যেসব ফসল সাধারণত বিস্তীর্ণ মাঠে বেড়াবিহীন অবস্থায় সমষ্টিগতভাবে পরিচর্যার মাধ্যমে চাষ এবং প্রক্রিয়াজাত করে খাওয়া হয় সেগুলোকে মাঠ ফসল বলে।
বনজ সম্পদ বৃদ্ধি ও সর্ব সাধারণের কল্যাণে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে এবং সরকারের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় সামাজিক এলাকায় (প্রান্তিক ও পতিত জমি) যে বনায়ন করা হয় তাকে সামাজিক বনায়ন বলে।
জ্বালানি ও কাঠের মোট সরবরাহের সিংহভাগই আসে সামাজিক বন হতে। বাংলাদেশের সর্বত্র ঔষধি গাছ লাগিয়ে অনেকেই অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কাগজ কল, হার্ডবোর্ড মিল, পার্টিকেল বোর্ড মিল, দিয়াশলাই ফ্যাক্টরি, ফার্নিচার ফ্যাক্টরি প্রভৃতির কাঁচামাল সরবরাহে সামাজিক বনায়নের ভূমিকা অনন্য। এছাড়াও সামাজিক বনায়ন ভূমিক্ষয় রোধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। বেকার ও দুঃস্থ মহিলাদের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ করে দেয়। সর্বোপরি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের চিত্র-২ হলো মোবাইল ফোন।
কৃষিকে গতিশীল ও উন্নত করতে মোবাইল ফোন তথ্য প্রযুক্তির বাহন হিসেবে কাজ করছে। আর কৃষি তথ্যের সবচেয়ে বড় ভাণ্ডার হচ্ছে ইন্টারনেট। ঘরে বসেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে খুব কম খরচে ইন্টারনেট থেকে কৃষক যেকোনো তথ্য ও জ্ঞান লাভ করতে পারেন। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে কৃষক মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কৃষি বিষয়ক তথ্য-উপাত্ত, টেকসই প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারেন। তাছাড়া মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে কৃষক কৃষি কল সেন্টার থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে কৃষি বিষয়ক তথ্য যেমন- মৌসুম উপযোগী ফসল চাষ, ফসলের চাহিদামাফিক সার, বীজ ও সেচের পরিমাণ, রোগ ও পোকা নিয়ন্ত্রণ এবং দমন পদ্ধতি, গবাদিপশু ও পোল্ট্রি পালন, মাছ চাষ সম্বন্ধে কৃষক জানতে পারেন। এছাড়াও মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কৃষি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ প্রযুক্তি এবং বিশেষজ্ঞদের সাথে বিভিন্ন তথ্য আদান-প্রদানও করতে পারেন।
অতএব বলা যায়, সহজলভ্য ও ব্যবহারবান্ধব মোবাইল ফোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষক তথ্য ও সেবা পেতে পারেন যা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকের চিত্র-১ হলো কম্পিউটার এবং চিত্র-২ হলো মোবাইল ফোন। বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। তথ্য প্রযুক্তিই কৃষিতে এনে দিতে পারে নতুন সম্ভাবনা। আর ইন্টারনেটের মাধ্যমে কৃষকের চাহিদা মাফিক, সঠিক সময়োপযোগী এবং কৃষিবিষয়ক আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কে জানা যায়।
কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন দুটোর মাধ্যমেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে কৃষি ফসলের উৎপাদন প্রযুক্তি, গবেষণালব্ধ ফলাফল, ব্যবহার কৌশল, কৃষি সমস্যা ও তার সমাধান পাওয়া যায়। বাংলাদেশের অধিকাংশ কৃষকই গরীব এবং অশিক্ষিত। যার ফলে অনেকেই কম্পিউটার ব্যবহার জানেন না। তাছাড়া কম্পিউটারের ব্যবহার বাংলাদেশের গরীব কৃষকদের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এটি ব্যবহারের জন্য ইন্টারনেট সংযোগ ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকতে হয়। এজন্য আলাদা প্রশিক্ষণেরও দরকার হয় যা অপ্রতুল। অপরদিকে মোবাইল ফোন সহজলভ্য ও স্বল্পমূল্যের হওয়ায় সকল কৃষকেরই কেনার সামর্থ্য রয়েছে। তাছাড়া মোবাইল ফোন ব্যবহারের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণের প্রয়োজন পড়ে না। অশিক্ষিত কৃষকও কৃষি কল সেন্টারে ফোন করে কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও সমস্যার সমাধান জানতে পারেন। মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠানগুলোও খুব কম খরচে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা দিয়ে থাকে। তাছাড়া এসএমএস ভিত্তিক কৃষি তথ্য সেবা চালু থাকায় সারা দেশে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত ব্যক্তি ও কৃষকের কাছে দ্রুত তথ্য পৌঁছে যায়।
অতএব, উদ্দীপকের চিত্র-২ অর্থাৎ মোবাইল ফোন কৃষি উন্নয়নের জন্য অধিকতর উপযোগী বলে আমি মনে করি।
Related Question
