নিউট্রোফিল প্রোটিন ও ক্রোমাটিনের সমন্বয়ে তৈরি জালকের মতো ফাঁদ যা ব্যাকটেরিয়াকে আবন্ধ ও ধ্বংস করে তাই হলো NETS।
VDJ এর V = Variable, D = Diversity, J = Joining subgene. ভারী শৃঙ্খলের স্থায়ী অঞ্চলে অ্যামিনো অ্যাসিডের ক্রমের ভিত্তিতে অ্যান্টিবডি মাত্র পাঁচ ধরনের হলেও পরিবর্তনশীল অঞ্চলের (ভারী ও হালকা শৃঙ্খলের) প্যারাটপে যখন জরুরি অবস্থায় বিশেষ বিশেষ জিনখন্ডের এলোপাথারি সম্মিলনের ফলে পরিবর্তন ঘটে তখন কোটি কোটি ভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবডির সৃষ্টি হয়। এ প্রক্রিয়ার নামই হলো VDJ রিকম্বিনেশন।
আলাউদ্দীপকের চিত্রে ম্যাক্রোফেজের ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ার একটি ধাপকে দেখানো হয়েছে। ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ম্যাক্রোফেজ ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে থাকে। এক্ষেত্রে ম্যাক্রোফেজ ব্যাকটেরিয়াকে ভক্ষণ করার পর যে ফ্যাগোসোম গঠন করে তা চিত্রের মাধ্যমে উদ্দীপকে দেখানো হয়েছে। চিত্রের এই ঘটনাটি কতগুলো রাসায়নিক বস্তুর প্রভাবে উদ্দীপ্ত হয়। দেহের কোনো স্থান অণুজীব দ্বারা সংক্রমিত হলে সংক্রমিত স্থানে খুব দ্রুত ফ্যাগোসাইটিক কোষগুলোর আগমন ঘটে থাকে। সাধারণত সংক্রমিত স্থানের কোষগুলোর প্রদাহের ফলে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ যেমন- হিস্টামিন, কাইটিন ইত্যাদি সৃষ্টি করে যাদের দ্বারা উদ্দীপিত হয়ে ফ্যাগোসাইটগুলো সংক্রমিত স্থানে চলে আসে। ফ্যাগোসাইটিক কোষের প্লাজমা আবরণীতে আরও কিছু রাসায়নিক গ্রাহক পদার্থ থাকে যাদের মাধ্যমে এরা সহজেই অণুজীবদের সাথে সংযুক্ত হয়ে ফ্যাগোসাইটিক প্রক্রিয়া শুরু করে।
উদ্দীপকের চিত্র দ্বারা ম্যাক্রোফেজের ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করার একটি ধাপকে দেখানো হয়েছে। এটি আমাদের প্রতিরক্ষা তন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমাদের ফুসফুস, বৃত্ত, মস্তিষ্ক ও যকৃতে বিশেষ ধরনের অসংখ্য ম্যাক্রোফেজ পাওয়া যায়। এসব ম্যাক্রোফেজ ক্রনিক ধরনের সংক্রমনে কাজ করে। সংক্রমিত স্থানের প্রদাহ দ্বারা তাড়িত হয়ে এরা ঐ স্থানে পৌঁছায় এবং সক্রিয়ভাবে অণুজীব, দেহের মৃতকোষ, আঘাতপ্রাপ্ত কোষ ও অন্যান্য ময়লা ভক্ষণ করে। ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে ম্যাক্রোফেজ তিন ধরনের কাজ করে থাকে। যথা- ম্যাক্রোফেজ ক্ষণপদের মতো গঠন সৃষ্টি করে জীবাণুকে 'ফ্যাগোসোম নামক গহ্বরে আবদ্ধ করে ফেলে পরবর্তীতে লাইসোসোমের সাথে একীভূত হয় যা ফ্যাগোলাইসোসোম গঠন করে। লাইসোসোমের এনজাইম ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। ম্যাক্রোফেজ T-লিম্ফোসাইটকে ব্যাকটেরিয়ার প্রকৃতি সম্বন্দ্বে তথ্য সরবরাহ করে থাকে।
এভাবে ম্যাক্রোফেজ জীবাণু ধ্বংসের মাধ্যমে আমাদের প্রতিরক্ষা তন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allদেহের অনাক্রম্যতায় সাড়াদানকারী অণুপ্রবিষ্ট বহিরাগত বিষাক্ত পদার্থই হলো অ্যান্টিজেন।
দেহকে কোনো রোগের বিরুদ্ধে অনাক্রম্যতা করে গড়ে তোলাই হলো রোগ প্রতিরোধ। এই ব্যবস্থায় পূর্ব থেকে শরীর অনাকাঙ্ক্ষিত রোগজীবাণুকে মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকে। টীকা দেওয়ার মাধ্যমে দেহকে নির্দিষ্ট রোগ হতে প্রতিরোধী করে তোলা যায়।
উদ্দীপকের দেহের প্রতিরক্ষায় প্রথম স্তরটি হলো ত্বক। আমাদের দেহের সুরক্ষায় ত্বক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ত্বক আমাদের শরীরের বাইরের দিকের আবরণী। এটি ক্ষতিকর রোগের প্রভাব থেকে আমাদের শরীরকে রক্ষা করে। এর মধ্য দিয়ে সহজে কোনো কিছু ভেতরে যেতে পারে না। এটি দেহের বাইরের স্তরে দৃঢ় ও ক্যারোটিনাইড আবরণী তৈরি করে, যা দেহের সকল বাহ্যিক অংশকে আচ্ছাদিত করে এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি ফলপ্রসূ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ করে।
