কোষস্থ পানি ও পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণকে একত্রে কোষ রস বা Cell Sap বলে।
যে পর্দা দিয়ে দ্রাবক ও দ্রাব উভয় প্রকার পদার্থের অণুগুলো চলাচল করতে পারে না, তাকে অভেদ্য পর্দা বলে। পলিথিনের মধ্য দিয়ে দ্রাবক ও দ্রাব পদার্থের কোনো অণুই চলাচল করতে পারে না। এজন্য পলিথিনকে অভেদ্য পর্দা বলা হয়।
উদ্দীপকের ২নং চিত্রের প্রক্রিয়াটি হচ্ছে প্রস্বেদন।'
উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর থেকে পাতার সাহায্যে বাষ্পাকারে পানির নির্গমন প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বলে। উদ্ভিদের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য পানি অপরিহার্য। তাই উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে মাটি থেকে প্রচুর পরিমাণ পানি শোষণ করে। শোষিত পানির কিছু অংশ উদ্ভিদ তার বিভিন্ন বিপাকীয় কাজে ব্যবহার করে এবং বাকি অংশ বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে পরিত্যাগ করে। চিত্রের উদ্ভিদটি যেহেতু পলিথিন দিয়ে মোড়ানো তাই বাষ্পাকারে নির্গত জলীয়বাষ্প বায়ুমন্ডলে মুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়নি। তাই জলীয়বাষ্প জমে পানিতে পরিণত হয়েছে এবং ফোঁটা ফোঁটা আকারে পলিথিনের ভিতর জমা হয়েছে।
উদ্দীপকের ১নং বক্সে রজনীগন্ধার সুবাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা হলো ব্যাপন এবং কিশমিশ ফুলে টসটসে হয়ে যাওয়ার ঘটনা হলো অভিস্রবণ।
ব্যাপন প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ বাতাসের কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে। শ্বসনের সময় উদ্ভিদকোষে ব্যাপন ক্রিয়ার দ্বারা অক্সিজেন প্রবেশ করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড বের হয়ে যায়। উদ্ভিদদেহে শোষিত পানি বাষ্পাকারে প্রস্বেদনের মাধ্যমে দেহ থেকে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বের হয়ে যায়।
অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ এককোষী মূলরোম দিয়ে মাটি থেকে পানি ও পানিতে দ্রবীভূত বিভিন্ন খনিজ লবণ শোষণ করতে পারে। অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কোষের রসস্ফীতির মাধ্যমে কান্ড ও পাতা সতেজ এবং খাড়া থাকে। ফুলের পাপড়ি খুলতে বা বন্ধ হতে পারে।
উপরোক্ত আলোচনার দ্বারা বোঝা যায়, ব্যাপন ও অভিস্রবণ প্রক্রিয়া উদ্ভিদের ক্ষেত্রে একই রকম ভূমিকা পালন করে না।
Related Question
View Allউদ্ভিদ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি ও খনিজ লবণ মূলরোম দ্বারা শোষণ করে।
ব্যাপন ও অভিস্রবণের মধ্যে দুটি পার্থক্য নিচের ছকে দেখানো হলো-
ব্যাপন | অভিস্রবণ |
১. ব্যাপন হচ্ছে কোনো পর্দার বাঁধা ছাড়া ঘন দ্রবণ থেকে দ্রব্যের অণুর পাতলা দ্রবণের দিকে ছড়িয়ে পড়া। | ১. অভিস্রবণ হচ্ছে অর্ধভেদ্য পর্দার ভেতর দিয়ে পাতলা দ্রবণ থেকে ঘন দ্রবণের দিকে দ্রাবকের চলন। |
২. ব্যাপন প্রক্রিয়ায় দ্রব ও দ্রাবক' উভয়ের ব্যাপন ঘটে। | ২. অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় শুধু দ্রাবকের ব্যাপন ঘটে। |
উদ্দীপকে যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেন্ট এর ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে তা হলো ব্যাপন। নিচে ব্যাপন প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করা হলো-
আমরা জানি সব পদার্থই কতকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণু দিয়ে তৈরি। এ অণুগুলো গতিশীল বা চলমান অবস্থায় থাকে। তরল ও গ্যাসের ক্ষেত্রে অণুগুলোর চলন দ্রুত হয় এবং বেশি ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের দিকে অণুগুলো ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে যতক্ষণ না অণুগুলোর ঘনত্ব দুই স্থানে সমান হয়। অণুগুলোর এরূপ চলন প্রক্রিয়াকে বলে ব্যাপন। ব্যাপনকারী পদার্থের অণু-পরমাণুগুলোর গতিশক্তির প্রভাবে এক প্রকার চাপ সৃষ্টি হয় যার প্রভাবে অধিক ঘনত্বযুক্ত স্থান থেকে কম ঘনতযুক্ত স্থানে অণুগুলো ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণেই সেন্ট এর ঘ্রাণ ব্যাপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রক্রিয়াটি হলো ব্যাপন। নিচে ব্যাপন প্রক্রিয়াটি গুরুত্ব আলোচনা করা হলো-
জীবের সব রকম শারীরবৃত্তীয় কাজে ব্যাপন প্রক্রিয়া ঘটে। উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের সময় বাতাসের কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে। এ অত্যাবশ্যক কাজ ব্যাপন দ্বারা সম্ভব হয়। জীবকোষে শ্বসনের সময় গ্লুকোজ জারণের জন্য অক্সিজেন ব্যবহৃত হয়। ব্যাপন ক্রিয়ার দ্বারা কোষে অক্সিজেন প্রবেশ করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড বের হয়ে যায়। উদ্ভিদ দেহে শোষিত পানি বাষ্পাকারে প্রস্বেদনের মাধ্যমে দেহ থেকে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বের করে দেয়।
উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর থেকে পাতার মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বলে।
উদ্ভিদ পরিবহনের পথ বলতে বুঝায় জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুকে।
কারণ জাইলেম ও ফ্লোয়েম নামক পরিবহন টিস্যুর মাধ্যমে উদ্ভিদে পরিবহন ঘটে। জাইলেম উদ্ভিদে ঊর্ধ্বমুখী পরিবহন পথ হিসেবে কাজ করে। জাইলেমের মাধ্যমে মূল দ্বারা শোষিত পানি পাতায় পৌছে। আর ফ্লোয়েম উদ্ভিদে নিম্নমুখী পরিবহন পথ হিসেবে কাজ করে। ফ্লোয়েমের মাধ্যমে পাতায় উৎপন্ন তরল খাদ্য সারা দেহে পরিবাহিত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
