চিনির সংকেত হলো
লোহা কিছুদিন বাইরে রেখে দিলে এর উপর লালচে বাদামি রঙের একটি আস্তরণ পড়ে, যার নাম মরিচা। লোহা জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিতে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়ার মাধ্যমে মরিচা সৃষ্টি করে, যা আয়রন অক্সাইড নামেও পরিচিত।
চিত্র-১ এর যৌগটি NaCl যৌগ, যা সোডিয়াম (Na) ও ক্লোরিন (CI) এর সমন্বয়ে গঠিত। একে রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করলে সোডিয়াম ও ক্লোরিন আলাদা হয়ে যায়। সোডিয়াম ক্লোরাইডকে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে প্রথমে লবণের বড় দানা থেকে ছোট বা ক্ষুদ্র দানা; প্রাপ্ত ছোট দানা আরও ক্ষুদ্র দানা এবং শেষ পর্যায়ে সূক্ষ্ম কণায় পরিণত হয়। নিচে যৌগটি বিশ্লেষণ করে চিত্রের মাধ্যমে দেখানো হলো-

উদ্দীপক মতে, চিত্র-১ এর যৌগটির দ্রবণ হচ্ছে খাবার লবণ তথা সোডিয়াম ক্লোরাইড ও পানির মিশ্রণ। অর্থাৎ, লবণ-পানির মিশ্রণ।
আবার, চিত্র-২ এর X পদার্থটি হলো বায়ু। কেননা ভেনচিত্রানুযায়ী, X-পদার্থটিতে N2, O2, CO2, Ar, CH, প্রভৃতি গ্যাস বিদ্যমান; যেখানে, নাইট্রোজেন গ্যাস (N2) সর্বাধিক পরিমাণে রয়েছে।
লবণ-পানির মিশ্রণ ও বায়ু উভয়ই মিশ্র পদার্থ কীনা তা নিম্নে যুক্তিসহকারে বিশ্লেষণ করা হলো-
যে সকল পদার্থে একাধিক যৌগিক ও মৌলিক পদার্থ বিদ্যমান তাদেরকে মিশ্র পদার্থ বলে।
চিত্র-১ এর ক্ষেত্রে, NaCl যৌগটির দ্রবণ হচ্ছে লবণ ও পানির মিশ্রণ; যেখানে একের অধিক পদার্থ বিদ্যমান। এ মিশ্রণে উপস্থিত লবণ ও পানি দুটিই যৌগিক পদার্থ। তাই লবণ-পানির মিশ্রণ একটি মিশ্র পদার্থ। আবার চিত্র-২ এর ক্ষেত্রে, X পদার্থটিতে N2, O2, CH4 সহ অন্যান্য পদার্থ থাকে, যেখানে একের অধিক মৌলিক ও যৌগিক উভয় ধরনের পদার্থ থাকে। তাই বায়ুও এমন একটি মিশ্র পদার্থ।
সুতরাং বলা যায়, চিত্র-১ ও চিত্র-২ এর উভয় পদার্থ মিশ্র পদার্থ।
আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বায়ু, পানি, লোহা, খাদ্যদ্রব্য, বইপুস্তক, চক ইত্যাদি নানা রকম জিনিস বা পদার্থ ব্যবহার করি। এদের মধ্যে কোনোটি মৌলিক পদার্থ, কোনোটি যৌগিক পদার্থ আবার কোনোটি বিভিন্ন পদার্থের মিশ্রণ। প্রতিটি পদার্থ কী দিয়ে তৈরি বা এদের গঠন কেমন ও কীভাবে তৈরি হয় তা কি তোমরা জান?

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা
- পদার্থের গঠন ব্যাখ্যা করতে পারব।
- অণু ও পরমাণুর মধ্যে পার্থক্য করতে পারব।
- মৌলিক, যৌগিক ও মিশ্র পদার্থের মধ্যে পার্থক্য করতে পারব।
- প্রতীক ও সংকেত থেকে নির্বাচিত মৌলিক ও যৌগিক পদার্থ চিনতে পারব।
- সার্বজনীন দ্রাবক হিসেবে পানির ব্যবহার প্রদর্শন করতে পারব।
Related Question
View Allকার্বন একটি মৌলিক পদার্থ। যেহেতু কার্বনকে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে কার্বন ব্যতীত অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না, তাই কার্বন একটি মৌলিক পদার্থ।
উদ্দীপকের ১ নং পদার্থটির রাসায়নিক নাম সোডিয়াম ক্লোরাইড। এটি খাবার লবণ নামেও পরিচিত। এর সংকেত: NaCl.
গঠন প্রক্রিয়া: সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) একটি যৌগিক পদার্থ। এটি দুটি মৌলিক পদার্থ সোডিয়াম (Na) ও ক্লোরিন (CI) দ্বারা গঠিত। সংকেত থেকে দেখা যায় যে, সোডিয়াম ক্লোরাইড যৌগটি একটি Na ও একটি CI পরমাণু দ্বারা গঠিত। অর্থাৎ NaCl কে রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করলে একটি সোডিয়াম ও একটি ক্লোরিন পরমাণু পাওয়া যাবে। আবার বলা যায় যে, একটি সোডিয়াম পরমাণু ও একটি ক্লোরিন পরমাণু মিলে একটি সোডিয়াম ক্লোরাইড অণু গঠন করে। অর্থাৎ সোডিয়াম ক্লোরাইডের একটি অণুতে মোট দুটি পরমাণু রয়েছে।

ছকের ২নং পদার্থটি (ফ্লোরিন) মৌলিক অণু। অর্থাৎ ফ্লোরিন মৌলিক পদার্থ। কারণ ফ্লোরিন কে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে ফ্লোরিন ব্যতীত অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না।
এক্ষেত্রে ২টি ফ্লোরিন পরমাণু মিলে ফ্লোরিন অণু গঠিত হয়।

আবার ছকের ৩নং পদার্থটি ১টি C (কার্বন) ও ২টি O (অক্সিজেন) পরমাণু দ্বারা গঠিত একটি যৌগিক পদার্থ (কার্বন ডাইঅক্সাইড)। উৎপন্ন এর ধর্ম C ও O পরমাণু থেকে ভিন্ন। আবার যৌগটিকে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে দুটি অক্সিজেন পরমাণু এবং একটি কার্বন পরমাণু পাওয়া যায়। জানা আছে, যে পদার্থকে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে একাধিক ভিন্নধর্মী মৌল পাওয়া যায় সেই পদার্থটি যৌগিক পদার্থ। তাই (কার্বন ডাইঅক্সাইড) একটি যৌগিক পদার্থ।
পরমাণু হলো ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন মৌলিক কণিকা দ্বারা গঠিত অতি ক্ষুদ্র কণা।
O এবং O2 এর মধ্যে পার্থক্য নিচে দেখানো হলো-
| O2 | |
| ১. O হচ্ছে অক্সিজেনের একটি পরমাণু। | ১. O2 হচ্ছে অক্সিজেনের একটি অণু, যা দুটি পরমাণুর সমন্বয়ে গঠিত। |
| ২. O সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে। | ২. O2 সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। |
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!