দেহত্বক ছিঁড়ে গেলে বা কেটে গেলে ত্বকে অবস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে প্রতিরক্ষা দান করে। ঘাম ও তৈল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH কে অম্লীয় (pH 3-5) করে তোলে। ফলে অণুজীবসমূহ বেশি সময় ত্বকে বেঁচে থাকতে পারে না। কিছু সংখ্যক উপকারি ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থানকালে অ্যাসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে। যা অণুজীবের সংখ্যাবৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি অ্যাসিডে অবস্থিত লাইসোজাইম ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরকে ধ্বংস করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে এনজাইম, অ্যাসিড, ম্যাক্রোফেজ ও নিউট্রোফিল বিশেষ ভূমিকা রাখে। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-
মানুষের মুখের লালাতে পেপটাইড যৌগ (লাইসোজাইম) রয়েছে। এরা Staphylococcus, Streptococcus, Bacillus ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া বিরোধী যৌগ। তবে যেসব ব্যাকটেরিয়া লালার এনজাইম সহনশীল তারা, পাকস্থলিতে পৌঁছালে পাকস্থলির HCI অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমের পানিকে বাইরে বের করে কোষ' সংকুচিত করে ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। তাছাড়া পাকস্থলিতে প্রোটিনধর্মী যেসব এনজাইম (যেমন- পেপসিন) রয়েছে তারাও ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। যেসব ব্যাকটেরিয়া পাকস্থলিতেও মারা যায় না তারা ক্ষুদ্রান্ত্রের প্যানেথ কোষ হতে নিঃসৃত ব্যাকটেরিয়া বিরোধী পেপটাইডধর্মী এনজাইম ক্রিয়ায় মারা যায়। ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে Macrophage তিন ধরনের কাজ করে থাকে। যথা- Macrophage ক্ষণপদের মতো গঠন সৃষ্টি করে জীবাণুকে ফ্যাগোসোম নামক গহ্বরে আবদ্ধ করে ফেলে। পরবর্তীতে ইহা লাইসোজোমের সাথে একীভূত হয়ে Phagolysosome গঠন করে। লাইসোসোমের এনজাইম ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। ম্যাক্রোফেজ T-Lymphocyte কে ব্যাকটেরিয়ার প্রকৃতি সম্বন্দ্বে তথ্য
সরবরাহ করে থাকে।
নিউট্রোফিল তিনটি প্রধান উপায়ে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের কাজ করে থাকে। যেমন- এরা অপসোনাইজেশন প্রক্রিয়ায় অপসোনিন প্রোটিনের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে প্রবেশিত জীবাণুকে চিহ্নিত করে। নিউট্রোফিল সাইটোকাইন নিঃসৃত করে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। নিউট্রোফিল প্রোটিন ও ক্রোমাটিনের সমন্বয়ে Neutrophil Extracellular Traps বা NETS নামক ফাঁদ তৈরি করে যা ছাঁকনির মতো কাজ করে ব্যাকটেরিয়াকে আবদ্ধ ও ধ্বংস করে ফেলে।
দেহের অনাক্রম্যতায় সাড়াদানকারী অণুপ্রবিষ্ট বহিরাগত বিষাক্ত পদার্থই হলো অ্যান্টিজেন।
দেহে অনুপ্রবিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার গায়ে অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি কমপ্লেক্স যুক্ত হলে কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রোটিন নিউট্রোফিল ও ম্যাক্রোফেজকে প্রচন্ডভাবে ফ্যাগোসাইটোসিসে উদ্বুদ্ধ করে তোলে। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় অপসোনাইজেশন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
