উদ্দীপকের চিত্র Z এর গঠন বর্ণনা করতে হলে প্রথমে চিত্রটি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যেহেতু উদ্দীপকের চিত্র Z এখানে উপলব্ধ নেই, একটি সাধারণ জৈবিক কাঠামোর গঠন বর্ণনা করার পদ্ধতি নিচে আলোচনা করা হলো, যা এসএসসি জীববিজ্ঞান স্তরের জন্য প্রযোজ্য:
১. পরিচিতি (Introduction): প্রথমে চিত্র Z যে কাঠামোকে প্রতিনিধিত্ব করে তার একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দিতে হবে। এটি কোষ (cell), টিস্যু (tissue), অঙ্গ (organ), বা কোনো বিশেষ কোষীয় অঙ্গাণু (organelle) হতে পারে। যেমন, যদি চিত্রটি একটি উদ্ভিদ কোষ হয়, তবে বলতে হবে এটি একটি উদ্ভিদ কোষের চিত্র।
২. অবস্থান ও কাজ (Location and Function): কাঠামোর প্রধান অবস্থান (যেমন, উদ্ভিদ বা প্রাণীর কোন অংশে এটি পাওয়া যায়) এবং এর সাধারণ কাজ (general function) সম্পর্কে উল্লেখ করতে হবে।
৩. বাহ্যিক গঠন (External Structure): কাঠামোর সামগ্রিক বাহ্যিক রূপ, আকার, আকৃতি এবং এটি দেখতে কেমন, তা বর্ণনা করতে হবে। কোনো বিশেষ বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য থাকলে তাও উল্লেখ করতে হবে।
৪. অভ্যন্তরীণ গঠন (Internal Structure): কাঠামোর বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ অংশ বা উপাদানগুলির বর্ণনা দিতে হবে। প্রতিটি অংশের নিজস্ব কাজ এবং চিত্র Z-এর সামগ্রিক কার্যকারিতায় তার ভূমিকা ব্যাখ্যা করা উচিত। যদি চিত্রটি একটি কোষ হয়, তবে কোষপ্রাচীর (cell wall), কোষঝিল্লি (cell membrane), সাইটোপ্লাজম (cytoplasm) এবং বিভিন্ন অঙ্গাণু (যেমন, নিউক্লিয়াস (nucleus), মাইটোকন্ড্রিয়া (mitochondria), ক্লোরোপ্লাস্ট (chloroplast), এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম (endoplasmic reticulum) ইত্যাদি) নিয়ে আলোচনা করতে হবে। যদি এটি কোনো অঙ্গ হয়, তবে তার বিভিন্ন টিস্যু স্তর এবং সেগুলির বিন্যাস বর্ণনা করতে হবে।
৫. গুরুত্ব (Significance): সবশেষে, চিত্র Z যে কাঠামোকে নির্দেশ করে তার জৈবিক গুরুত্ব (biological significance) বা জীবদেহে এর অপরিহার্য ভূমিকা সম্পর্কে সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ, যদি চিত্র Z একটি মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria) হয়, তবে:
মাইটোকন্ড্রিয়া হলো ইউক্যারিওটিক কোষের (eukaryotic cell) একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু, যা কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রে (powerhouse of the cell) হিসেবে পরিচিত। এর গঠনে দুটি ঝিল্লি (membrane) থাকে – একটি বাইরের ঝিল্লি (outer membrane) এবং একটি ভেতরের ঝিল্লি (inner membrane)। ভেতরের ঝিল্লিটি অসংখ্য ভাঁজ সৃষ্টি করে, যা ক্রিস্টি (cristae) নামে পরিচিত। এই ক্রিস্টিতে শ্বসনের (respiration) বিভিন্ন এনজাইম (enzyme) থাকে, যা ATP (অ্যাডেনোসিন ট্রাইফসফেট) উৎপাদনে সহায়তা করে। মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরে ম্যাট্রিক্স (matrix) নামক এক ধরনের তরল পদার্থ থাকে, যেখানে নিজস্ব DNA ও রাইবোসোম (ribosome) থাকে।
মানবদেহ সুরক্ষায় চিত্র X (টিকা বা ভ্যাকসিন) এবং চিত্র Y (মাস্ক) উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, তবে সার্বিক ও দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষায় চিত্র X অর্থাৎ টিকা বা ভ্যাকসিনের ভূমিকা অধিক।
