পিনার কেন্দ্রে কানের বহিঃছিদ্র থেকে যে সরু নালিপথ কানের টিমপেনিক পর্দা পর্যন্ত বিস্তৃত, তাই হলো বহিঃঅডিটরি মিটাস।
অলফ্যাক্টরি স্নায়ু দেহের প্রান্তীয় অঙ্গাদি থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা বা অনুভূতি পরিবহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে নিয়ে যায় বলে একে সংবেদী স্নায়ু বলে। এরা ঘ্রাণের অনুভূতি নাকের মিউকাস পর্দার মাধ্যমে গ্রহণ করে অগ্রমস্তিষ্কের অলফ্যাক্টরি লোবে পৌঁছায়।
উদ্দীপকের A চিহ্নিত অংশটি হলো মধ্যমস্তিষ্ক। নিচে মধ্যমস্তিষ্কের
গঠন বর্ণনা করা হলো-
6 হাইপোথ্যালামাসের নিচে এবং সেরেবেলামের সম্মুখে অবস্থিত ছোট ও সঙ্কুচিত অংশটি মধ্যমিস্তষ্ক বা মেসেনসেফালন। এটি অঙ্কীয় দিকে। দুটি নলাকার ও পুরু স্নায়ুরজ্জু এবং পৃষ্ঠদিকে দুটি গোলাকার খন্ড নিয়ে গঠিত। প্রথম দুটি সেরেব্রাম পেডাঙ্কল এবং শেষের দুটি কর্পোরা কোয়াড্রিজেমিনা। প্রতিটি কর্পোরা কোয়াড্রিজেমিনা আড়াআড়িভাবে বিভক্ত হয়ে মোট চারটি খন্ড গঠন করে। মধ্যমদিকের অন্তর্ভাগের তরলপূর্ণ সরু নালি হচ্ছে সেরেব্রাল অ্যাকুইডাক্ট। এটি ৩য় ও ৪র্থ ভেন্ট্রিকলকে (মস্তিষ্কের গহ্বর) যুক্ত করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত A চিহ্নিত অংশটি হলো মানুষের মধ্যমস্তিষ্ক। এটি মানুষের শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মধ্যমস্তিষ্কের আয়তন অগ্রমস্তিষ্ক ও পশ্চাৎ মস্তিষ্কের চেয়ে কম। এটি অগ্র ও পশ্চাৎ মস্তিষ্কের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে। বিভিন্ন দর্শন ও শ্রবণে তথ্যের সমন্বয় ঘটাতে এবং প্রতিবেদন সৃষ্টি করতে মধ্যমস্তিষ্ক ভূমিকা রাখে। এছাড়া মধ্যমস্তিষ্ক দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং দেহের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে। এটি অগ্র ও পশ্চাৎ মস্তিষ্কের মধ্যে সংযোগ সৃষ্টি করায় অগ্রমস্তিষ্ক ও পশ্চাৎ মস্তিষ্কের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে সহায়তা করে। এছাড়া শ্রবণের ও দর্শনের তন্ত্রের সমন্বয় ঘটিয়ে চোখ ও কানের নির্দিষ্ট কার্যক্রম 'সম্পাদনে সহায়তা করে, এর ফলে দেহের ভারসাম্য রক্ষিত হয়।
সুতরাং বলতে পারি, উদ্দীপকের A চিহ্নিত অংশটি অর্থাৎ মধ্যমস্তিষ্ক মানুষের শারীবৃত্তীয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
Related Question
View Allদর্শনীয় বস্তু ও লেন্সের মধ্যকার দূরত্বের পরিবর্তন না করে যেকোনো দূরত্বে অবস্থিত বস্তুকে সমান স্পষ্ট দেখার জন্য চোখে যে বিশেষ ধরনের পরিবর্তন ঘটে তাই উপযোজন।
