কোনো বস্তুতে আলো পড়ে যদি তা বাধা পেয়ে ফিরে আসে, তাহলে তাকে আলোর প্রতিফলন বলে।
জানা আছে, কোনো বস্তু থেকে আলো এসে যখন স্বাভাবিক চোখে পড়ে, তখনই বস্তুটি দেখা যায়। বইয়ের পৃষ্ঠায় কালো লেখাগুলো কোনো উৎস থেকে আসা আলো বেশি শোষণ করে। কিন্তু সাদা পৃষ্ঠা থেকে প্রতিফলিত আলো আমাদের চোখ গ্রহণ করে। ফলে কাগজে ছাপা কালো অক্ষরগুলো আমরা দেখতে পাই।
উদ্দীপকের ১নং চিত্র হতে পাই,
বের করতে হবে প্রতিফলন কোণ
এক্ষেত্রে, দর্পণে আপতিত রশ্মি AO এবং প্রতিফলিত রশ্মি OB ON
অভিলম্ব। তাহলে
এখন
বা,
বা,
সুতরাং, ∠BON এর নির্ণেয় মান ।
উদ্দীপকের ২নং ও ৩নং চিত্রের প্রতিফলন পৃষ্ঠে যথাক্রমে নিয়মিত ও বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন ঘটেছে।
এখানে, ২নং চিত্রের প্রতিফলন পৃষ্ঠের ক্ষেত্রে, আলো এসে যে কোণে পড়ে, ঠিক সে কোণেই ফিরে যায়। এক্ষেত্রে আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণ সমান হয়। আপতিত আলোক রশ্মিগুলো পরস্পর সমান্তরাল এবং প্রতিফলিত আলোকরশ্মিগুলো পরস্পর সমান্তরাল হয়। প্রতিফলন তলটি মসৃণ হয়। উদাহরণস্বরূপ টর্চ লাইট থেকে মসৃণ তল তথা আয়নায় আলোকরশ্মির নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে।
অপরদিকে, ৩নং চিত্রের প্রতিফলন পৃষ্ঠের ক্ষেত্রে, আপতিত আলোকরশ্মিগুলো পরস্পর সমান্তরাল কিন্তু প্রতিফলিত আলোকরশ্মিগুলো পরস্পর সমান্তরাল নয়। প্রতিফলন তল অমসৃণ হলে বিক্ষিপ্ত বা অনিয়মিত প্রতিফলন ঘটে। যেমন- টর্চ লাইট থেকে অমসৃণ তলে আপতিত সমান্তরাল আলোকরশ্মি প্রতিফলনের পর সমান্তরাল থাকে না ফলে বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন ঘটে। এতে আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণ অসমান হয়।
আলো ছাড়া আমরা দেখতে পাই না। আলো না থাকলে গাছপালা জন্মাত না। প্রাণীরা খাবার পেত না। আমাদের খাদ্য ও বস্ত্র যেসব জীব থেকে আসে তা জন্মাত না। আলো ছাড়া তাই জীবন কল্পনা করা কঠিন। আলো এক প্রকার শক্তি। আলোর কাজ করার সামর্থ্য আছে, অর্থাৎ আলোর আছে শক্তি। কাজ করার সামর্থ্যকে শক্তি বলা হয়। আলো অত্যন্ত দ্রুত চলে, সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার। এই দ্রুতিতে তুমি চলতে পারলে এক সেকেন্ডে তুমি পৃথিবীর চারদিকে সাত বারেরও বেশি ঘুরে আসতে পারতে। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে, কোনো কিছুই আলোর চেয়ে বেশি বেগে চলতে পারে না। আমরা যেখান থেকেই আলো পাই না কেন, সকল আলোর উৎস হলো সূর্য।

এই অধ্যায় শেষে আমরা
• আলোর সঞ্চালন ব্যাখ্যা করতে পারব।
• বস্তু দৃষ্টিগোচর হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে পারব।
• আলোর প্রতিফলন ও শোষণ ব্যাখ্যা করতে পারব।
• মসৃণ ও অমসৃণ তলে আলোর প্রতিফলন ব্যাখ্যা করতে পারব।