চিত্র X (টিকা বা ভ্যাকসিন) এর ভূমিকা: টিকা হলো এক ধরণের জৈব প্রস্তুতপ্রণালী যা মানুষের দেহে রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বা অনাক্রম্যতা (Immunity) তৈরি করে। টিকার মাধ্যমে শরীরের ভেতরে সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি (Specific Antibody) তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতে ঐ রোগের জীবাণু প্রবেশ করলে দ্রুত সেটিকে ধ্বংস করে। এটি মূলত সক্রিয় অনাক্রম্যতা (Active Immunity) প্রদান করে, যা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে আজীবন সুরক্ষা দেয়। গুটিবসন্ত, পোলিও, হাম, যক্ষ্মা, টিটেনাস, ডিপথেরিয়া, কোভিড-১৯ এর মতো অনেক রোগ টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধ বা নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। এটি কেবল ব্যক্তিগত সুরক্ষা নয়, বরং গোষ্ঠীগত অনাক্রম্যতা (Herd Immunity) তৈরির মাধ্যমে পুরো জনসমাজকে রোগ থেকে রক্ষা করে।
চিত্র Y (মাস্ক) এর ভূমিকা: মাস্ক হলো একটি ভৌত প্রতিবন্ধক যা বাতাসে ভাসমান রোগজীবাণু (যেমন: ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশে বাধা দেয় এবং সংক্রমিত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে জীবাণু ছড়ানো রোধ করে। এটি মূলত নিষ্ক্রিয় বা বাহ্যিক সুরক্ষা (Passive or External Protection) প্রদান করে, যা তাৎক্ষণিক হলেও দীর্ঘস্থায়ী নয় এবং শরীরে কোনো অনাক্রম্যতা তৈরি করে না। মাস্ক পরাকালীন সময়ে সংক্রমণ ঝুঁকি কমায়, তবে একবার মাস্ক খুলে ফেললে বা জীবাণুর সংস্পর্শে এলে সংক্রমণের সম্ভাবনা থেকেই যায়।
যুক্তিসহ অধিক ভূমিকার আলোচনা: চিত্র X (টিকা) দেহের ভেতরে সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী সক্রিয় অনাক্রম্যতা তৈরি করে, যা রোগ প্রতিরোধে এবং রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর। এটি রোগের মূল কারণকে লক্ষ্য করে কাজ করে এবং ভবিষ্যতের সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরকে প্রস্তুত রাখে। অন্যদিকে, চিত্র Y (মাস্ক) শুধুমাত্র একটি বাহ্যিক ও অস্থায়ী সুরক্ষা দেয়। মাস্ক পরলে জীবাণুর প্রবেশ বা নির্গমন কমে, কিন্তু এটি দেহের ভেতরে কোনো স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে না। মহামারীর মতো পরিস্থিতিতে মাস্ক তাৎক্ষণিক সুরক্ষা দিলেও, দীর্ঘমেয়াদী রোগ নির্মূলের জন্য টিকা অপরিহার্য। তাই, মানবদেহকে রোগ থেকে সার্বিকভাবে রক্ষা করার জন্য টিকার ভূমিকা মাস্কের চেয়ে অনেক বেশি সুদূরপ্রসারী ও কার্যকর।
Related Question
View Allকোষের প্রোটোপ্লাজমের বাইরে দ্বিস্তর বিশিষ্ট যে পাতলা পর্দা থাকে তাই প্লাজমালেমা।
তিন ধরনের প্লাস্টিডের মধ্যে ক্লোরোপ্লাস্টের কারণে উদ্ভিদের পাতা সবুজ হয়। ক্রোমোপ্লাস্টে থাকে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি বর্ণকণিকা। এ সকল বর্ণকণিকার কোনটির কারণে পাতা, ফুল, ফল হলুদ, কমলা বা লাল হয়ে থাকে। যেহেতু প্লাস্টিডের কারণেই উদ্ভিদের এ ধরনের বর্ণ বিচিত্রতা দেখা যায়, তাই প্লাস্টিডকে বর্ণগঠনকারী অঙ্গ বলা হয়।
