ঈশ্বরদী ৪০ হলো আখের খরা সহিষ্ণু জাত।
গমের একটি খরা সহিষ্ণু জাত হলো বারি গম ২৪ (প্রদীপ)।
গমের এ জাতটি মধ্যম খাটো ও উচ্চ ফলনশীল। এর পাতা চওড়া, বাঁকানো ও হালকা সবুজ রঙের। জাতটির জীবনকাল ১০২-১১০ দিন এবং ফলন ৪.৩-৫.১ টন/হেক্টর। এরা জীবনকালের শেষের দিকে উচ্চ তাপমাত্রা ও খরা সহ্য করতে পারে।
উদ্দীপকে জলবায়ুজনিত পরিবর্তনের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের জলবায়ুজনিত যেসব পরিবর্তন দেখা দিয়েছে তা নিচে উপস্থাপন করা হলো-
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের ঋতুচক্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হতে দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিককালে জলবায়ুজনিত পরিবর্তনের ফলে ঘন ঘন ও অসময়ে প্রলয়ঙ্করী বন্যা লক্ষ করা যাচ্ছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদীভাঙ্গন সাম্প্রতিককালে অনেক বেড়ে গিয়েছে। জলবায়ুজনিত পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে ফলে অনিয়মিত ও অসময়ে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে একেবারেই কমে গিয়ে খারার সৃষ্টি করছে। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে লবণাক্ত পানি মিঠা পানির অঞ্চলে অনুপ্রবেশ করায় প্রয়োজনীয় পানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় জেলার প্রায় ১৩% কৃষিজমি ইতোমধ্যেই লবণাক্ততার শিকার হয়েছে। সমুদ্রের পানির উচ্চতা যদি ৪৫ সেন্টিমিটার বাড়ে, তাহলে আমাদের একমাত্র ম্যানগ্রোভ বনের ৭৫% পানির নিচে তলিয়ে যাবে। আর যদি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিটার বাড়ে তাহলে প্রায় পুরো সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মাছের বাসস্থান, খাদ্য সংগ্রহ ও জৈবিক নানা প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে, এমনকি মাছ মারাও যায়। জলবায়ুজনিত পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং সাইক্লোনের মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক আকার ধারণ করছে।
উল্লিখিত আলোচনার সাপেক্ষে বাংলাদেশের জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়।
উদ্দীপকে গ্রিন হাউস গ্যাসের প্রভাবে জলবায়ুজনিত পরিবর্তনের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।
সারা বিশ্বই আজ জলবায়ুজনিত পরিবর্তনজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। তার মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যদিও উন্নত রাষ্ট্রগুলো এ পরিবর্তনের জন্য দায়ী। তাই এ জলবায়ুজনিত পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সারা বিশ্বের এক হয়ে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে
নিম্নের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে হবে-
১. জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
২. জ্বালানি হিসেবে কাঠের বিকল্প ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
৩. নগরায়ণ ও গৃহায়নের ক্ষেত্রে কাঠের পাশাপাশি বিকল্প সরঞ্জাম ব্যবহারে আগ্রহ তৈরি করতে হবে।
৪. জ্বালানি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৫. বৃক্ষরোপণ অভিযান সফল করে তুলতে হবে এবং এটি যাতে আনুষ্ঠানিকতায় পর্যবেসিত না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
৬. উন্নয়নশীল দেশগুলোকে গ্রিন হাউস গ্যাস এর পরিমাণ সীমিত রেখে শিল্পোন্নতির জন্যে প্রযুক্তি স্থানান্তর করতে হবে।
৭. উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এ কাজে আর্থিক সহায়তা দানের জন্য উন্নত দেশগুলো যাতে এগিয়ে আসে সে ব্যবস্থা নিতে হবে।
৮. গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়া সংবলিত বিষয়াবলি পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করে ছাত্রসমাজকে শিক্ষাদানের মাধ্যমে সচেতন করতে হবে।
৯. রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাতে হবে।
১০.CFC-এর বিকল্প আবিষ্কার করা এবং এর ব্যবহার বাদ দিতে হবে।
১১. অল্প জ্বালানিতে চলতে সক্ষম এমন যানবাহন আবিষ্কার করতে হবে।
