অনবায়নযোগ্য জ্বালানির দহনে কার্বন ডাইঅক্সাইড বাতাসে ছড়ায় ফলে পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। একে গ্লোবাল ওয়ার্মিং বলে।
নিচে কাজ ও ক্ষমতার মধ্যে পার্থক্য হলো-
| কাজ | ক্ষমতা |
| ১. কাজ হলো বল ও সরণের গুণফল। | ১. ক্ষমতা হলো প্রতি সেকেন্ডে সম্পন্ন কাজ অর্থাৎ কাজের হার। |
| ২. কাজের একক জুল। | ২. ক্ষমতার একক জুল/সেকেন্ড বা ওয়াট। |
উদ্দীপকে শক্তিগুলো নিম্নরূপে পরিবর্তিত হয়-
১. সৌরশক্তি বৃষ্টিপাত জলবিদ্যুৎ বিদ্যুৎ শক্তি সূর্যের উত্তাপে অর্থাৎ সৌরশক্তির প্রভাবে নদী, সমুদ্র ও জলাশয়ের পানি বাষ্পীভূত হয়ে মেঘে পরিণত হয়। মেঘ থেকে বৃষ্টিপাতের ফলে নদীনালাগুলো পানিতে ভরে যায়। নদীর পানির প্রবাহে বাঁধ সৃষ্টি করে, এর গতিশক্তিকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ঘুরানো হয়, টারবাইনটি একটি জেনারেটরের সাথে যুক্ত থাকে। এই জেনারেটরে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।
২. সৌরশক্তি জীবাশ্ম জ্বালানি তাপ শক্তি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ সূর্যের আলোকশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিরূপে জমা রাখে। প্রাণিকুল খাদ্য হিসেবে উদ্ভিদ গ্রহণের ফলে শক্তিগুলো প্রাণিদেহেও সঞ্চিত হয়। উদ্ভিদ ও প্রাণী দেহাবশেষের ফলে ভূ-অভ্যন্তরে চাপা পড়ে সৌরশক্তির প্রভাবে এগুলো ক্রমে ক্রমে কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি জীবাশ্ম জ্বালানিতে রূপান্তরিত হয়। জীবাশ্ম জ্বালানিগুলো থেকে দহন শক্তির ফলে যে তাপ শক্তি পাই তা দিয়ে বিভিন্ন কাজকর্ম করে থাকি।
উদ্দীপকে (i) নং বিক্রিয়াটিতে সৌরশক্তির প্রভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া দেখানো হয়েছে।
(ii) সূর্যের তাপের প্রভাবে বিভিন্ন জলাশয়ের পানি বাষ্পাকারে উপরে উঠে যায় এবং ঘনীভূত হয়ে মেঘে পরিবর্তিত হয়। মেঘ থেকে বৃষ্টিপাতের ফলে নদীগুলো ভরে যায়। নদীর প্রবাহকে বাঁধ দিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়।
(iii) নং সমীকরণে দেখা যায় বিদ্যুৎ শক্তির তাপ ও আলোক শক্তিতে রূপান্তর। এক্ষেত্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বৈদ্যুতিক বাল্বের ভেতর দিয়ে প্রবাহকালে ফিলামেন্ট উত্তপ্ত হয়। একসময় আলো দেখা যায়। এভাবে বিদ্যুৎশক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোক শক্তিতে পরিণত হয়।
(iv) নং বিক্রিয়ায় দেখানো হয়েছে বিদ্যুৎ শক্তির তাপ ও বাসায় নিজ শক্তিতে রূপান্তর। এক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক ইস্ত্রি, হিটার ইত্যাদিতে বিদ্যুৎশক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। সণায়ক কোষে বিদ্যুৎ শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিরূপে মজুদ রাখা হয়।
উপরে উল্লিখিত আলোচনা থেকে দেখা যায়, সৌরশক্তির প্রভাবে পরোক্ষভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। এই বিদ্যুতই কখনো তাপশক্তি ও আলোক শক্তিরূপে পরিবর্তিত হয়। কখনো বা তাপ শক্তি ও রাসায়নিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। সৌরশক্তিই ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন শক্তিরূপে রূপান্তরিত হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, সকল শক্তির উৎস একই।
দৈনন্দিন জীবনে আমরা বিভিন্ন কাজের সাথে জড়িত। কাজের সাথে সম্পর্ক রয়েছে শক্তি ও ক্ষমতার। এছাড়া রয়েছে শক্তির বিভিন্ন রূপ এবং এদের এক রূপ থেকে অন্যরূপে রূপান্তরের প্রক্রিয়া। পাশাপাশি রয়েছে নবায়নযোগ্য ও অনবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার। এছাড়া শক্তির সংকট নিরসনে আমাদের শক্তির সংরক্ষণের পাশাপাশি বিকল্প শক্তির সন্ধান করতে হচ্ছে।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা
- শক্তি ও কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- শক্তির বিভিন্ন রূপ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- শক্তির রূপান্তরের পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করতে পারব।