চিত্রের N চিহ্নিত অংশটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট। জীবজগতের জন্য এ কোষ অঙ্গাণুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ক্লোরোপ্লাস্টে থাকে ক্লোরোফিল। ক্লোরোফিলের উপস্থিতির কারণে সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরি করতে পারে। এ সময় খাদ্য তৈরির সাথে সাথে অক্সিজেন নির্গত হয়। এ তৈরিকৃত খাদ্যের ওপর সমগ্র জীবজগৎ নির্ভর করে। কারণ একমাত্র সবুজ উদ্ভিদই খাদ্য তৈরিতে সক্ষম। উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের সময় অক্সিজেন তৈরি করে যা প্রকৃতপক্ষে ক্লোরোফিল তথা ক্লোরোপ্লাস্টেরই অবদান। সালোকসংশ্লেষণের সময় উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে। ফলে পরিবেশে গ্যাসীয় ভারসাম্য রক্ষা পায়।
সুতরাং, উপরের সংক্ষিপ্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, জীবজগতের সকল জীবকে পরোক্ষভাবে বাঁচিয়ে রেখেছে চিত্রের N চিহ্নিত অঙ্গাণুটি অর্থাৎ ক্লোরোপ্লাস্ট। আর এ কারণেই জীবজগতের জন্য N চিহ্নিত অঙ্গাণুটি গুরুত্বপূর্ণ।
চিত্রের M চিহ্নিত অংশটি হলো সেন্ট্রিওল। এ কোষ অঙ্গাণুটি সাধারণত প্রাণিকোষে দেখা যায়, তবে নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে যেমন- ছত্রাক কোষে অনেক সময় দেখা যায়। জীবকোষে এ অঙ্গাণুটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
অঙ্গাণুটির অনুপস্থিতিতে জীবের কোষ বিভাজন বিঘ্নিত হবে। ফলে জীবদেহের গঠন ও বিকাশ সঠিকভাবে ঘটবে না। এতে জীবের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ গঠনে অস্বাভাবিকতা দেখা দিবে। অঙ্গাণুটির অনুপস্থিতিতে ক্রোমোজোমের গঠনও ঠিকভাবে হবে না। ক্রোমোজোম বংশগতির বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক। সুতরাং ক্রোমোজোমের গঠন ঠিকভাবে না হলে জীবের সঠিক বৈশিষ্ট্য এক বংশধর থেকে আরেক বংশধরে স্থানান্তরিত হবে না। ফলে নতুন প্রজন্মে বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা দেখা দিবে। নতুন বৈশিষ্ট্য অনেক সময় জীবদেহে জটিল রোগ সৃষ্টি করে থাকে। এ অঙ্গাণুটির উপস্থিতি জীবের প্রজননে বিশেষ সাহায্য করে। কেননা সেন্ট্রিওল শুক্রাণুর লেজ গঠনে বিশেষ অবদান রাখে। তাই এর অনুপস্থিতিতে শুক্রাণুর লেজ গঠিত না হলে যৌন জননের সময় শুক্রাণু সাঁতার কেটে ডিম্বাণুর নিকট পৌছাতে পারবে না, এতে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন ঘটবে না। ফলে জাইগোট তৈরি হবে না। এতে জীব তার সন্তান জন্ম দিতে পারবে না।
সুতরাং, চিত্রে M চিহ্নিত অংশটি অর্থাৎ সেন্ট্রিওলের অনুপস্থিতিতে জীবদেহে উল্লিখিত সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে।
ভূণীয় মেসোর্ডাম থেকে তৈরি সংকোচন-প্রসারণশীল বিশেষ ধরনের টিস্যুই পেশি টিস্যু।
দেহের অভ্যন্তরীণ কাঠামো গঠনকারী টিস্যুকে বলা হয় স্কেলিটাল টিস্যু। স্কেলিটাল টিস্যু বিভিন্ন ধরনের অস্থি তৈরির মাধ্যমে দেহের কাঠামো গঠন ও দেহের বিভিন্ন 'গুরুত্বপূর্ণ অংশকে রক্ষা করে থাকে। যেমন- মস্তিষ্ককে রক্ষা করে করোটিকা। স্কেলিটাল টিস্যু করোটিকার অস্থি গঠন ও মস্তিষ্কের চারিদিকে সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত থেকে মস্তিষ্ককে রক্ষা করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!