যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ ফুটতে শুরু করে এবং বাষ্পে রূপান্তরিত হয়, তাই ঐ তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক।
কোনো বস্তুর তাপ পরিবহনের ক্ষমতাকে ঐ বস্তুর তাপ পরিবাহিতা বলে। যেমন, কাচের চেয়ে লোহা দ্রুত তাপ পরিবহন করে। তাই লোহার তাপ পরিবাহিতা বেশি, কাচের তাপ পরিবাহিতা লোহার চেয়ে কম।
চিত্রের X, Y ও Z তিনটি পদার্থই একই উপাদানে তৈরি। উপাদানটি হলো পানি। চিত্রে X কঠিন অবস্থা, Y তরল অবস্থা এবং Z বাষ্পীয় অবস্থা। X থেকে Z পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াটি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
চিত্রে X চিহ্নিত বস্তুটি একটি কঠিন পদার্থ। একে তাপ দিলে এর মধ্যে অবস্থিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণাগুলো কাঁপতে শুরু করে এবং তাপ বৃদ্ধির সাথে সাথে এ কম্পন বাড়তে থাকে। তাপমাত্রা বাড়াতে বাড়াতে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পৌছালে বস্তুটি Y অর্থাৎ তরলে পরিণত হয়। আমরা দ্বিতীয় চিত্রে এ ঘটনাটি দেখতে পাই। ঐ নির্দিষ্ট তাপমাত্রাকে X এর গলনাঙ্ক বলে। এরপর Y কে আরও তাপ প্রয়োগ করতে থাকলে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় Y বাষ্পে অর্থাৎ Z এ পরিণত হতে শুরু করে, যা তৃতীয় চিত্রে আমরা দেখতে পাই। এভাবেই X, Z এ পরিণত হয়।
চিত্রে X দ্বারা কঠিন অবস্থা, Y দ্বারা তরল অবস্থা এবং Z দ্বারা বাষ্পীয় অবস্থা বুঝানো হয়েছে। চিত্রের তিনটি পদার্থই একক উপাদানে গঠিত। ধরি উপাদানটি পানি। অতএব এরা পদার্থটির তিনটি অবস্থা কঠিন অর্থাৎ বরফ (X) যা আমরা প্রথম চিহ্নিত চিত্রে দেখতে পাই, তরল অর্থাৎ পানি (Y) দ্বিতীয় চিত্রে এবং বায়বীয় অর্থাৎ জলীয় বাষ্প (Z) তৃতীয় চিত্র দ্বারা প্রকাশ করে। এখানে বরফকে ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রেখে দিলে তা গলে তরল পানিতে পরিণত হয়। কারণ বরফের গলনাঙ্ক ০° সেলসিয়াস। আবার পানিকে 100 ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে তা জলীয় বাষ্প Z এ পরিণত হয়। কারণ পানির স্ফুটনাঙ্ক 100 ডিগ্রি সেলসিয়াস। সুতরাং চিত্রের X, Y, Z তিনটি পদার্থই একই উপাদানে গঠিত পদার্থের তিনটি ভিন্নরূপ।
লোহা, তামা, রবার, কাঠ ইত্যাদি হাজারো রকমের পদার্থ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ভিন্ন ভিন্ন পদার্থের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন ভিন্ন বলেই এদের একেকটি একেক কাজে ব্যবহৃত হয়।

এই অধ্যায় শেষে আমরা
• পদার্থের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা করতে পারব।
• বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে পদার্থের শ্রেণিবিন্যাস করতে পারব।
• তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতা ব্যাখ্যা করতে পারব।
• ধাতু এবং অধাতুর কল্যাণকর দিক উপলব্ধি করব এবং এদের ব্যবহার ও সংরক্ষণে যত্নশীল হব।
• পরীক্ষণের সাহায্যে ধাতু এবং অধাতুর তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতা নির্ণয় করতে পারব।
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক ব্যাখ্যা করতে পারব।
• পরীক্ষণের সাহায্যে পদার্থের গলনাঙ্ক এবং স্ফুটনাঙ্ক নির্ণয় করতে পারব।
• থামা ঘড়ি ও থার্মোমিটার সুনিপুণভাবে ব্যবহারে সক্ষম হব।
