যেসব কোষের নিউক্লিয়াস কোনো আবরণী দ্বারা আবদ্ধ নয় সেগুলোকে আদি কোষ বলে। যেমন- ব্যাকটেরিয়া।
প্রোটোপ্লাজম ও সাইটোপ্লাজমের মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
প্রোটোপ্লাজম | সাইটোপ্লাজম |
১. কোষ প্রাচীরের অভ্যন্তরে পাতলা পর্দাবেষ্টিত জেলীর ন্যায় থকথকে আধা তরল বস্তুটি হলো প্রোটোপ্লাজম। | ১. প্রোটোপ্লাজম থেকে নিউক্লিয়াসকে বাদ দিলে যে অর্ধতরল অংশ থাকে তাই সাইটোপ্লাজম। |
২. প্রোটোপ্লাজমের একটি অংশ হলো সাইটোপ্লাজম। | ২. সাইটোপ্লাজম প্রোটোপ্লাজমের মধ্যে অবস্থিত। |
উদ্দীপকের 'ক' চিত্রের বস্তুটি হলো মাইটোকন্ড্রিয়া। মাইটোকন্ড্রিয়া জীবদেহের আবশ্যকীয় একটি অঙ্গাণু। এখানে শ্বসনের সকল কাজ হয়ে থাকে। আর এ শ্বসনের মাধ্যমেই জীবদেহে শক্তি উৎপন্ন হয়। এ কারণে একে কোষের শক্তি উৎপাদনের কেন্দ্র বলা হয়। কোষের শক্তি উৎপাদনের প্রায় সকল বিক্রিয়াই মাইটোকন্ড্রিয়ায় ঘটে থাকে। তাই কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া না থাকলে কোনো শক্তি উৎপাদিত হতো না ফলে জীবের জৈবিক কাজে ব্যাঘাত ঘটত এবং কোষ মারা যেত। এর ফলে একসময় জীবদেহের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেত।
উদ্দীপকের 'গ' চিত্রের বস্তুটি হলো নিউক্লিয়াস এবং 'খ' চিত্রের বস্তুটি হলো প্লাস্টিড। নিউক্লিয়াস হলো কোষের প্রাণকেন্দ্র, যা কোষের সকল শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের প্রধান বৈশিষ্ট্য। পাতা, ফুল বা ফলের যে বিচিত্র রং আমরা দেখি তা এই প্লাস্টিডের কারণেই হয়। সবুজ প্লাস্টিড প্রধানত খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে। অন্যান্য রঙের প্লাস্টিডগুলো উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গকে রঙিন করে আকর্ষণীয় করে তোলে। বর্ণহীন প্লাস্টিড খাদ্য সঞ্চয় করে। উদ্ভিদ কোষে প্লাস্টিডের এ কার্যাবলিগুলো বন্ধ হয়ে যাবে যদি না কোষে নিউক্লিয়াস না থাকে। অর্থাৎ নিউক্লিয়াসের সচলতা ছাড়া প্লাস্টিড অকার্যকর হবে। সুতরাং বলা যায়, নিউক্লিয়াসের সচলতার উপর প্লাস্টিডের নির্ভরশীলতা আছে।
আমাদের চারপাশে দৃশ্যমান সকল জীব থেকে শুরু করে খালি চোখে দেখতে না পাওয়া অণুজীব সকলেই কোষ দিয়ে গঠিত। কোষ জীবদেহের গাঠনিক একক এবং কোষের অভ্যন্তরেই জীবের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত জৈবরাসায়নিক ক্রিয়াকলাপ সংঘটিত হয়। এই অধ্যায়ে আমরা জীবের কোষ নিয়ে প্রাথমিক ধারণা লাভ করার চেষ্টা করব।

এই অধ্যায় শেষে আমরা
• কোষ ব্যাখ্যা করতে পারব।
• উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষের পার্থক্যকারী প্রধান বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
• জীবদেহে কোষের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারব।
• জীবদেহের নানা কার্যক্রমে কোষের অবদান উপলব্ধি করতে পারব।
• উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করতে পারব।
Related Question
