উদ্ভিদের কান্ডের নিচের পর্বের কাক্ষিক মুকুল থেকে যে শায়িত শাখা জন্মায় তাকে রানার বা ধাবক বলে।
গাজর হলো মূল। কারণ এর দেহে পর্ব, পাতা ও মুকুল নেই। মাটির উপরে যে পাতা দেখা যায় তা এই মূলের উপরে অবস্থিত ক্ষুদ্র কান্ডের গা থেকে বেরিয়েছে, দেহ থেকে নয়। এছাড়া এটি খাদ্য সঞ্চয় করে, ফলে প্রধান মূলটি মোটা ও রসালো হয়। তাই গাজর কাণ্ড নয় মূল।
উদ্দীপকের চিত্র হতে, A হচ্ছে রূপান্তরিত মূল (গাজর)। অপরদিকে B হচ্ছে টিউবার বা স্ফীত কন্দ (আলু), যা রূপান্তরিত কান্ড। নিচে রূপান্তরিত কান্ড ও মূলের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করা হলো-
রূপান্তরিত কাণ্ড মাটির নিচে খাদ্য সঞ্চয় করে সমান্তরাল ও খাড়াভাবে অবস্থান করে। অপরদিকে রূপান্তরিত মূল খাদ্য সঞ্চয় করে তাই এর প্রধান মূলটি মোটা ও রসালো হয়ে থাকে। রূপান্তরিত কাণ্ডের পর্ব হতে শঙ্কপত্র ও অস্থানিক মূল এবং শঙ্কপত্রের কক্ষে কাক্ষিক মুকুল উৎপন্ন হয়। অন্যদিকে রূপান্তরিত মূলের উপরের দিক মোটা এবং নিচের দিকে ক্রমশ সরু হয়ে যায়। রূপান্তরিত কাণ্ডের সুস্পষ্ট পর্ব ও পর্বমধ্য থাকে। অন্যদিকে রূপান্তরিত মূলের কোনো পর্ব ও পর্বমধ্য থাকে না।
উদ্দীপকের চিত্র হতে, B হচ্ছে ভূ-নিম্নস্থ রূপান্তরিত কাণ্ড, যা টিউবার, (আলু) এবং C হচ্ছে রাইজোম (আদা)। মানবজীবনে আলু ও আদার প্রয়োজনীয়তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
আলুর প্রয়োজনীয়তা: আলু একটি শর্করা জাতীয় খাদ্য। ভাতের পর আমরা আলুই বেশি খেয়ে থাকি। আলু শর্করার চাহিদাকে পূরণ করে থাকে। তাছাড়া আলু হতে তৈরি চিপস, ফ্রেঞ্চফ্রাই ইত্যাদি খাদ্য সবারই প্রিয়। আলু চাষ করে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।
আদার প্রয়োজনীয়তা: আদার ব্যবহৃত অংশ হলো রাইজোম। রান্নার কাজে মসলা হিসেবে আদা প্রচুর ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আচার, চাটনি প্রভৃতি মুখরোচক সামগ্রীতে আদা ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া অনেকে চায়ের সাথেও আদা খেয়ে থাকেন। আদার রস পাকস্থলীর বায়ুনাশক ও হজমকারক হিসেবে কার্যকর।
কখনো কখনো উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড ও পাতা এমনভাবে রূপান্তরিত হয় যে তাদের চেনাই যায় না। কেন এরা রূপান্তরিত হয় এবং কীভাবেই বা তাদের নিজ রূপে চেনা যাবে এ অধ্যায়ে তা আলোচনা করা হবে।

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
- রূপান্তরিত মূলের গঠন ব্যাখ্যা করতে পারব।
- রূপান্তরিত কান্ডের গঠন ব্যাখ্যা করতে পারব।
- রূপান্তরিত পত্রের গঠন ব্যাখ্যা করতে পারব।
- রূপান্তরিত মূল, কাণ্ড ও পাতার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- রূপান্তরিত মূল, কাণ্ড ও পাতার চিত্র অঙ্কন করতে পারব।
- আমাদের জীবনে রূপান্তরিত মূল, কাণ্ড ও পাতার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারব।
Related Question
