ফুসফুসের চারদিকে একটি পাতলা, স্বচ্ছ, দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণ থাকে, এটিই গ্লুরা।
জীবের জন্য শ্বসনের প্রয়োজনীয়তা নিম্নরূপ-
১. জীবের দেহে শক্তি সরবরাহ করতে,
২. খাদ্য প্রস্তুত করতে,
৩. বায়ুমন্ডলে O₂ ও CO₂ এর ভারসাম্য রক্ষায়,
৪. গ্যাসের বিনিময়ে,
৫. পানির সাম্যতা বজায় রাখতে,
৬. শক্তি উৎপাদনে।
উদ্দীপকের 'ক' প্রক্রিয়াটি হলো শ্বসন। নিচে শ্বসন প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করা হলো-
শ্বসন একটি অন্তঃকোষীয় বিপাক প্রক্রিয়া এবং উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহের বিভিন্ন সজীব কোষে শ্বসন প্রক্রিয়াটি মূলত একই। কিন্তু বিভিন্ন জীবের অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গমন পদ্ধতিটি ভিন্নরূপ। উদ্ভিদদেহে শ্বসনকালে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের বিনিময়। অপেক্ষাকৃত সরল। উদ্ভিদের কোনো নির্দিষ্ট শ্বসন অঙ্গ নাই। পাতার পত্ররন্ধ্র, কান্ডের লেন্টিসেল এবং অন্তঃকোষ স্থানের মাধ্যমে বায়ু দেহ অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। পানিতে নিমজ্জিত উদ্ভিদগুলো সমগ্র দেহতলের সাহায্যে অক্সিজেন শোষণ করে। প্রাণিদেহেও শ্বসন বিভিন্ন অঙ্গের মাধ্যমে নানাভাবে সম্পন্ন হয়। নিম্ন শ্রেণির প্রাণীতে প্রধানত ত্বক ও ট্রাকিয়ার মাধ্যমে শ্বসন হয়। উন্নত প্রাণীদের শ্বসনে গ্যাসীয় বিনিময়ের জন্য বিশেষ ধরনের শ্বসন অঙ্গ আছে। যেমন- মাছ ও ব্যাঙাচি ফুলকার সাহায্যে এবং স্থলজ মেরুদণ্ডীরা ফুসফুসের সাহায্যে শ্বসন সম্পন্ন করে।
উদ্দীপকে 'ক' প্রক্রিয়াটি শ্বসন প্রক্রিয়া। শ্বসন প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট তন্ত্রের নাম শ্বসন তন্ত্র। শ্বসনতন্ত্রের একটি রোগের নাম হলো যক্ষ্মা। নিচে যক্ষ্মা রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার আলোচনা করা হলো-
কারণ: এক ধরনের ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমণে এ রোগ হয়।
যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ:
১. দেহের ওজন কমতে থাকে ও শরীর দুর্বল হতে থাকে।
২. খুসখুসে কাশি হয়, কখনও কখনও কাশির সাথে রক্ত পড়ে।
৩. বিকালের দিকে অল্প জ্বর হয়, রাতে শরীরে ঘাম হয়।
৪. "বুক বা পিঠে ব্যথা হয়, মাঝে মাঝে পেটে অসুখ দেখা যায়।
যক্ষ্মা রোগের প্রতিকার:
রোগীকে পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এ চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি। সম্পূর্ণ ভালো না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো অবস্থাতেই চিকিৎসা বন্ধ করা যাবে না।
প্রতিটি উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবন আছে। জীবদেহে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের জৈবনিক প্রক্রিয়ার জন্য শক্তি প্রয়োজন। জীব কোষের সাইটোপ্লাজমে সঞ্চিত স্টাচ, শর্করা, প্রোটিন ও ফ্যাটের অণুতে শক্তি সঞ্চিত থাকে। সকল জীবকোষের জৈবক্রিয়ার জন্য অক্সিজেন অপরিহার্য। প্রকৃতপক্ষে অক্সিজেন দ্বারা খাদ্যস্থ স্থৈতিক শক্তি যা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৌরশক্তি থেকে সঞ্চিত হয়, তাকে গতিশক্তি ও তাপশক্তিতে রূপান্তরিত করাই শ্বসনের মুখ্য উদ্দেশ্য। এই গতিশক্তি ও তাপশক্তির দ্বারা জীব খাদ্য গ্রহণ, চলন, রেচন, বৃদ্ধি, জনন প্রভৃতি শারীরবৃত্তীয় কাজ সম্পন্ন করে থাকে। শ্বসন এক প্রকার দহন প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন দ্বারা খাদ্য জারিত হয়ে শক্তি নির্গত হয়।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা
- জীবের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব।
- চিত্রের সাহায্যে প্রাণীর শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অংশসমূহের কাজ বর্ণনা করতে পারব।