View Allপ্রোটোপ্লাজমের মধ্যে ভাসমান গোলাকার ঘন বস্তুটিই নিউক্লিয়াস।
কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র হলো মাইটোকন্ড্রিয়া। এটি জীব কোষের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। মাইটোকন্ড্রিয়াতে ক্রেবস চক্র, ফ্যাটি এসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট ইত্যাদি ঘটে থাকে। এগুলোর মাধ্যমে কাজ করার শক্তি উৎপন্ন হয়ে থাকে। এ অঙ্গাণু থেকে কোষের যাবতীয় কাজের জন্য শক্তি সরবরাহ হয়ে থাকে বলে একে কোষের 'পাওয়ার হাউজ' বলা হয়।
দীপ্তি বোটানিক্যাল গার্ডেনে বিভিন্ন বর্ণের গাছপালা দেখতে পায়। নিচে গাছপালার বিভিন্ন বর্ণ ধারণ করার কারণ ব্যাখ্যা করা হলো-
উদ্ভিদের বিভিন্ন বর্ণের জন্য দায়ী গ্লাস্টিড। এ অঙ্গাণুটি উদ্ভিদ কোষের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। প্লাস্টিড উদ্ভিদের খাদ্য সংশ্লেষে, বর্ণ গঠনে এবং খাদ্য সঞ্চয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। উদ্ভিদ কোষস্থ প্লাস্টিড তিন প্রকার। ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট ও লিউকোপ্লাস্ট। এদের মধ্যে ক্লোরোপ্লাস্ট সবুজ অংশে থাকে এবং সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল নামক রঞ্জক পদার্থ ধারণ করে। সালোকসংশ্লেষণে সহায়তা করা এর প্রধান কাজ। ক্রোমোপ্লাস্টের জন্য গাছের সবুজ বাদে অন্য সকল বর্ণ সৃষ্টি হয়। সুতরাং গার্ডেনে বিভিন্ন বর্ণের গাছপালা সৃষ্টি হয়েছে ঐসব উদ্ভিদের কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট ও ক্রোমোপ্লাস্ট জাতীয় প্লাস্টিড উপস্থিত থাকার কারণে।
উদ্দীপকে দীপ্তি বাবার সাথে বোটানিক্যাল গার্ডেনে বেড়াতে এসে উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয় ধরনের জীব পর্যবেক্ষণ করেছে। নিচে দীপ্তির দেখা জীবগুলোর কোষীয় বৈশিষ্ট্যের তুলনা উল্লেখ করা হলো-
১. উদ্ভিদ কোষে প্লাজমা পর্দার বাইরে সেলুলোজের তৈরি কোষপ্রাচীর থাকে। কিন্তু প্রাণী কোষে শুধু প্লাজমা পর্দা থাকে, কোষপ্রাচীর থাকে না।
২. পরিণত উদ্ভিদ কোষে বড় গহ্বর থাকে। কিন্তু প্রাণী কোষে গহ্বর থাকে না, থাকলেও ছোট।
৩. উদ্ভিদ কোষে প্লাস্টিড থাকে। কিন্তু প্রাণী কোষে প্লাস্টিড থাকে না।
৪. সাধারণত উদ্ভিদ কোষে সেন্ট্রোসোম থাকে না। কিন্তু প্রাণী কোষে সেন্ট্রোসোম
৫. উদ্ভিদ কোষের কেন্দ্রে বড় কোষগহ্বর থাকায় নিউক্লিয়াস কোষপ্রাচীরের কাছে অবস্থান করে। কিন্তু প্রাণীকোষে নিউক্লিয়াস কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করে।
যেসব কোষ জীবের প্রজননে অংশ নেয় তাদের জননকোষ বলে। এরা জীবের দেহ গঠনে অংশগ্রহণ করে না। শুক্রাণু এবং ডিম্বাণু হলো জননকোষ। জননকোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা দেহকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক থাকে। তাই জননকোষকে হ্যাপ্লয়েড কোষ বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!