View Allকোনো কোনো আরোহী উদ্ভিদের কাক্ষিক মুকুল শাখায় পরিণত না হয়ে প্রচুর খাদ্য সঞ্চয় করে গোলাকার মাংসপিন্ডের আকার ধারণ করে, একে বুলবিল বলে।
পাথরকুচি পাতা এক ধরনের রূপান্তরিত পাতা। পাতার মাধ্যমে এরা প্রজনন করে থাকে। পাথরকুচি উদ্ভিদে পাতার কিনারা থেকে কুঁড়ি গজায়। ধীরে ধীরে এসব কুঁড়ি থেকে নিচের দিকে গুচ্ছমূলও গজায় এবং কোনো এক সময় গুচ্ছমূল মুক্ত হয়ে স্বাধীন উদ্ভিদের জন্ম দেয়।
উদ্দীপকের চিত্র X হলো ভূনিম্নস্থ পরিবর্তিত কাণ্ড আদা। আদার কান্ড রাইজোম জাতীয়। নিচে আদার ব্যবহারিক দিক ব্যাখ্যা করা হলো-
আদা একটি উদ্ভিদ মূল যা মানুষের রান্নার মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি তরকারির স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ায়। আদা খাদ্যশিল্পে পানীয় তৈরিতে, আচার, ঔষধ ও সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। মুখের রুচি বাড়াতে ও বদহজম রোধে আদা শুকিয়ে চিবিয়ে খাওয়া হয়। ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগ, যেমন- সর্দি-কাশি, গলাব্যথা, স্বরভঙ্গ, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস প্রভৃতি নিরাময়ে রং চায়ের সাথে আবার মিশ্রণ খুবই উপকারী, শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতেও আদার রস বেশ কার্যকরী। এছাড়া হৃৎপিন্ড ও মস্তিষ্কের উদ্দীপনা বাড়াতেও আদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
সুতরাং আমাদের প্রাত্যহিক জীবন-যাপনে আদার ব্যবহারিক দিক বা গুরুত্ব উল্লেখযোগ্য।
উদ্দীপকের চিত্র Y হলো গোল আলু এবং চিত্র Z হলো মিষ্টি আলু। নিচে এদের বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো-
১. গোল আলু ভূ-নিম্নস্থ রূপান্তরিত কাণ্ড। অপরদিকে মিষ্টি আলু রূপান্তরিত অস্থানিক মূল।
২. গোল আলু খাদ্য সঞ্চয়ের জন্য স্ফীত হয়ে গোলাকার রূপ ধারণ করে। অন্যদিকে মিষ্টি আলু খাদ্য সঞ্চয় করার ফলে অনিয়মিতভাবে স্ফীত হয়ে অনির্দিষ্ট আকার ধারণ করে।
৩. গোল আলু স্ফীতকন্দের উদাহরণ। পক্ষান্তরে মিষ্টি আলু কন্দাল মূলের উদাহরণ।
৪. গোল আলু থেকে মূল উৎপন্ন হয় না। কিন্তু মিষ্টি আলুর কন্দাল অস্থানিক মূল মাটির কাছাকাছি কাণ্ডের পর্ব হতে উৎপন্ন হয়।
৫. অনুকূল ঋতুতে গোল আলুর চোখ হতে কাক্ষিক মুকুল বৃদ্ধি পেয়ে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি করে। অন্যদিকে মিষ্টি আলুর অস্থানিক কন্দাল মূল প্রজননে অংশগ্রহণ করে পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ সৃষ্টি করে।
কোনো কোনো জলজ উদ্ভিদের পর্বমধ্যগুলো ছোট ও মোটা হওয়ার জন্য কাণ্ডকে খর্বাকৃতি দেখায়, এগুলোই অফসেট।
কলসি উদ্ভিদ এক ধরনের লতানো গাছ ও ঝাঁঝি নামক জলজ উদ্ভিদের পাতা রূপান্তরিত হয়ে কলসি বা থলের ন্যায় রূপ ধারণ করে। এর মধ্যে পোকামাকড় ঢুকলে কলসির ঢাকনাটি বন্ধ হয়ে যায়, পরে গাছ তার দেহ থেকে রস শুষে নেয়। এ কারণেই কলসি উদ্ভিদকে পতঙ্গ ফাঁদ বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!