- শ্বসনতন্ত্রের রোগের কারণ ও রোগের লক্ষণ বর্ণনা করতে পারব।
- শ্বসনতন্ত্রের রোগের প্রতিরোধ ও প্রতিকারের কৌশল ব্যাখ্যা করতে পারব।
- সালোকসংশ্লেষণ এবং শ্বসন প্রক্রিয়ার তুলনা করতে পারব।
- প্রাণীর শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অংশসমূহের চিত্র অঙ্কন করতে পারব।
Related Question
View Allপুরা হলো দুই ভাজবিশিষ্ট একটি ঝিল্লি বা পর্দা, যা ফুসফুসকে আবৃত করে রাখে।
নিউমোনিয়া একটি ফুসফুসের রোগ। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটি একটি মারাত্মক রোগ। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে রোগীর কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়। শ্বাস নেওয়ার সময় নাকের ছিদ্র বড় হয়। বেশি জ্বর হয়। কাশির সময় রোগী বুকে ব্যথা অনুভব করে। নিউমোনিয়া রোগে প্রতিবছর অনেক শিশু মারা যায়। তাই এটি একটি মারাত্মক রোগ।
উদ্দীপকের চিত্রে সংঘটিত প্রক্রিয়াটি হলো বহিঃশ্বসন প্রক্রিয়া।
বহিঃশ্বসন প্রক্রিয়ায় ফুসফুসের মধ্যে গ্যাসীয় আদান-প্রদান ঘটে। এ পর্যায়ে ফুসফুস ও রক্তজালিকা বা কৈশিক নালির মধ্যে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের বিনিময় ঘটে। বহিঃশ্বসন দুই পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। যথা-
১. প্রশ্বাস বা শ্বাস গ্রহণ: পরিবেশ থেকে আমরা যে অক্সিজেনযুক্ত বায়ু গ্রহণ করি একে শ্বাস গ্রহণ বা প্রশ্বাস বলে। প্রশ্বাসের সময় মধ্যচ্ছদা ও বক্ষপিঞ্জরাস্থির মাঝের পেশি সংকুচিত হয়।
২. নিঃশ্বাস: প্রশ্বাসের পর পরই নিঃশ্বাস পর্যায় শুরু হয়। এ পর্যায়ে মধ্যচ্ছদা ও পিঞ্জরাস্থির পেশিগুলো শিথিল ও প্রসারিত হয় বলে ফুসফুস আয়তনে ছোট ও সংকুচিত হয়। ফলে বায়ুথলির ভেতরের বায়ু, কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস ফুসফুস থেকে ব্রঙ্কাস, ট্রাকিয়ার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে নাসারন্ধ্র দিয়ে বাইরে নির্গত হয়।
উদ্দীপকের চিত্রের F উপাদানটি অর্থাৎ বাতাসে উপস্থিত ধুলাবালি E অংশে, অর্থাৎ ফুসফুসে প্রবেশের ফলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা যেমন- শ্বাসনালীর সংক্রমণে ব্রংকাইটিস হয়। বাতাসে উপস্থিত ধুলাবালি প্রশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করলে হাঁপানি হতে পারে এবং শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত সর্দি থেকে হাঁপানি হতে পারে। উক্ত সমস্যাগুলো প্রতিরোধের জন্য নিম্নোক্ত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করতে হবে-
১. আলো ও বিশুদ্ধ বাতাসপূর্ণ গৃহে বসবাস করতে হবে।
২. যেসব জিনিসের সংস্পর্শে আসলে বা খেলে শ্বাসকষ্ট বাড়ে তা থেকে বিরত থাকতে হবে। যেমন- পশমি কাপড়।
৩. ধোঁয়া, ধুলাবালি ইত্যাদি থেকে দূরে থাকতে হবে।
৪. ধূমপান পরিহার করতে হবে।
৫. বেশি করে পানি ও তরল পদার্থ পান করতে হবে।
৬. বাহিরে চলাফেরার সময় অবশ্যই মুখে রুমাল বা মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ খাদ্যবস্তু অক্সিজেনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিতে জারিত হয়ে খাদ্যস্থ রাসায়নিক শক্তিকে গতিশক্তি ও তাপশক্তিতে রূপান্তরিত ও মুক্ত হয় এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি উৎপন্ন হয় তাই শ্বসন।
উদ্ভিদের কোনো নির্দিষ্ট শ্বসন অঙ্গ নেই। পাতার পত্ররন্ধ্র, কান্ডের লেন্টিসেল এবং অন্তঃকোষের মাধ্যমে বায়ু দেহাভ্যন্তরে প্রবেশ করে। পত্ররন্দ্রের রক্ষীকোষগুলো পত্ররন্দ্রকে খোলা ও বন্ধ রাখতে সাহায্য করে। খোলা পত্ররন্দ্র দিয়ে বাতাস, O2 ও CO2 গ্যাস চলাচল করে। আর এ গ্যাস চলাচলের মাধ্যমেই পত্ররন্ধ্র শ্বসনে সহায়তা করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!