জলবায়ু হলো কোনো স্থানের অনেক বছরের আবহাওয়ার একটি সামগ্রিক বা গড় ফল।
মেসোমণ্ডলের পরের স্তরটি হলো তাপমণ্ডল। এ স্তরটি প্রায় বায়ুশূন্য থাকে। এ স্তরে বায়ুর তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ে বলে একে তাপমণ্ডল বলে। এ স্তরে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে।
উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ সূর্যতাপের উপর তাপমাত্রার নির্ভরতার বিষয়টি বুঝানো হয়েছে। নিচে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো-
সূর্য থেকে আগত আলোকরশ্মির সাথে তাপও পৃথিবীতে এসে পৌছায়। সূর্যতাপ যখন পৃথিবীপৃষ্ঠে পড়ে তখন পৃথিবীপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয়। পৃথিবীপৃষ্ঠের সাথে মিশে থাকা বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তরও (ট্রপোস্ফিয়ার) এতে উত্তপ্ত হয়। ফলে দিনের বেলায় সাধারণত আমরা বেশি গরম অনুভব করি। রাতে যখন সূর্য অস্ত যায়, তখনো পৃথিবীপৃষ্ঠ ও বায়ুমন্ডলের নিচের স্তর গরম থাকে। কারণ দিনের বেলায় পৃথিবীপৃষ্ঠ যে তাপ পায় তা রাতের বেলায় সবটুকু চলে যেতে পারে না। পৃথিবীপৃষ্ঠ যে তাপ বিকিরণ করে তা বায়ুমণ্ডলের জলীয়বাষ্প, কার্বন ডাইঅক্সাইড ইত্যাদি সেই তাপ শোষণ করে ধরে রাখে। তাই রাতের বেলা আমরা গরম অনুভব করি। গ্রীষ্মকালে সূর্য আমাদের মাথার উপর থেকে খাড়াভাবে ও বেশি সময় ধরে কিরণ দেয়, তাই আমরা বেশি গরম অনুভব করি। পক্ষান্তরে, শীতকালে সূর্য অনেকটা দূর থেকে তির্যকভাবে এবং কম সময় ধরে কিরণ দেয়, তাই আমরা শীতকালে কম গরম অনুভব করি।
তাপমাত্রার পরিবর্তনের ফলে বায়ুচাপের পরিবর্তন হওয়ার কারণেই শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষায় তাপমাত্রার পার্থক্য হয়। নিচে তা
বিশ্লেষণ করা হলো-
বায়ুচাপের পার্থক্যের কারণে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয়। কোনো জায়গার তাপমাত্রা বেশি হলে সেখানকার বায়ু উত্তপ্ত হয়ে উপরের দিকে উঠে যায়। ফলে ঐ স্থানে বায়ু পাতলা বা ফাঁকা হয়ে যায়। অর্থাৎ বায়ুচাপ কমে যায়। এরকম অবস্থাকে বলে নিম্নচাপ। তখন আশেপাশে যেখানে বায়ুচাপ বেশি, সেখান থেকে বায়ু এসে ফাঁকা স্থান পূরণ করে। এভাবে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয়। যে স্থানে তাপমাত্রা কম সেখানে বায়ু ঘন থাকে। ফলে বায়ুচাপ বেশি থাকে। বায়ুচাপ বেশি থাকাকে উচ্চচাপ বলা হয়। আমাদের দেশে আমরা দেখি, শীতকালে বায়ু উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়। কিন্তু গ্রীষ্মকালে উল্টোটা দেখি। এর কারণ হলো শীতকালে সূর্য বাংলাদেশের দক্ষিণে খাড়াভাবে কিরণ দেয়। তাই সেখানে বায়ুচাপ কম থাকে। অন্যদিকে বাংলাদেশের উত্তরে বেশ শীত এবং বায়ুচাপ বেশি। তাই শীতকালে বাংলাদেশের উত্তর দিক থেকে বায়ু দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়। এ বায়ু স্থলভাগ থেকে আসে বলে এতে জলীয়বাষ্প কম থাকে। এজন্য শীতকালে বায়ু শুষ্ক থাকে এবং বৃষ্টি কম হয়। আবার গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে সূর্য বাংলাদেশের উপর খাড়াভাবে কিরণ দেয়। তাই বাংলাদেশে তখন বেশ গরম এবং বায়ুচাপ কম থাকে। বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে তখন কম গরম, তহিদায়াতশ ।
Related Question
View Allবৃষ্টির পানি চুইয়ে চুইয়ে মাটির নিচে গিয়ে সঞ্চিত হয়। মাটির নিচের এ সঞ্চিত পানিই ভূগর্ভস্থ পানি।
