লজ্জাবতী গাছের পাতা ছুঁলেই তা বন্ধ হয়ে যায়।
যারা নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না, খাদ্যের জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করে, তাদেরকে পরভোজী বলে! সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে নিজেদের খাদ্য নিজেরাই তৈরি করে। কিন্তু প্রাণীর এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা উদ্ভিদের তৈরিকৃত খাদ্য গ্রহণ করে জীবনধারণ করে। এ কারণে প্রাণীকে পরভোজী বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জীবজগতের পাঁচটি রাজ্যের জীবের একটি করে বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো-
মনেরা: এই রাজ্যের জীবেরা এককোষী এবং এদের. কোযে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না। উদাহরণ: রাইজোবিয়াম।
প্রোটিস্টা: এই রাজ্যের জীবেরা এককোষী, একক বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে। উদাহরণ: অ্যামিবা।'
ফানজাই: এদের দেহে ক্লোরোফিল নেই, তাই এরা পরভোজী।
উদাহরণ: ঈস্ট।
প্লান্টি: এরা নিজেরা নিজেদের খাদ্য তৈরি করতে পারে, তাই এরা স্বভোজী। উদাহরণ: ফার্ন।
অ্যানিমেলিয়া: এসব জীবের কোষে সেলুলোজ নির্মিত কোষপ্রাচীর থাকে না। উদাহরণ: পাখি।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জীবজগতের রাজ্যগুলোর মধ্যে অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের জীবগুলো সবচেয়ে উন্নত। নিচে তা যুক্তিসহকারে দেখানো হলো-
১. এরা বহুকোষী জীব।
২. প্রধানত যৌন জননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।
.৩. মস্তিষ্ক অতীব উন্নত। গুরু মস্তিষ্ক। বৃহৎ ও দ্বিখণ্ডিত।
৪. এদের স্তনগ্রন্থি থাকে। শিশুপ্রাণী মাতৃ স্তন্যদুগ্ধ পান করে পুষ্টি লাভ করে।
৫. এদের সারা শরীর বা দেহ লোম দ্বারা আচ্ছাদিত। দেহের কয়েকটি স্থানে লোম থাকে না।
৬. এদের দু'জোড়া উপাঙ্গ (এক জোড়া করে অগ্রবাহ্ ও পশ্চাদবাহ) থাকে।
৭. চক্ষু পল্লবের কিনারায় একসারি করে লোম থাকে।
৮. এদের হৃৎপিন্ড চার প্রকোষ্ঠযুক্ত, দুটি অলিন্দ এবং দুটি নিলয়।
৯. পরিণত লোহিত রক্ত কণিকা নিউক্লিয়াসবিহীন।
১০. চোয়ালে দাঁত থাকে।
উপরের বৈশিষ্ট্যের আলোকে বলতে পারি অ্যানিমেলিয়াই উন্নত শ্রেণির জীব।
ভীষণ বৈচিত্র্যময় এই পৃথিবী। আমরা আমাদের আশেপাশে একটু তাকালেই এই বৈচিত্র্যের দারুন সব উদাহরণ দেখতে পাই। এসব বস্তুর মধ্যে কারো জীবন আছে, আবার কারো জীবন নেই। চেয়ার, টেবিল, গাছপালা, দালান, গাড়ি, গ্লাস, কলম এসব হচ্ছে জড়বস্তুর নমুনা। আবার মানুষ, গরু, গাছ, মাছ, মশা, পিঁপড়া এসব হচ্ছে জীবের উদাহরণ। আবার এমন কিছু জীবও রয়েছে যাদের খালি চোখে দেখা যায় না। যেমন: ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা ইত্যাদি। ছোটো থেকে বড়ো, মাটি থেকে পানি, বাতাসে উপস্থিত নানা প্রকারের জীব নিয়েই আমাদের এই জীবজগৎ গঠিত হয়েছে। সেসব নিয়েই এই অধ্যায়ের আলোচনা।

এই অধ্যায় শেষে আমরা
• জীবের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
• প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যের আলোকে জীবজগতের শ্রেণিকরণ করতে পারব।
• সপুষ্পক ও অপুষ্পক উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
