ইবাদত দুই প্রকার- হাক্কুল্লাহ ও হাক্কুল ইবাদ।
আল্লাহর ইবাদতের জন্য মানবজাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। এজন্য আল্লাহ মানুষের প্রতি বিশেষ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহর নির্দেশ পালনের মাধ্যমে মানুষ এ পৃথিবীতে সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল হিসেবে গড়ে ওঠবে। তাছাড়া মানুষ সব কাজের জবাবদিহি করবে আল্লাহর কাছে। এসব উদ্দেশ্যেই আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করেছেন।
নাসিরের ইবাদতগুলো হাক্কুল্লাহ বা আল্লাহর অধিকার সম্পৃক্ত ইবাদত। ইবাদত প্রধানত দুই প্রকার। যথা- আল্লাহর হক ও বান্দার হক। আল্লাহর প্রতি যে হক আছে যেটি পালন করাকে হাক্কুল্লাহ বলে। যেমন- ইমান, সালাত, সাওম ইত্যাদি। যে ইবাদতগুলো নাসিরের ইবাদতের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে নাসির ইসলামের মৌলিক ইবাদতসমূহ যেমন- ইমান, সালাত, সিয়াম, হজ ইত্যাদি ঠিকমতো আদায় করেন। যা হাক্কুল্লাহকে বোঝায়। আল্লাহ তায়ালার ইবাদতের মধ্যে এমন কিছু কাজ রয়েছে যেগুলো প্রত্যক্ষভাবে তাঁর সাথে সম্পৃক্ত। এগুলোকে হাক্কুল্লাহ বলে। কোনো মাধ্যম বা মধ্যস্থতা ছাড়া এ কাজগুলো করা সম্ভব হয়। এজন্য আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে জবাবদিহি করতে হয় না, এগুলো আদায় না করলে কোনো মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় না। বরং ব্যক্তি নিজে আল্লাহর হুকুম পালন না করার জন্য দায়ী থাকে। এ কথা দৃঢ়তার সাথে সর্বাবস্থায় বিশ্বাস করতে হবে যে, আল্লাহই আমাদের একমাত্র উপাসনা পাওয়ার যোগ্য এবং তাঁর কোন অংশীদার নেই। ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর কাছে সঁপে দিয়ে তাঁর আদেশ-নিষেধ যথাযথভাবে পালন করাই হাক্কুল্লাহ বা আল্লাহ হক।
সুতরাং উপরের আলোচনার মাধ্যমে বলা যায়, নাসিরের ইবাদতগুলো হলো হাক্কুল্লাহ বা আল্লাহর অধিকার।
আসিরের ইবাদতে হাক্কুল ইবাদ বা বান্দার হক আদায় করার দিকটি ফুটে ওঠেছে। মানুষের গোটা ব্যবহারিক জীবনের সমস্ত দিক ও বিভাগকে আল্লাহর মর্জি মোতাবেক পরিচালনা করে সব ক্ষেত্রে তার হুকুম আহকাম মেনে চলাকে ইবাদত বলে।
এক্ষেত্রে সরাসরি আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত ইবাদত হাক্কুল্লাহ যেমন রয়েছে তেমনি আল্লাহর বান্দাদের সে অধিকারগুলো পরিপূর্ণভাবে আদায় করাও ইবাদত- যেটি হাক্কুল ইবাদ নামে পরিচিত। একজনের দুঃখে অন্যজন সাড়া দেওয়া, সাহায্যপ্রার্থীকে সাধ্যমতো দান করা, রোগীর সেবা করা, কাউকে কষ্ট না দেওয়া। যা আসিরের ইবাদতে লক্ষণীয়।
উদ্দীপকের আসির হাক্কুল্লাহ পালনে উদাসীন হলেও হাক্কুল ইবাদ তিনি সঠিকভাবে আদায় করেন। তিনি অভাবীকে দান করেন, রোগীর সেবা করেন, কাউকে কষ্ট দেন না। যা হাক্কুল ইবাদকেই বোঝায়। বান্দার হক বলতে মা, বাবা, ভাই, বোন, আত্মীয়, বন্ধু, প্রতিবেশী, সহকর্মী, সমাজের ও দেশের অন্যান্য মানুষের প্রতি যে দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে তাকে বোঝায়। অন্যকে কষ্ট না দেওয়া, সাহায্যপ্রার্থীকে সাধ্যমত দান করা ও রোগীর সেবা করা ইত্যাদি বান্দার হকের অন্তর্ভুক্ত। এমনিভাবে আল্লাহর অন্যান্য মাখলুকের সেবা করার মাধ্যমে বান্দার হক পালন করতে হয়। আর. এগুলোকেই হাক্কুল ইবাদ বলা হয়।
উপরের আলোচনার মাধ্যমে বলা যায়, আসিরের ইবাদতে হাক্কুল ইবাদের পরিচয় ফুটে উঠেছে।
Related Question
View Allযেসব ইবাদতের ওপর ইসলামের মূল কাঠামো দাঁড়িয়ে রয়েছে তাই মৌলিক ইবাদত।
মহানবি (স) ইসলামের মৌলিক ইবাদত হিসেবে চার রকমের ইবাদতের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো মাবুদ নেই, মুহাম্মদ (স) তাঁর বান্দা ও রাসুল, সালাত কায়েম করা, জাকাত আদায় করা, হজ করা ও রমজানের রোজা পালন করা। এ পাঁচটি ইবাদতের মধ্যে প্রথমটি আকিদাগত বিষয়। বাকি চারটি হলো আনুষ্ঠানিক ইবাদত। আর মৌলিক ইবাদত বলতে সাধারণত এ চারটি ইবাদতকেই বোঝায়।
