'খুদ্দকপাঠ' শব্দের অর্থ ক্ষুদ্র বা সংক্ষিপ্ত পাঠ।
মানুষ ও দেবতাদের মধ্যে কিসে মঙ্গল তা নিয়ে যখন তর্ক-বিতর্ক এবং কোনো সমাধান হচ্ছিল না। তখন তাবতিংস স্বর্গের দেবতারা একত্র হয়ে দেবরাজ ইন্দ্রের কাছে গেলেন। দেবরাজ সব শুনে কোনো সমাধান না দিয়ে একজন দেবপুত্রকে মর্ত্যলোকে ভগবান বুদ্ধের কাছে এর সমাধানের জন্য পাঠান। দেবতারা তাঁর কাছে কিসে মঙ্গল তা জানতে চাইলে ভগবান বুদ্ধ দেবতা ও মানুষের উপকারের জন্য এবং তর্ক-বিতর্ক সমাধানের জন্য মঙ্গল সূত্র দেশনা করেন।
অনুচ্ছেদ-১-এর সাথে দণ্ডবর্গের নিরপরাধ ব্যক্তি যেন বিনা দোষে শাস্তি না পায় সেদিকটি তুলে ধরা হয়েছে।
উদ্দীপকের রাজ মুৎসুদ্দির সুনামের সাথে চাকরি করেন। তিনি অফিসে কোনো অপকর্ম করেন না। কিন্তু তার সহকর্মীরা অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করত। কিন্তু যখন এসব অপকর্ম ধরা পড়ে তখন তার সহকর্মীরা সবাই প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে তার ওপর দোষ দেয়। ফলে তার শাস্তি হয়। দণ্ডবর্গের শিক্ষায় বলা 'হয়, শাস্তি প্রদানের সময় শাস্তির পরিমাণ বিবেচনা করতে হয়। অপরকে কষ্ট দিয়ে নিজে সুখী হওয়া যায় না। প্রচলিত আইনে অপরাধীর জন্য যে শাস্তির বিধান আছে তা প্রয়োগে কর্তৃপক্ষকে হতে হয় খুব সতর্ক। কারণ বলা আছে ভুল-বিচারে একাধিক দোষী ব্যক্তি ছাড়া পেয়ে থাকে; কিন্তু একজনও নিরপরাধ ব্যক্তি যেন বিনা দোষে শাস্তি না পায়।
অনুচ্ছেদ-২ এ বলা হয়েছে, যদি কেউ কারও প্রতি ক্ষুদ্ধ বা রুষ্ট হয় তাহলে তার প্রতিশোধ না নিয়ে বরং মৈত্রী ও শান্তির বাণী মনে করা এবং উচ্চারণ করা। তাহলে প্রতিহিংসাস্পৃহা থেমে যাবে। দণ্ডবর্গের প্রতিহিংসা ত্যাগ করে মৈত্রী প্রদর্শনের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। কারও প্রতি কটুকথা, ক্রোধপূর্ণ বাক্য বা প্রতিদণ্ড প্রদান করা হতে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। আরও বলা হয়, ক্ষমা মহত্ত্বের লক্ষণ। মৈত্রী অনুশীলনের মাধ্যমে শত্রুকেও বন্ধু করা সম্ভব। কারও প্রতি প্রতিহিংসাবশত দণ্ড বা শাস্তি প্রদান করা উচিত নয়। আত্মসংযম, সহনশীলতা, মৈত্রী ও ক্ষমাশীলতা অনুশীলন করা উচিত। তাই বলা যায়, অনুচ্ছেদ-২-এর সাথে দণ্ডবর্গের সাদৃশ্য রয়েছে।
Related Question
View Allত্রিপিটকের অন্তর্গত সূত্রপিটকে মূলত নীতিগাথাসমূহ সংরক্ষিত আছে।
ধর্মপদের অর্থ সঠিক পথ বা ধর্মের পথ। এ গ্রন্থের গাথাগুলো মানুষকে ধর্মের পথে বা সঠিক পথে পরিচালিত করে। তাই এ গ্রন্থের নাম ধর্মপদ।
'দণ্ড' অর্থ শান্তি। অন্যায় বা অপরাধ করলে শাস্তি দেওয়া হয়। ধর্মপদের দশম অধ্যায়ে 'দণ্ডবর্গ' বর্ণিত হয়েছে।
মাতা-পিতার সেবা করা, স্ত্রী ও পুত্রদের উপকার করা এবং নিষ্পাপ ব্যবসা-বাণিজ্যের দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করা উত্তম মঙ্গল।
'খুদ্দকপাঠ' শব্দের অর্থ হচ্ছে ক্ষুদ্র বা সংক্ষিপ্ত পাঠ। বুদ্ধের ধর্মোপদেশসমূহ ত্রিপিটকের বিভিন্ন গ্রন্থে সংরক্ষিত আছে। খুদ্ধকপাঠ হচ্ছে সেই সূত্রপিঠকের অন্তর্গত খুদ্দক নিকারের প্রথম গ্রন্থ। যেখানে বিভিন্ন মঙ্গলসূত্র পাওয়া যায়। এখানের মঙ্গলসূত্রগুলোতে শুভ-অশুভের জ্ঞান প্রদান করা হয়েছে।
ধর্মপদ হচ্ছে সূত্রপিঠকের অন্তর্গত খুদ্দক নিকারের দ্বিতীয় গ্রন্থ। ধর্মপদে বুদ্ধ ভাষিত বিভিন্ন গাথা পাওয়া যায়। ধর্মপদের অর্থ সঠিক পথ বা ধর্মের, পথ। এ গ্রন্থের গাথাগুলো মানুষকে ধর্মের পথে বা সঠিক পথে পরিচালিত করে। তাই এ গ্রন্থের নাম ধর্মপদ। এখানে ২৬টি অধ্যায়ে ৪২৩টি গাথা রয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