• শীতলীকরণ ব্যাখ্যা করতে পারব।
• আঘাতে ধাতু এবং অধাতুর পরিবর্তন ব্যাখ্যা করতে পারব।
• পরীক্ষণ কার্যক্রম চলাকালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগী হব এবং অন্যদের সচেতন করব।
Related Question
View Allযেসব মৌলিক পদার্থ বিদ্যুৎ ও তাপ সুপরিবাহী নয়, তাদেরকে অধাতু বলে। অধাতুকে আঘাত করলে ঝনঝন শব্দ করে না। এদেরকে সরু তারে ও পাতে পরিণত করা যায় না। এরা নিম্ন গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বিশিষ্ট। যেমন- কার্বন, নাইট্রোজেন, সালফার প্রভৃতি অধাতু।
ফজলুল হক সাহেবের স্ত্রীর ব্যবহৃত পাত্রটির উপাদান হচ্ছে এলুমিনিয়াম। এটি একটি হালকা নীলাভ সাদা ধাতু। এ ধাতুটির ব্যবহারের দিক থেকে অনেক গুরুত্ব রয়েছে। যেমন-
১. এলুমিনিয়াম ধাতু তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী।
২. ধাতুটি খুব হালকা এবং ভারবহনের ক্ষমতা আছে বলে এর ধাতু সংকরসমূহ উড়োজাহাজ, রেলগাড়ি, মটরগাড়ি, ট্রাম প্রভৃতির অংশ নির্মাণ করতে ব্যবহৃত হয়।
৩. বিদ্যুৎ সুপরিবাহী এবং কপারের তুলনায় সস্তা বলে বৈদ্যুতিক কেবল হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়।
৪. হালকা বহনক্ষম সিড়ি নির্মাণে, বাসনপত্র, চেয়ার, বাক্স প্রভৃতি তৈরিতে এ ধাতু প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়।
৫. এলুমিনিয়ামের পাতলা পাত দিয়ে সিগারেট, চকলেট ও অনেক খাদ্য দ্রব্যের মোড়ক তৈরি করা হয়।
৬. চকচকে বার্নিশ তৈরিতে এলুমিনিয়াম চূর্ণ ব্যবহৃত হয়।
অতএব উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে, ফজলুল হক সাহেবের স্ত্রীর ব্যবহৃত পাত্রটির উপাদানের গুরুত্ব অপরিসীম।
রান্নার ক্ষেত্রে ফজলুল হক সাহেবের স্ত্রী বেশি সুবিধা পায়।
বিশ্লেষণ: উদ্দীপকে আমরা পাই, ফজলুল হক সাহেবের মা মাটির চুলায় মাটির পাতিলে রান্না করেন। অপরদিকে তার স্ত্রী গ্যাসের চুলায়এলুমিনিয়ামের পাত্রে রান্না করেন। ফজলুল হক সাহেবের মা মাটির চুলায় রান্না করার কারণে তিনি কম সুবিধা পান। কারণ, মাটি তাপ কুপরিবাহী বলে এর মধ্য দিয়ে তাপ চলাচল করে ধীরগতিতে। যার ফলে মাটির চুলায় মাটির পাতিলে রান্না করলে সহজে তাপ পাতিলের জিনিসকে সিদ্ধ করে না। এতে তার অনেক বেশি জ্বালানি খরচ করতে হয়। তাছাড়া মাটির চুলায় তিনি জ্বালানি হিসেবে যে কাঠ খড়ি ব্যবহার করেন আমরা জানি যে, তার প্রায় ৮৫ ভাগ নষ্ট হয়ে যায়। অন্যদিকে এলুমিনিয়ামের তাপ পরিবাহকত্ব মাটির তুলনায় অনেক বেশি। ফলে এলুমিনিয়ামের তৈরি পাত্রে রান্না করলে পাতিলের জিনিস তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়। তাছাড়া এতে গ্যাস ব্যবহারের কারণে জ্বালানিও বেশি খরচ হয় না। ফজলুল হক সাহেবের স্ত্রী এ সুবিধাগুলো পেয়ে থাকেন, যা তার মা পায় না। তাই বলা যায়, রান্নার ক্ষেত্রে ফজলুল হক সাহেবের স্ত্রী তার মায়ের চেয়ে বেশি সুবিধা পায়।
যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ ফুটতে শুরু করে এবং বাষ্পে রূপান্তরিত হয়, তাই ঐ তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক।
কোনো বস্তুর তাপ পরিবহনের ক্ষমতাকে ঐ বস্তুর তাপ পরিবাহিতা বলে। যেমন, কাচের চেয়ে লোহা দ্রুত তাপ পরিবহন করে। তাই লোহার তাপ পরিবাহিতা বেশি, কাচের তাপ পরিবাহিতা লোহার চেয়ে কম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!