অগ্রমস্তিষ্কে অবস্থিত মানবদেহের সকল গ্রন্থি নিয়ন্ত্রণকারী একটি ক্ষুদ্র গ্রন্থি হলো পিটুইটারি গ্রন্থি। এই গ্রন্থি কর্তৃক নিঃসৃত হরমোনের সংখ্যা অনেক। এসব হরমোন দেহের অন্যান্য অনেক হরমোন নিঃস্রাবী গ্রন্থির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এজন্য পিটুইটারিকে প্রভুগ্রন্থি বলে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' অংশটি মানব অন্তঃকর্ণের ইউট্রিকুলাস। নিচে ইউট্রিকুলাসের গঠন বর্ণনা করা হলো-
ইউট্রিকুলাসের সাথে দুটি উল্লম্ব ও একটি আনুভূমিকভাবে অবস্থিত মোট তিনটি অর্ধবৃত্তাকার নালি থাকে। নালিগুলো পরস্পর সমকোণে অবস্থিত। প্রত্যেকটি নালির এক প্রান্ত স্ফীত হয়ে অ্যাম্পুলা গঠন করে যার মধ্যে সংবেদী কোষ ও রোম থাকে। রোমগুলো চুনময় ওটোলিথ দানা সম্বলিত জেলির মতো ক্যুপুলায় আবৃত। মানুষের অন্তঃকর্ণ অস্থিময় ল্যাবিরিন্থ -এ পরিবেষ্টিত যা পেরিলিম্ফপূর্ণ থাকে। আর এর অভ্যন্তরে থাকে এন্ডোলিম্ফ নামক তরল পদার্থ।
উদ্দীপকের চিত্রটি হলো মানব কর্ণ যা একই সাথে শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। নিচে শ্রবণে মানব কর্ণের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো-
বহিঃকর্ণ বা পিনায় সংগৃহীত শব্দ তরঙ্গ বহিঃঅডিটরি মিটাসে প্রবেশ করে টিমপেনিক পর্দাকে আঘাত করলে তা কেঁপে উঠে। এই কাঁপনে মধ্যকর্ণে অবস্থিত ম্যালিয়াস, ইনকাস ও স্টেপিস অস্থি তিনটি এমনভাবে আন্দোলিত হয় যার ফলে প্রথমে ফেনেস্ট্রা ওভালিসের পর্দা ও পরে অন্তঃকর্ণের ককলিয়ার, পেরিলিম্ফে কাঁপন সৃষ্টি হয়। পেরিলিম্ফে কাঁপন হলে ককলিয়ার অর্গান অব কর্টির সংবেদী রোম কোষগুলো উদ্দীপ্ত হয়ে স্নায়ু আবেগের সৃষ্টি করে। এ আবেগ অডিটরি স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কের শ্রবণকেন্দ্রে বাহিত হলে মানুষ শুনতে পায়। এরপর বাকি শব্দ তরঙ্গ ফেনেস্ট্রা রোটান্ডা পর্দার মাধ্যমে মধ্যকর্ণে চলে আসে এবং প্রশমিত হয়ে যায়। শব্দের বিভিন্ন মাত্রা গ্রহণ করার জন্য ককলিয়ার স্ক্যালা মিডিয়ায় বিশেষ বিশেষ স্থান রয়েছে। যেমন- শব্দের উচ্চমাত্রা গ্রহণ করে ফেনেস্ট্রা রোটান্ডা সংলগ্ন অংশ, মধ্যম মাত্রা গ্রহণ করে মাঝামাঝি অংশ এবং নিম্নমাত্রা গ্রহণ করে শীর্ষের কাছাকাছি অংশ।
এভাবেই মানব কর্ণের অন্তর্গঠনের বিভিন্ন অংশ পর্যায়ক্রমিকভাবে শ্রবণে ভূমিকা পালন করে।
অক্ষিগোলকের যে বিন্দুতে অ্যাক্সনগুলো মিলিত হয়ে অপটিক স্নায়ু গঠন করে, সেই আলোক অসংবেদী বিন্দুই হলো অন্ধবিন্দু।
দর্শনীয় বস্তু ও চোখের মধ্যবর্তী দূরত্ব অপরিবর্তিত রেখে বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থিত বস্তুকে স্পষ্টভাবে দেখার জন্য চোখে যে বিশেষ ধরনের পরিবর্তন হয় তাকে উপযোজন বলে। মানুষ দুচোখকে একই বস্তুতে কেন্দ্রীভূত করে, লেন্সের বক্রতার পরিবর্তন করে এবং পিউপিলের সংকোচন প্রসারণ ঘটিয়ে উপযোজন সম্পন্ন করে। চোখের আইরিশ, সিলিয়ারী পেশি, সাসপেনসরি লিগামেন্ট ও লেন্স সক্রিয়ভাবে উপযোজনে অংশগ্রহণ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