১২. উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণ করা অতীব জরুরি।
উল্লিখিত ব্যবস্থাদি গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে জলবায়ুজনিত পরিবর্তন রোধের ঘটনায় রক্ষা করা যাবে।
Related Question
View Allযেসব ফসল বিভিন্ন মাত্রার লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে সেসব ফসলকে লবণাক্ত সহিষ্ণু ফসল বলে।
তাপমাত্রা হলো ফসল উৎপাদনে প্রভাব বিস্তারকারী অন্যতম জলাবায়ুগত উপাদান।
বীজ বপনের পর মাটির তাপমাত্রা হ্রাস পেলে বীজের অঙ্কুরোদগম ভালো হয় না। ফসলের দৈহিক বৃদ্ধির সময় তাপমাত্রা হ্রাস পেলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এছাড়াও তাপমাত্রার হ্রাস-বৃদ্ধিতে ফসল বিভিন্ন পোকা ও রোগে আক্রান্ত হয়। এভাবে তাপমাত্রা কৃষি উৎপাদনকে ব্যাহত করে।
সুজিত বাবুর সিদ্ধান্ত ছিল বিনা ধান-৮ চাষ করা।
সুজিত বাবুর বাড়ি সমুদ্র উপকূলবর্তী সাতক্ষীরা জেলায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ততার মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং প্রবল জোয়ারের ফলে সৃষ্ট বন্যায় সরাসরি লবণাক্ত পানি দ্বারা জমি ডুবে যাওয়ায় মাটিতে লবণের পরিমাণ বেড়ে যায়। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির বাষ্পীভবনের মাধ্যমে মাটির নিচের লবণ উপরে উঠে আসে। উপকূলীয় এলাকায় ধান উৎপাদন করতে হলে উন্নত জাতের ধান চাষ করতে হবে যা লবণাক্ততা সহিষ্ণু। এসব জাতের ধান গাছ কোষের রসস্ফীতি বজায় রেখে মাটি থেকে প্রয়োজনীয় পানি শোষণের মাধ্যমে লবণাক্ত পরিবেশে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারে। এসব লবণাক্ততা সহনশীল জাতের মধ্যে একটি হলো বিনা ধান-৮। এ জাতটির জীবনকাল ১৩০-১৩৫ দিন। লবণাক্ত এলাকায় এ জাতটি চাষ
করে হেক্টর প্রতি প্রায় ৫ টন ধান উৎপাদন করা সম্ভব। কাজেই সুজিত বাবুর বিনা ধান-৮ চাষের সিদ্ধান্তটি সঠিক।
সাতক্ষীরা জেলা বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। এ অঞ্চলের মাটিতে লবণাক্ততার প্রভাব খুব বেশি।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও কম বৃষ্টিপাতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির ধারা আরও বাড়ছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে আরও অনেক এলাকায় লবণাক্ততা ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে।
গ্রামাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু ফসল সম্পর্কে ধারণা নেই বলে তারা স্থানীয় জাতের ফসল চাষ করে। ফলশ্রুতিতে তারা ভালো ফলন পেতে ব্যর্থ হয় এবং লাভবান হতে পারে না। লবণাক্ত সহিষ্ণু ফসলের চাষ উপকূলীয় এলাকায় জনপ্রিয় করতে সেসব ফসলের চাষ পদ্ধতি চিত্রের মাধ্যমে প্রদর্শনের কার্যক্রমটি বেশ
কার্যকরী। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুজিত বাবুর এলাকায় আমন মৌসুমে লবণাক্ত সহিষ্ণু বিআর ২৩, ব্রি ধান ৪০, ব্রি ধান ৪১, বোরো মৌসুমে ব্রি ধান ৪৭, বিনা ধান -৮ এবং বারি আলু-২২, বারি মিষ্টি আলু ৬ ও ৭, আখের জাত-ঈশ্বরদী ৩৯ ও ৪০ ইত্যাদি বিভিন্ন ফসলের চাষ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে। এতে এলাকাবাসী নিজে উৎসাহিত হয়ে এসব নতুন জাতের ফসল চাষ করে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এবং অন্যকেও উৎসাহিত করতে সক্ষম হবে।
তাই বলা যায়, সুজিত বাবুর এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম সঠিক ছিল।
কোনো স্থানের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, সূর্যকিরণ, বায়ুর চাপ, কুয়াশা প্রভৃতির দৈনিক সামগ্রিক অবস্থাকে আবহাওয়া বলে।
পরিবেশের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার একটি ক্ষতিকর দিক হলো খরা। শুষ্ক মৌসুমে একটানা ২০ দিন বা তার অধিক দিন কোনো বৃষ্টিপাত না হলে তাকে খরা বলে। এটি একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এতে উদ্ভিদ দেহে প্রয়োজনীয় পানির ঘাটতি দেখা যায়। ফলে শতকরা ১৫- ৯০ ভাগ ফলন ঘাটতি হয়ে থাকে। খরার ফলে মাাটির উর্বরতা কমে এবং পরিবেশ বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়ে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!