• মেরুদণ্ডী এবং অমেরুদণ্ডী প্রাণীর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
• চারপাশের জীবজগৎ সম্পর্কে সচেতন হব এবং মানবজীবনে এসব জীবের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সক্ষম হব।
• বিদ্যালয়ের চারপাশের পরিবেশে অবস্থিত জীবের শ্রেণিবিন্যাস করে পোস্টারে প্রদর্শন করতে পারব।
Related Question
View Allযেসব প্রাণীর মেরুদন্ড আছে, তাদেরকে মেরুদণ্ডী প্রাণী এবং যেসব প্রাণীর মেরুদন্ড নেই, তাদেরকে অমেরুদণ্ডী প্রাণী বলে।
কুনো ব্যাঙকে উভচর প্রাণী বলা হয়। কারণ এরা জীবনের কিছু সময় ডাঙায় ও কিছু সময় পানিতে বাস করে। পানি এবং ডাঙায় উভয় স্থানে বাস করে বলেই কুনো ব্যাঙকে উভচর প্রাণী বলা হয়।
উদ্দীপকের চিত্র A এর প্রাণীটি চিংড়ি এবং চিত্র B এর প্রাণীটি মাছ (ইলিশ)। নিচে A ও B অর্থাৎ চিংড়ি ও মাছের পার্থক্য উল্লেখ করা হলো-
A (চিংড়ি) | B (ইলিশ) |
১. মেরুদণ্ড নেই। | ১. মেরুদন্ড আছে। |
২. এদের চোখ পুঞ্জাক্ষী প্রকৃতির। | ২. চোখ সরল প্রকৃতির। |
৩. এর দেহে কঙ্কাল নেই। | ৩. এর দেহে কঙ্কাল রয়েছে। |
৪. এর লেজ নেই। | ৪. এর লেজ আছে। |
৫. এর লোম বা আঁইশ নেই। | ৫. এর আঁইশ আছে। |
৬. এর পা সন্ধিযুক্ত, খন্ড খন্ড। | ৬. এর পাখনা রয়েছে। |
চিত্রের B প্রাণীটি হলো মাছ। নিচে আমাদের জীবনে মাছের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হলো-
১. প্রাণিজ আমিষের শতকরা ৫৮ ভাগই আসে মাছ থেকে। যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।
২. মাছ এক ধরনের সহজপাচ্য ও সুস্বাদু খাবার, যা হজম করতে কোনো সমস্যা হয় না, ফলে আমরা সুস্থ থাকি।
৩. মাছের চামড়ায় ভিটামিন 'এ' ও 'ডি' রয়েছে। এসব পুষ্টি উপাদান আমাদের শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৪. দেশের চাহিদা মিটিয়ে মাছ বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
৫. আমাদের দেশের উপকূলবর্তী অধিকাংশ লোকই মাছ ধরে বিক্রি করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে।
৬. বেকারত্ব দূরীকরণে অনেকেই মাছ চাষ করছে। এতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে।
৭. বড় মাছের উচ্ছিষ্ট অংশ দ্বারা জৈব সার তৈরি করা হচ্ছে, যা আমাদের কৃষিক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়।
৮. মাছে আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও লৌহ বিদ্যমান।
৯. মাছের কাটা থেকে পোল্ট্রি শিল্পের খাবার তৈরি করা হয়।
১০. মাছের তেলে কোলেস্টেরল কম থাকে, যা মানুষের হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
সর্বোপরি বলা যায়, মাছ আমাদের জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
যেসব উদ্ভিদের ফুল হয় তাদেরকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে।
উদ্দীপকের 'ক' চিত্রের উদ্ভিদটি নারিকেল গাছ। নিচে উদ্ভিদটির অর্থাৎ নারিকেল গাছের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো-
১. এদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত।
২. পাতা সমান্তরাল শিরা বিন্যাসযুক্ত।
৩. ভূণে একটি বীজপত্র থাকে।
৪. নিষেকের পর ডিম্বক বীজে ও ডিম্বাশয় ফলে পরিণত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
