কিছু ক্ষতিকারক উপাদান প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ব্যবহারের ফলে আমাদের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এদেরকে দূষক বলা হয়।
মাটি দূষণের জন্য দায়ী বিভিন্ন কঠিন ও রাসায়নিক বর্জ্য। এর মধ্যে প্লাস্টিক উল্লেখযোগ্য। প্লাস্টিককে যেখানে সেখানে ফেলার কারণে পরিবেশ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাটিতে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক সহজে পচে মাটির সাথে মিশে যায় না। ফলে মাটি তার উর্বরতা হারায়। অতএব প্লাস্টিক মাটির জন্য ক্ষতিকর।
উদ্দীপকে বর্ণিত পরিবেশের ২নং উপাদানটি হলো পানি। পানি দু'ধরনের কারণে দূষিত হয়। যথা- ১. প্রাকৃতিক কারণ ও ২. মনুষ্য সৃষ্ট কারণ।
১ . প্রাকৃতিক কারণ: প্রাকৃতিক উপায়ে বিভিন্ন রাসায়নিক বা জৈবিক পদার্থ পানিতে মিশ্রিত হয়ে পানিকে দূষিত করতে পারে। যেমন-অতিরিক্ত মাত্রায় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন বা কার্বন ডাইঅক্সাইড পানির সাথে মিশ্রিত থাকলে পানি দূষিত হয়।
২. মনুষ্য সৃষ্ট কারণ: মনুষ্য সৃষ্ট বহুবিধ কারণে পানি দূষিত হতে পারে। যেমন- লবণাক্ত দূষক দ্বারা, জৈবিক বর্জ্য পদার্থ দ্বারা, শিল্পজাত দূষক পদার্থ দ্বারা, কৃষিজাত দূষক দ্বারা, কীটনাশক দ্রব্য দ্বারা ও তেজস্ক্রিয় পদার্থ দ্বারা পানি দূষিত হয়।
পরিবেশের উপাদানগুলোর দূষণ প্রতিরোধ সম্পর্কে আমার এলাকার সবাইকে সচেতন করার জন্য নিম্নবর্ণিত কাজগুলো করতে পারি-
১. লোকজনকে দূষণের কুফল সম্পর্কে ধারণা দিতে পারি।
২. শিল্প-কারখানা আবাসিক এলাকা থেকে দূরে স্থাপনের জন্য উৎসাহিত করতে পারি।
৩. কারখানায় উৎপন্ন বিষাক্ত গ্যাসকে পরিস্তুত করার পর যেন বায়ুতে ফেলে সে বিষয়ে সচেতন করতে পারি।
৪. যানবাহনে ভেজাল মুক্ত, বিশুদ্ধ জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন করতে পারি।
৫. জমিতে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করতে পারি।
৬. যেসব মোটরযান কালো ধোঁয়া নির্গত করে সেগুলো যেন ব্যবহার বন্ধ করে সে বিষয়ে সচেতন করতে পারি।
৭. যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা না ফেলে গর্তে ফেলার ব্যাপারে সচেতন করতে পারি।
উপরোক্ত ব্যবস্থাগুলো অবলম্বন করলে পরিবেশের উপাদানগুলোর দূষণ প্রতিরোধ হবে বলে আমি মনে করি।
আমাদের চারপাশের সব জড় ও জীবকে নিয়ে গড়ে উঠেছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। তোমরা জানো বিভিন্ন জড় ও জীবের মধ্যে রয়েছে সম্পর্ক। আবার জীব ও পরিবেশের অন্যান্য অংশের মধ্যেও রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক, যার ফলে আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে বিচিত্র সব কর্মকাণ্ড। পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করে, যার জন্য পরিবেশে সে বিভিন্ন কর্মকান্ড চালায়। কোনো একটি পরিবেশে মানুষ যখন এ ধরনের কর্মকান্ড চালায়, তখন সেখানকার উপাদানসমূহের উপর বিভিন্ন প্রভাব পড়ে।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা
- পরিবেশ দূষণ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পরিবেশের উপাদানসমূহের দূষণের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পরিবেশের উপাদানের উপর দূষণের প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধের উপায় ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পরিবেশ সংরক্ষণে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টিতে উদ্যোগী হব।
- পরিবেশ দূষণ এবং এর প্রভাব পোস্টারে উপস্থাপন করতে পারব।
Related Question
View Allনাইট্রোজেন ও সালফারের অক্সাইডসহ বিভিন্ন অক্সাইড বৃষ্টির পানির সাথে মিশে পানিকে এসিডযুক্ত করে। এ এসিডযুক্ত পানি ভূপৃষ্ঠে বৃষ্টিরূপে পতিত হলে তাকে অম্ল বা এসিড বৃষ্টি বলে।
প্লাস্টিক দীর্ঘদিন যাবৎ মাটিতে পড়ে থাকলে তা পচে নাবা মাটিতে মিশে না। এতে মাটির উর্বরতা শক্তি কমে যায়। এছাড়া মাটির পানি ধারণ ক্ষমতাও কমে যায়। ফলে উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এসব কারণেই প্লাস্টিক মাটির জন্য ক্ষতিকর।
উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, নদীর তীরবর্তী কলকারখানার বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে। আবার নৌযান থেকে নদীতে তেল নির্গত হচ্ছে। এ দুটি ঘটনাই নদীর পানিকে দূষিত করছে। এ দূষণের ফলে নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে এবং পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এ দূষিত পানিতে জলজ প্রাণীগুলো বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারছে না। একই সাথে জলজ প্রাণীগুলো বেঁচে থাকার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ হারাচ্ছে। পানি দূষিত হয়ে বসবাসের অযোগ্য হওয়ায় পানিতে মাছ ও অন্যান্য জলজ পতঙ্গ মারা যায়।
উদ্দীপকের নদীটিতে কলকারখানার বর্জ্য এবং যানবাহন থেকে নির্গত তেল নদীর পানির সাথে মিশে নদীর পানিকে দূষিত করছে। এতে নদীর পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। নদীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে হবে-
১. আবর্জনা ও নর্দমার জঞ্জালসমূহ নদীতে গড়িয়ে পড়ার আগে শোধন করতে হবে।
২. জীবজন্তুর মৃতদেহ পানিতে পচে পানি যাতে দূষিত হতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
৩. শিল্প ও কল-কারখানার বর্জ্য পদার্থ পানিতে পড়ার আগেই তা দূষণমুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪. তেলবাহী জাহাজ ও ট্যাংকার হতে তেল যাতে না পড়ে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।
৫. প্লাস্টিক, পলিথিন ও রাবার নদীতে ফেলা যাবে না।
৬.কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
৭. নদীতে ফেলা ও জমা হওয়া আবর্জনা সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. নদীতে যেকোনো আবর্জনা ফেলা রোধ করতে কঠোর আইন প্রণয়ন করে তার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
৯. জনগণকে দূষণের ক্ষতিকারক দিক ও পরিবেশ সংরক্ষণের উপায় সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের, যেসব পরিবর্তন মানুষ ও উদ্ভিদসহ অন্যান্য প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর তাই দূষণ।
পানির সর্বোৎকৃষ্ট ব্যবহার হচ্ছে পানি আমরা পান করি। কিন্তু দূষিত পানি পান করলে আমাশয়, ডায়রিয়া, কলেরা, জন্ডিস, টাইফয়েড ইত্যাদি রোগ হয়। পানি দূষিত হলে সে পানিতে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও বাঁচতে পারে না। ফলে পানির পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এজন্য পানি দূষণ ক্ষতিকর।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!