- নবায়নযোগ্য শক্তির সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- অনবায়নযোগ্য শক্তির সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস ব্যাখ্যা করতে পারব।
- শক্তির সংরক্ষণশীলতা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- শক্তির সংকট নিরসনের উপায় ব্যাখ্যা করতে পারব।
- আমাদের জীবনে শক্তির প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করতে পারব।
- শক্তি ব্যবহারে নিজে সচেতন হব এবং অন্যদের সচেতন করব।
Related Question
View Allঅনবায়নযোগ্য শক্তি হলো সেসব শক্তি যা একবার ব্যবহার করা হলে, তা থেকে পুনরায় শক্তি উৎপন্ন করা যায় না। এটি মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জীবাশ্ম জ্বালানি। প্রাকৃতিক গ্যাসও এমন একটি প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জীবাশ্ম জ্বালানি, যা পুনরায় উৎপন্ন করা যায় না। প্রকৃতিতে এটি তৈরি হতে যত সময় লাগে তার চেয়ে কম সময়ে ব্যয়িত হয়। তাই প্রাকৃতিক গ্যাস অনবায়নযোগ্য শক্তি।
সামিহার দেখা কাপ্তাইয়ের পানিবিদ্যুৎ উৎপাদনে পানির বিভব শক্তি ব্যবহার করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে অবস্থিত কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি আটকিয়ে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি করা হয়। আমরা জানি, পানির তলের উচ্চতা বৃদ্ধি বা এর গভীরতা বৃদ্ধির ফলে এর মধ্যে অধিক বিভবশক্তি জমা হয়। পার্বত্য এলাকার পাহাড়ের উপত্যকায় নিচের প্রান্তে বাঁধ দেওয়ার ফলে, কর্ণফুলী নদীর পানির প্রবাহ বাঁধে বাধা পেয়ে জমা হতে থাকে, এতে বাঁধের পেছনে কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়, যেটিকে আমরা কাপ্তাই হ্রদ বলি। হ্রদ পানিতে পূর্ণ হয়ে গেলে, হ্রদ থেকে পানি একটি মোটা নলের ভেতর দিয়ে নিচে অবস্থিত একটি তড়িৎ উৎপাদন কেন্দ্রে প্রবাহিত করা হয়। পানি পতনের সময় এর বিভব শক্তি গতিশক্তিতে 'রূপান্তরিত হয়। এ গতিশক্তি একটি টার্বাইনকে ঘোরায়। টার্বাইন হলো ব্লেডযুক্ত একটি চাকা। টার্বাইনটি একটি তড়িৎ জেনারেটর এর সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে। এ জেনারেটরে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এটিই কাপ্তাইয়ের পানিবিদ্যুৎ উৎপাদনের কৌশল।
সামিহার গ্রামে উদ্দীপকে ব্যবহৃত শক্তিটি হচ্ছে সৌর শক্তি। নিচে সৌর শক্তির উপযোগিতা আলোচনা করা হলো-
সূর্য থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় তাকে বলা হয় সৌরশক্তি। আমরা জানি, সূর্য সকল শক্তির উৎস। পৃথিবীতে যত শক্তি আছে তার সবই কোনো না কোনোভাবে সূর্য থেকে আসা বা সূর্য কিরণ ব্যবহৃত হয়েই তৈরি হয়েছে। সৌরশক্তি একটি অফুরন্ত শক্তির উৎস। এটি কখনো নিঃশেষ হবে না। এ শক্তি পরিবেশ বান্ধব কারণ এটি বাতাসে CO2 ছড়ায় না। শীত প্রধান দেশে সৌরশক্তিকে ঘরবাড়ি গরম রাখার কাজে ব্যবহার করা হয়। শস্য, মাছ, সবজি শুকানোর কাজে সৌরশক্তি ব্যবহৃত হয়। সৌরশক্তি দ্বারা বয়লারে বাষ্প তৈরি করেও তার দ্বারা তড়িৎ উৎপাদনের জন্য টার্বাইন ঘুরানো হয়। আধুনিক কৌশল ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে সৌরকোষ। সৌরকোষের বৈশিষ্ট্য হলো এর উপর সূর্যের আলো পড়লে তা থেকে সরাসরি তড়িৎ পাওয়া যায়। এছাড়া সৌরকোষের রয়েছে নানা রকমের ব্যবহার। যেমন- কৃত্রিম উপগ্রহে তড়িৎশক্তি নিম্ন ভোল্টেজের হয় বলে এ শক্তি ব্যবহারে বিপদের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
শক্তি রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কারণ শক্তির সব রূপ আমরা সরাসরি ব্যবহার করতে পারি না। এক্ষেত্রে শক্তির রূপান্তর প্রয়োজন। যেমন- আমরা যে খাবার খেয়ে শক্তি পাই তা এক ধরনের শক্তির রূপান্তর। শক্তির রূপান্তর না ঘটলে খাবার খেয়েও আমাদের কোনো উপকার হতো না। অনুরূপভাবে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রত্যেকটি কাজেই কোনো না কোনোভাবে শক্তির রূপান্তর ঘটে। যেমন- গাড়িতে চলাফেরা, কাপড় ইস্ত্রি করা, টেলিফোনে কথা বলা, সাইকেল চালানো প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে শক্তির রূপান্তর। এ কারণেই শক্তির রূপান্তর অত্যন্ত জরুরি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!