নিশানাথবাবুর শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে দৈত্য নিশানাথবাবুকে সাহায্য করতে নিজেই আসে।
আরব্য প্রচলিত গল্প অনুযায়ী আলাউদ্দিনের চেরাগ বা প্রদীপে ঘষা দিলে ভেতর থেকে একটা দৈত্য আসে। সে দৈত্য চেরাগের মালিকের অধীনে হয়ে তার ইচ্ছা পূরণ করে। 'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পে ভুলবশত প্রদীপ ঘষায় দৈত্য আসলেও নিশানাথবাবু তার কাছে দুর্লভ কিছু চায় না। নিশানাথবাবুর এই নির্লোভ মানসিকতা দেখে দৈত্য মুগ্ধ হয়। নিশানাথবাবুর পরিবারে কেউ না থাকায় তার নিজের কাজ নিজেকেই করতে হতো। একদিন রাতে নিশানাথবাবুর জ্বর আসলে তিনি পানির জন্য ছটফট করতে থাকেন কিন্তু বাতের ব্যথায় বিছানা থেকে উঠতে পারছিলেন না। নিশানাথবাবুর এরকম পিপাসার্ত করুণ অবস্থা দেখে চেরাগ না ঘষা ছাড়াই তাকে পানি খাওয়ানোর জন্য দৈত্য চলে আসে।
মুমূর্ষু নিশানাথবাবুর প্রতি সহমর্মিতার জন্য দৈত্যকে তিনি না ডাকলেও দৈত্য নিজ থেকে সেবা করতে আসে।
Related Question
View Allজনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ তার লেখনীর মাধ্যমে অসাধারণ কল্পকাহিনি আমাদের উপহার দেন। 'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পে তিনি দৈত্য চরিত্রের সাথে শিক্ষক নিশানাথবাবুর সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে নিশানাথবাবুর নির্লোভ মানসিকতা ফুটিয়ে তুলেছেন।
'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পের নিশানাথবাবু সমাজের নির্লোভ ও সৎ মানুষের প্রতিচ্ছবি। তিনি খুব সাধারণভাবে জীবন-যাপন করেন। আলাউদ্দিনের চেরাগ পেলেও তিনি তা অপব্যবহার বা নিজের বিলাসিতার জন্য ব্যবহার করেননি। দৈত্য তাকে বারবার বিভিন্নভাবে টাকা, সোনা, পরশপাথর ইত্যাদি দিয়ে সাহায্য করতে চাইলেও তিনি তা নেননি। বরং দৈত্য থেকে পাওয়া বিশ সের ওজনের সোনার বালতিটি স্কুলে দিয়ে দিয়েছেন।
নিশানাথবাবুর নীতিনিষ্ঠ আচরণ সমাজের সৎ মানুষদের প্রতিনিধিত্ব করে। যারা লোভ বা স্বার্থপরতার বশবর্তী হয়ে কেবল নিজের সুবিধা চায়না। সমাজের কথা, অন্যের কথা ভাবে। পরশপাথর ও সোনা পাওয়ার পরও তিনি লোভ না করে ফিরিয়ে দিয়েছেন। যা নির্লোভ ও মহত্ত্বের বড়ো দৃষ্টান্ত।
নিশানাথবাবুর এই গুণগুলোর মধ্যে দিয়ে হুমায়ূন আহমেদ তাকে সমাজের সৎ ও নির্লোভ আদর্শ মানুষ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!