকুরে প্রয়োগকৃত বিভিন্ন সারের কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য চুন প্রয়োগ করা গুরুত্বপূর্ণ।

চুন মাটি ও পানির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। পানির পিএইচ মানের ভারসাম্য বজায় রাখে। পানিতে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বাড়ায়। পানির ঘোলাতু কমায় ও পানি পরিষ্কার রাখে। মাছের রোগজীবাণু ও পরজীবী ধ্বংস করে। এ সমস্ত কারণে পুকুরে চুন প্রয়োগ করতে হয়।

Tamanna
Tamanna
1 year ago
2k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews