কনটোকর্ড হলো একটা নরম, নমনীয়, দন্ডাকার দৃঢ় অখন্ডায়িত অঙ্গ।
নটোকর্ড ও মেরুদণ্ডের মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ:
| নটোকর্ড | মেরুদণ্ড |
| ১. নটোকর্ড হলো একটা নরম নমনীয়, দন্ডাকার দৃঢ় অখন্ডায়িত অঙ্গ। | ১. মেরুদণ্ড হলো দেহের অক্ষকে অবলম্বন দানকারী অস্থিময় ও নমনীয় খণ্ডায়িত গঠন। |
| ২. কর্ডাটা পর্বের প্রাণীর সারা জীবন অথবা ভ্রূণ অবস্থায় পৃষ্ঠদেশ বরাবর নটোকর্ড অবস্থান করে। | ২. কর্ডাটা পর্বের উন্নত প্রাণীদের পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় নটোকর্ড মেরুদণ্ড দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়। |
চিত্র-৩ এর প্রাণীটি হাতি। যা কর্ডাটা পর্বের স্তন্যপায়ী শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য:
১. এদের দেহ লোমে আবৃত থাকে।
২. ব্যতিক্রমী স্তন্যপায়ী প্রাণী ছাড়া এরা সবাই সন্তান প্রসব করে।
৩. শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়।
৪. এরা উষ্ণ রক্তের প্রাণী।
৫. চোয়ালে বিভিন্ন ধরনের দাঁত থাকে।
৬. হৃৎপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট।
উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যের কারণে হাতি স্তন্যপায়ী শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
চিত্র-১ ইলিশ মাছ যা কর্ডাটা পর্বের ভার্টিব্রাটা উপপর্বের অন্তর্ভুক্ত
এবং চিত্র-২ Ascidia যা কর্ডাটা পর্বের ইউরোকর্ডাটা উপপর্বের অন্তর্ভুক্ত। "সকল ভার্টিব্রাটাই কর্ডাটা কিন্তু সকল কর্ডাটা ভার্টিব্রাটা নয়"- চিত্র-১ ও ২ এর আলোকে কথাটির সত্যতা যাচাই করা হলো-কর্ডাটা প্রাণীর তিনটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে স্থিতিস্থাপক নটোকর্ড, পৃষ্ঠীয় ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু এবং গলবিলীয় ফুলকারন্দ্র থাকে। এসব বৈশিষ্ট্য সবধরনের কর্ডেট প্রাণীর জীবনের যেকোনো দশায় কিংবা আজীবন পাওয়া যায়। Chordata পর্বের দুটি উপপর্ব যেমন-Urochordata Cephalochordata এর সদস্যদের ক্ষেত্রে কর্ডাটার বৈশিষ্ট্যগুলো আজীবন পাওয়া যায়। কিন্তু Vertebrata উপপর্বের ক্ষেত্রে ভূণাবস্থায় নটোকর্ড থাকলেও পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় তা কশেরুকা নির্মিত মেরুদণ্ড দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়। সেজন্য এদের মেরুদন্ডী প্রাণী বলে। তাছাড়া স্নায়ুরজ্জুটি মস্তিষ্ক ও সুষুম্মাকাণ্ড দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়ে ফুলকারন্দ্র বন্ধ হয়ে যায় এবং ফুলকা বা ফুসফুসের আবির্ভাব ঘটে। তাই বলা যায় "সকল ভার্টিব্রাটাই কর্ডাটা কিন্তু সকল কর্ডাটা ভার্টিব্রাটা নয়।"
Related Question
View Allযেসব প্রাণীর দেহকে কেন্দ্রীয় লম্ব অক্ষ বরাবর কেটে সদৃশ দুইয়ের বেশি সংখ্যক অংশে ভাগ করা যায়, তাদেরকে অরীয় প্রতিসম প্রাণী বলে।
দোয়েল পাখি উড়তে পারে কারণ দোয়েল পাখি Aves তথা পক্ষীকুল শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত একটি প্রাণী। এ পাখির অস্থি হালকা, ফাঁপা ও বায়ুপূর্ণ। এছাড়াও ফুসফুসের সাথে বায়ুথলি নামক বিশেষ ধরনের অঙ্গ উপস্থিত। যার কারণে দোয়েল পাখি সহজেই উড়তে পারে।
চিত্র: A এর প্রাণীটি হচ্ছে তেলাপোকা, যা আর্থ্রোপোডা পর্বভুক্ত। নিচে আর্থ্রোপোডা পর্বের সাধারণ বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো-
১.দেহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত ও সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ বিদ্যমান।
২. মাথায় একজোড়া পুঞ্জাক্ষি ও অ্যান্টেনা থাকে।
৩. নরম দেহ কাইটিন সমৃদ্ধ শক্ত আবরণী দ্বারা আবৃত।
৪. দেহের রক্তপূর্ণ গহ্বর হিমোসিল নামে পরিচিত।
যচিত্র: B হচ্ছে টিকটিকি যা কর্ডাটা পর্বের এবং চিত্র: C হচ্ছে শামুক যা মলাস্কা পর্বের অন্তর্ভুক্ত। জীবজগতে শ্রেণিবিন্যাসের রীতি অনুযায়ী বৈশিষ্ট্যের বিচারে অনুন্নত জীবগুলো শ্রেণিবিন্যাসের প্রথম দিকে থাকে এবং উন্নত জীবগুলো শ্রেণিবিন্যাসের শেষের দিকে থাকে। এ হিসেবে কর্ডাটা পর্বের প্রাণীরা অন্যান্য প্রাণী অপেক্ষা উন্নত। তাই টিকটিকি শামুক অপেক্ষা উন্নত। নিচে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হলো-
শামুকের দেহ নরম, নরম দেহ শক্ত খোলস দ্বারা আবৃত থাকে। এরা পেশিবহুল পা দিয়ে চলাচল করে। ফুসফুস বা ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। আর টিকটিকির ক্ষেত্রে, এদের সারা জীবন অথবা ভূণ অবস্থায় পৃষ্ঠীয়দেশ বরাবর নটোকর্ড থাকে। নটোকর্ড হলো একটা নরম, নমনীয় দণ্ডাকার দৃঢ় ও অখণ্ডায়িত অঙ্গ। পৃষ্ঠদেশে একক বা ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু থাকে। এই নটোকর্ড এক সময় মেরুদণ্ড দ্বারা
প্রতিস্থাপিত হয়। এই মেরুদন্ড থাকার কারণেই কর্ডাটা পর্বের প্রাণীরা মলাস্কা পর্বের প্রাণী অপেক্ষা উন্নত। তাই আমরা বলতে পারি টিকটিকি ও শামুকের মধ্যে টিকটিকি উন্নত।
নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের দেহগহ্বরকে সিলেন্টেরন বলে।
যেসব মেরুদণ্ডী প্রাণী বুকে ভর করে চলে এবং যাদের ত্বক শুষ্ক ও আঁইশযুক্ত তাদেরকে সরীসৃপ প্রাণী বলে। সাপ বুকে ভর করে চলে, এদের ত্বক শুষ্ক ও আঁইশযুক্ত। তাই সাপকে সরীসৃপ প্রাণী বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