• দর্পণে প্রতিবিম্ব সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা করতে পারব।
• আমাদের চারপাশে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনায় আলোর প্রতিফলনের ব্যাখ্যা করতে পারব।
Related Question
View Allকোনো বস্তুতে আলো পড়ে যদি তা বাধা পেয়ে ফিরে আসে, তা হলে তাকে আলোর প্রতিফলন বলে।
কোনো বিন্দু থেকে নিঃসৃত আলোক রশ্মিগুচ্ছ প্রতিফলিত বা প্রতিসরিত হয়ে যদি দ্বিতীয় কোনো বিন্দুতে মিলিত হয় বা দ্বিতীয় কোনো বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয়, তাহলে ঐ বিন্দুকে প্রথম বিন্দুর প্রতিবিম্ব বলে।
আমরা জানি, কোনো বস্তু থেকে আলো এসে আমাদের চোখে পড়লে আমরা বস্তুটি দেখতে পাই। আবার কোনো বস্তু থেকে কোনো মসৃণ তলে আলো প্রতিফলিত হয়ে অন্য কোনো মসৃণ বা চকচকে পৃষ্ঠে পড়লে ঐ পৃষ্ঠে বস্তুটির প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার কারণে আমরা কোনো দর্পণের সামনে দাঁড়ালে আমাদের প্রতিবিম্ব দেখতে পাই। সমতল দর্পণ বা আয়নার ক্ষেত্রে অসদ ও সোজা প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। এক্ষেত্রে দর্পণের যত সামনে বস্তু, থাকে, দর্পণের ঠিক ততটুকু পেছনে বস্তুটির প্রতিবিম্ব দেখা যায় এবং বিম্বের আকার বস্তুর আকারের সমান হয়। এ কারণে সামিন বেসিনের আয়নার সামনের দিকে যেতে থাকলে, আয়নায় তার প্রতিচ্ছবিও সামনের দিকে আসে এবং দূরে যাওয়ার সাথে সাথে প্রতিচ্ছবি দূরে সরে যায়।
সামিনের বাসায় প্রস্তুতকৃত পেরিস্কোপ দিয়ে স্কুলের অনুরূপ বাইরের দৃশ্য দেখা সম্ভব হবে না।
উত্তরের সপক্ষে যুক্তি: পেরিস্কোপে সাধারণত দর্পণ দুটিকে দর্পণের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণ করে রাখা হয়। এতে আলো প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়লে আমরা বস্তুটি দেখি। পেরিস্কোপের দর্পণদ্বয় সমান্তরালে থাকে এবং ৯০° কোণে আলোর বিসরণ ঘটায়। সামিন যে পেরিস্কোপটি তৈরি করেছে তাতে সে দর্পণকে ৩০° কোণে রেখেছে এতে বস্তু থেকে আলো এসে ১ম দর্পণে পড়লে তাতে আপতন কোণ হবে ৬০°। এর ফলে আলো দ্বিতীয় দর্পণে পৌছাতে পারবে না। কারণ এক্ষেত্রে আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণ সমান হবে না। দ্বিতীয় দর্পণে আলো না পৌছালে তা আর আমাদের চোখে পৌঁছাবে না। তাই সামিনের তৈরি পেরিস্কোপ দিয়ে স্কুলের অনুরূপ বাইরের দৃশ্য দেখা যাবে না।
কোনো মসৃণ পৃষ্ঠে আলো পড়ে বাধা পেয়ে ফিরে আসাকে প্রতিফলন বলে।
আলোর প্রতিফলনের দুটি নিয়ম রয়েছে।'
১. আপতিত রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি এবং আপতন বিন্দুতে প্রতিফলকের উপর অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে।
২. আপতন কোণ সর্বদা প্রতিফলন কোণের সমান হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!