জনাব মিরাজের এরূপ অস্বীকৃতি ইসলামের দৃষ্টিতে কুফর। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম সাওম। প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ, স্থায়ী অধিবাসী বা মুকিম এবং সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিম নারী, পুরুষের ওপর রমজান মাসের রোজা রাখা ফরজ। জনাব মিরাজের মধ্যে এই ফরজ ইবাদতটি অস্বীকারের দৃষ্টান্ত লক্ষ করা যায়। জনাব মিরাজ নিজেকে মুসলমান বলে দাবি করেন। কিন্তু ক্ষুধা সহ্য করতে না পারার কারণে তিনি রোজা পালন করতে রাজি নন। অথচ শরিয়ত অনুমোদিত কোনো কারণ ছাড়া সাওম পালন না করা কবিরা গুনাহ। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন- হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর সাওম পালন ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর (আল বাকারা-১৮৩)।
কুরআনের এ আয়াতের আলোকে বোঝা যায়, এটি অবশ্যপালনীয়। শরিয়ত অনুমোদিত কোনো কারণে এটা পালন সম্ভব না হলেও পরে কাযা করতে হবে বা ফিদইয়া দিতে হবে। কেউ যদি ইসলামের এই ফরজ বিধানকে অস্বীকার করে তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে। জনাব মিরাজ ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত এবং বুনিয়াদি স্তম্ভ সাওম পালনে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাই তার মনোভাব কুফরির শামিল।
'আমি ক্ষুধা সহ্য করতে পারি না'- সাওম সম্পর্কে জনাব মিরাজের এরূপ মন্তব্য সম্পূর্ণরূপে শরিয়তসম্মত নয়। মানুষের অনন্ত ও স্থায়ী জীবন হলো পরকালীন জীবন। এই জীবনের সফলতাই প্রকৃত সফলতা। আর পরকালীন জীবনে সফলতার অন্যতম মাধ্যম হলো সাওম পালন করা। এ বিষয়টিই ইমাম সাহেবের মন্তব্যে পরিলক্ষিত হয়।
ইমাম সাহেব জনাব মিরাজের সাওম পালনে অস্বীকৃতির জবাবে বলেছেন, "হাশরের ময়দানে সাফল্য লাভ করতে হলে অন্যান্য মৌলিক ইবাদতের পাশাপাশি তোমাকে অবশ্যই সাওম পালন করতে হবে।” কথাটি অবশ্যই শরিয়তসম্মত এবং যৌক্তিক। এ পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবার পর সব মানুষ কিয়ামতের ময়দানে একত্রিত হবে। সূর্য অত্যন্ত নিকটবর্তী হওয়ায় এর প্রচণ্ড তাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কোনো ছায়া থাকবে না। এমতাবস্থায় সাওম পালনকারীরা পাবে আরশের ছায়া। সেখানে তারা অত্যন্ত নিরাপদে থেকে বিচারের অপেক্ষায় থাকবে আর বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা বিশেষ সুবিধা পাবে। কারণ সাওম সেদিন মহান আল্লাহর কাছে তাদের মুক্তির জন্য সুপারিশ করবে এবং আল্লাহ সেই সুপারিশ কবুল করবেন। অবশ্যই এজন্য সাওম পালনের পাশাপাশি অন্যান্য ফরজ ইবাদতগুলোও পালন করতে হবে। এ প্রসঙ্গে মহানবি (স) ইরশাদ করেন, সাওম ও কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। সাওম বলবে, হে প্রভু! আমি তাকে দিনের বেলায় পানাহার ও যৌন কামনা থেকে বিরত রেখেছি। কাজেই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। আর কুরআন বলবে, হে প্রভু! আমি তাকে রাতের বেলায় ঘুম থেকে বিরত রেখেছি। কাজেই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। তখন তাদের উভয়ের সুপারিশ কবুল করা হবে।
উপরের আলোচনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, ইসলামের দৃষ্টিতে জনাব মিরাজ সাহেবের এরূপ মন্তব্য যথার্থ নয়।
ইবাদত প্রধানত দুই প্রকার। যথা: হাক্কুল্লাহ এবং হাক্কুল ইবাদ।
হাক্কুল ইবাদ বলতে মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্যকে বোঝায়। মানুষ সামাজিক জীব। তাই সমাজবদ্ধ হয়েই তাদেরকে বসবাস করতে হয়। আমরা পিতা-মাতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া- প্রতিবেশীদের নিয়ে সামাজিকভাবে এক সাথে বসবাস করি। একজনের দুঃখে অন্যজন সাড়া দিই। আপদে-বিপদে একে অপরকে সাহায্য-সহযোগিতা করি। পরস্পরের প্রতি এ সহানুভূতি ও দায়িত্বই হাক্কুল ইবাদ তথা বান্দার হক বা অধিকার।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!