ট্রপোমণ্ডলের ঠিক ওপরেই শুরু হয়েছে স্ট্রাটোমণ্ডল। এ স্তর ট্রপোমণ্ডল থেকে শুরু হয়ে ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩৯ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এ স্তরে রয়েছে ওজোন নামের একটি গ্যাস যা সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে আমাদের রক্ষা করে। এ কারণেই স্ট্রাটোমণ্ডল জীবজগতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকে হচ্ছে উদ্ভিদ এবং Z হচ্ছে প্রাণী। উদ্ভিদ ও প্রাণী পরিবেশে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা করে।
জীব বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে শ্বসনের কাজ চালায়। শ্বসন প্রক্রিয়া শেষে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করে। আবার উদ্ভিদ বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে খাদ্য তৈরি করে এবং অক্সিজেন ছেড়ে দেয়। এভাবে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাসের পরিমাণে একটা ভারসাম্য বজায় থাকে। প্রথমত, উদ্ভিদ ও প্রাণী শ্বসন প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ ভেঙে শক্তি উৎপাদন
করার সময় বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড বায়ুমণ্ডলে ছেড়ে দেয়। দ্বিতীয়ত, উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহ পোড়ালে তাতে কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়ে বায়ুমণ্ডলে মেশে।
তৃতীয়ত, উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহ মাটিতে পচবার সময় ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক কার্বন ডাইঅক্সাইড বায়ুতে ছেড়ে দেয়।
তাহলে দেখা গেল, বায়ুমণ্ডল থেকে উদ্ভিদ কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে গ্লুকোজ তৈরির মাধ্যমে উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহে কার্বন সঞ্চয় করে। উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহের কার্বন তিনভাবে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড হিসেবে ফিরে আসে। এভাবে পরিবেশে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের ভারসাম্য বজায় থাকে।
উদ্দীপকের চিত্রে Z থেকে অর্থাৎ প্রাণী থেকে নির্গত গ্যাসটির নাম কার্বন ডাইঅক্সাইড। এ কার্বন ডাইঅক্সাইড আমাদের পরিবেশের বায়ুমণ্ডলে বিরাজ করে। আমাদের পরিবেশে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গেলে তা প্রাণিকুলের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ পরিণতি
নিয়ে আসবে। এগুলো হলো-
১. পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে।
২. তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পর্বতের চূড়া ও মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাবে।
৩. সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।
৪. তাপমাত্রা বেড়ে সমুদ্রের পানি প্রসারিত হবে।
৫. বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিশ্বের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবে।
৬. বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন খরা, বন্যা, অতিবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি দেখা দিবে।
আবহাওয়ার প্রধান উপাদানগুলো হচ্ছে বায়ুর তাপমাত্রা, চাপ, বায়ুর আর্দ্রতা বা বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ, মেঘ, কুয়াশা ও বৃষ্টিপাত।
মার্চ মাসে বাংলাদেশে সাধারণত শীতের শেষ ও ফাল্গুনের শুরুতে বসন্তকাল হয়। এ সময়ে সূর্যতাপ সহনশীলমাত্রায় থাকে। অর্থাৎ তাপমাত্রা খুব বেশিও থাকে না আবার কমও থাকে না। এ আরামদায়ক তাপমাত্রার কারণেই বাংলাদেশে মার্চ মাসে আবহাওয়া বেশ আরামদায়ক থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
