বাতাসের অক্সিজেনের উপস্থিতিতে কোনো উপাদানকে পুড়িয়ে তার অক্সাইডে পরিণত করাকে দহন বিক্রিয়া বলা হয়।
যেসব পদার্থ নিজেদের রং পরিবর্তনের মাধ্যমে কোনো একটি বস্তু এসিড না ক্ষারক বা কোনোটিই নয় তা নির্দেশ করে তাদেরকে নির্দেশক বলে। যেমন লিটমাস কাগজ, মিথাইল অরেঞ্জ, ফেনোফথ্যালিন, মিথাইল রেড ইত্যাদি নির্দেশক। একটি অজানা পদার্থ এসিড, ক্ষারক না নিরপেক্ষ তা এটি বুঝতে সাহায্য করে।
উদ্দীপকের যৌগটি H ও CI দ্বারা গঠিত হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI)। নিচে HCI এর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-
১. HCI নীল লিটমাস কাগজকে লাল করে।
২. এটি টক স্বাদ যুক্ত।
৩. এটি পানিতে হাইড্রোজেন আয়ন (H') তৈরি করে।
৪. এটি কার্বনেটের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাইঅক্সাইড তৈরি করে
৫. এটি খাবার সোডা এর সাথে বিক্রিয়া করে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ, পানি ও গ্যাস উৎপন্ন করে।
৬. এটি দস্তার সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাসের বুদবুদ উৎপন্ন করে।
৭. এটি ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে ধাতব ক্লোরাইড (লবণ) উৎপন্ন করে।
লবণ
উদ্দীপকের বিক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করে পাই-

বিক্রিয়াটি একটি প্রশমন বিক্রিয়া। কারণ আমরা জানি, যে বিক্রিয়ায় অম্ল ও ক্ষার পরস্পর বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে। উদ্দীপকের বিক্রিয়াটিতে হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI) (যা একটি অম্ল), ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড (MgO) (যা একটি ক্ষার) এর সাথে বিক্রিয়া করে ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড নামক লবণ ও পানি উৎপন্ন করেছে। সুতরাং, বিক্রিয়াটি একটি প্রশমন বিক্রিয়া।
আমাদের চারপাশে নানা রকমের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে যাচ্ছে। এই সমস্ত রাসায়নিক বিক্রিয়া কখনো শক্তি উৎপন্ন করে, কখনো ব্যবহার উপযোগী নতুন পদার্থ তৈরি করে আবার কখনো বা রোগ নিরাময়েও সাহায্য করে।
এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
• বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক বিক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব;
• রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকারের শক্তির রূপান্তর ব্যাখ্যা করতে পারব,
• শুষ্ক কোষের শক্তির রূপান্তর ব্যাখ্যা করতে পারব;
• তড়িৎ বিশ্লেষণ ব্যাখ্যা করতে পারব;
• পরীক্ষণ কাজে রাসায়নিক পদার্থ এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতির ব্যবহার সঠিকভাবে করতে পারব;
• আমাদের জীবনে রাসায়নিক বিক্রিয়ার অবদান উপলব্ধি করতে পারব।
Related Question
View Allঅণু গঠনকালে কোনো মৌলের একটি পরমাণু কয়টি হাইড্রোজেন পরমাণুর সাথে যুক্ত হয় তার সংখ্যাকে যোজনী বলে।
গ্যাসের চুলার পাইপ লাইন দিয়ে সরবরাহকৃত জ্বালানি গ্যাস হলো মিথেন । চুলা জ্বালালে মিথেন গ্যাস বাতাসের অক্সিজেন এর সাথে দহন বিক্রিয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড ও সামান্য পানি উৎপন্ন করে। এছাড়াও এই বিক্রিয়ায় প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন তাপের কারণে খাবার সিদ্ধ বা রান্না হয়। বিক্রিয়াটি হলো- তাপ
এ কারণে রান্নার জন্য গ্যাসের চুলা জ্বালাতে হয়।
উদ্দীপকের (i) নং বিক্রিয়াটি-
Zn + + Cu
জিঙ্ক কপার সালফেট জিঙ্ক সালফেট কপার
বিক্রিয়াটি একটি প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
জানা আছে, যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় একটি মৌল কোনো যৌগ থেকে অপর মৌলকে প্রতিস্থাপন করে নিজে ঐ স্থান দখল করে তাকে প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া বলে। (i) নং বিক্রিয়া হতে দেখা যায় যে, Zn (জিংক), (কপার সালফেট) এর Cu (কপার) কে প্রতিস্থাপিত করে , (জিংক সালফেট) লবণ ও Cu ধাতু তৈরি করে। অর্থাৎ প্রতিস্থাপন বিক্রিয়ার সংজ্ঞানুসারে, (i) নং বিক্রিয়াটি প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া।
উদ্দীপকের (ii) নং বিক্রিয়াটি হলো
এবং (iii) নং বিক্রিয়াটি হলো: এখানে (ii) নং বিক্রিয়া হলো সংযোজন বিক্রিয়া ও (iii) নং বিক্রিয়া হলো বিয়োজন বিক্রিয়া। অর্থাৎ বিক্রিয়া দুটি ভিন্নধর্মী। নিচে এদের ভিন্নধর্মিতা বিশ্লেষণ করা হলো- ii) নং বিক্রিয়ায় একাধিক মৌল K ও CI পরস্পরের সাথে সংযুক্ত হয়ে একটি মাত্র যৌগ KCI গঠন করে। অর্থাৎ এ বিক্রিয়ায় একাধিক বিক্রিয়ক থেকে একটি মাত্র উৎপাদ উৎপন্ন হয়। অপরদিকে, (iii) নং বিক্রিয়ায় একটি যৌগ ভেঙে দুটি ভিন্ন যৌগ ও HCI উৎপন্ন হয়েছে। অর্থাৎ এ বিক্রিয়ায় একটি মাত্র বিক্রিয়ক থেকে একাধিক উৎপাদ উৎপন্ন হয়েছে।
সুতরাং বলা যায়, (ii) ও (iii) নং বিক্রিয়ান্বয় পরস্পর ভিন্নধর্মী।
পানিতে ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডবা স্ল্যাকড লাইম এর সম্পৃক্ত দ্রবণকে লাইম ওয়াটার বলে।
এবং একে অপরের থেকে ভিন্নতর। কারণ হলো একটি যৌগ, যাকে কার্বন ডাইঅক্সাইড বলা হয়। হলো চার্জ নিরপেক্ষ।
কিন্তু হলো একটি যৌগমূলক বা পরমাণুগুচ্ছ যা।টি পরমাণুর ন্যায় আচরণ করে যাকে কার্বনেট মূলক বলা হয়। হলো ঋণাত্মক চার্জযুক্ত মূলক; যার যোজনী 2 ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