View Allবঙ্গোপসাগরে ও উপকূলীয় এলাকায় অর্থাৎ লোনা পানিতে যেসব মাছ বাস করে সেগুলোকে লোনা পানির মাছ বলে।
মাটির গুণগতমান উন্নয়নের জন্য গাছে ফুল আসার পূর্বে লিগিউম জাতীয় উদ্ভিদ চাষ দিয়ে মাটিতে মিশিয়ে যে সার তৈরি করা হয় তাকে সবুজ সার বলে।
ধৈঞ্চা ও শনপাট জমিতে প্রচুর পরিমাণে জৈব পদার্থ যোগ করে। ধৈঞ্চা গাছের শিকড়ে নডিউল সৃষ্টি হয় যা মিথোজীবী প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে ফসলের গ্রহণোপযোগী করে তোলে। তাই জমির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য ধৈঞ্চা ও শনপাটকে জমিতে সবুজ সার হিসেবে উৎপাদন করা হয়।
উদ্দীপকের 'ক' চিহ্নিত ফসল হলো মাঠ ফসল। যে সকল ফসল সাধারণত উন্মুক্ত মাঠে বেড়াবিহীন অবস্থায় তুলনামূলক কম পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপাদন করা হয় সেগুলোকে মাঠ ফসল বলে। মাঠ ফসলের বৈশিষ্ট্য হলো-
i. সাধারণত বড় জমিতে চাষ করা হয়।
ii. মাঠের সমস্ত ফসলকে একত্রে বা সমষ্টিগতভাবে যত্ন নেওয়া হয়।
iii. তুলনামূলকভাবে কম যত্নের প্রয়োজন হয়।
iv. মাঠের সমস্ত ফসল একত্রে পরিপক্ক হয় বলে একত্রে সংগ্রহ করতে হয় (ব্যতিক্রম- তুলা)।
v. বেড়া নির্মাণের প্রয়োজন হয় না (ব্যতিক্রম- রাস্তার পাশের জমি)।
vi. মৌসুমের শুরুতে দাম কম থাকে।
vii. সেচ না দিয়েও অনেক ফসল চাষ করা যায়।
viii. একবর্ষজীবী ফসল (ব্যতিক্রম- চা)।
ix. নিচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে চাষ করা হয়।
Χ. ফসলের উৎপাদন খরচ ও ঝুঁকি বেশি।
xi. ফসল শুকিয়ে মাড়াই করে ব্যবহার করা হয় (ব্যতিক্রম- পাট, আখ ইত্যাদি)।
xii. আকারে খাটো ও ছোট হয় (ব্যতিক্রম- আখ, পাট, ভুট্টা ইত্যাদি)।
অর্থাৎ মাঠ ফসলের উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যাবলি লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে কৃষি শিক্ষকের বর্ণিত বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে রয়েছে মাঠ ফসল, উদ্যান ফসল, গবাদিপশু, পোল্ট্রি, সামাজিক বনায়ন ও মৎস্য।
বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষের জীবন ও জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে সম্পর্কিত। কৃষি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প কারখানার প্রসার ঘটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম করে। নিচে বাংলাদেশের মানুষের সাধারণ জীবনযাত্রায় উপরে বর্ণিত উপাদানসমূহের গুরুত্ব বর্ণনা করা হলো-
i. খাদ্যের সিংহভাগ আসে কৃষি হতে। যেমন- চাল, ডাল, গম, শাকসবজি, মাছ ইত্যাদি।
ii. কৃষি হলো বস্ত্র তৈরির প্রধান কাঁচামালের উপাদান যেমন- পাট, তুলা, রেশম ইত্যাদির উৎস।
iii. গৃহ নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণ যেমন- কাঠ, বাঁশ, খড়, শন, গোলপাতা প্রভৃতির উৎস হলো কৃষি। আসবাব তৈরির মূল উপকরণ আসে বন হতে।
iv. বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক, মরফিন, কোকেন এবং রাসায়নিক দ্রব্য উদ্ভিদ হতে প্রস্তুত করা হয়।
V. শিক্ষার উপকরণ যেমন- কাগজ, পেন্সিল ইত্যাদি আসে কৃষির উপাদান হতে।
vi. জ্বালানি হিসেবে বাঁশ, খড়, নাড়া, গবাদিপশুর বিষ্ঠা ইত্যাদি গৃহস্থালির কাজে ও ইটের ভাটায় ব্যবহৃত হয়, যা কৃষি হতে আসে।
vii. এ দেশের মোট শ্রমশক্তির শতকরা ৪০.৬ ভাগ কৃষি হতে আসে।
viii. বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার ১১% কৃষিজ পণ্য রপ্তানির ফলে আসে।
ix. মাছের চর্বি, কাঁটা, হাড় ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবৃহত হয়।
x. মাছের কাঁটা, আঁইশ, বিষাক্ত মাছ ইত্যাদি শুকিয়ে গুঁড়া করে সার হিসেবে জমিতে ব্যবহার করলে ফসফরাসের অভাব দূর করা যায়।
অতএব, বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রায় উদ্দীপকের উপাদানসমূহের গুরুত্ব অনেক।
ই-বুক হলো এক ধরনের ইন্টারএকটিভ ডিজিটাল বই যাতে কোনো বিষয়ে টেক্সট কনটেন্টের সাথে অডিও, ভিডিও, অ্যানিমেশন ইত্যাদিও সমন্বিত আকারে থাকে।
স্বল্প পরিসরে প্রতিটি উদ্ভিদের আলাদা যত্ন করার মাধ্যমে বাগানে যে ফসলের চাষ করা হয় তাকে উদ্যান ফসল বলে। ফুল, ফল, শাকসবজি ও মসলাজাতীয় ফসল উদ্যান ফসলের অন্তর্ভূক্ত। সাধারণত বসতবাড়ি সংলগ্ন উঁচু জমিতে উদ্যান ফসলের আবাদ করা হয়। আমাদের দেশে উৎপাদিত মোট ফসলের প্রায় ৩০ শতাংশই আসে উদ্যান ফসল থেকে। উদ্যান ফসল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে, পুষ্টির চাহিদা পূরণে ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!