IRM (Innate Realeasing Mechanism) হলো এক প্রকার সহজাত রিলিজিং পদ্ধতি যা নির্দিষ্ট পেশিকে সংকোচন ও প্রসারণের নির্দেশ দেয়।
ফ্যানিং হলো এক ধরনের প্রক্রিয়া যেখানে তিন-কাঁটা স্টিকলব্যাক মাছ ডিম ফোটার অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখার জন্য বাসার প্রবেশ পথের সামনে মাথা নিচু করে তীর্যকভাবে অবস্থান নিয়ে বক্ষপাখনা সামনের দিকে সঞ্চালিত করে। অক্সিজেন চাহিদা নিশ্চিত করতে পানি স্রোত অব্যাহত রাখে। সাত-আটদিনের মধ্যে ডিম ফুটে পোনা বেরিয়ে বাসা ত্যাগ করতে শুরু করলে ফ্যানিং বন্ধ করে দেয়।
উদ্দীপকের প্রাণীটি হলো মাকড়সা। মাকড়সার জীবনকালব্যাপী জাল তৈরি করাকে সহজাত আচরণের উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
সহজাত আচরণের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-
i.সহজাত আচরণ প্রজাতি নির্দিষ্ট; একটি প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত সকল সদস্যের মধ্যে একই ধরনের সহজাত আচরণ পরিলক্ষিত হয়। যেমন: সকল মাকড়সাই জাল বুনতে পারে।
ii. সহজাত আচরণ উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত এবং জিন নিয়ন্ত্রিত।
iii. জন্মগত হলেও সব সহজাত আচরণ জন্মের সময় থেকে আত্ম প্রকাশ করে না। পরিপক্কতার মধ্যদিয়ে উপযুক্ত সময়ে এগুলোর প্রকাশ ঘটে।
iv. সহজাত আচরণ বংশপরম্পরায় অপরিবর্তিত থাকে। তবে প্রাকৃতিক পরিবেশ পরিবর্তন সহজাত আচরণকে প্রভাবিত করে।
v. সহজাত আচরণ সংশ্লিষ্ট প্রাণী শিখনের মাধ্যমে অর্জন করে না বরং এটি জন্মগত।
vi. সহজাত আচরণ প্রাণীর জৈবিক প্রয়োজন অনুসারে বিকশিত হয়। যেমন- খাদ্য গ্রহণ, বাসা নির্মাণ, প্রজনন ইত্যাদি।
মাকড়সা রেশম উৎপাদন করে জাল তৈরি করে। মাকড়সার বৃত্তাকার জালক হচ্ছে জটিল ও অপরিবর্তনীয় আচরণগত প্যাটার্নের ফলশ্রুতি। এরা বৃত্তাকার জাল বোনে রেশমি সুতা দিয়ে। উদরীয় বিশেষ সিল্ক গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত পদার্থকে শত শত অণুনালিকাযুক্ত তিন জোড়া বুননকারীর মাধ্যমে সুতা নির্মাণ করে। সিল্ক গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত স্ক্লেরোপ্রোটিন থেকে সৃষ্ট সুতা বাতাসের সংস্পর্শে এসে শক্ত রেশমি সুতায় পরিণত হয়। একই ব্যাসের ইস্পাতের সুতা অপেক্ষা মাকড়সার সুতা বেশি শক্তিশালী। জালিকা বৃত্তটি একটি নিয়ত গঠন, যাতে কাঠামো, অরীয় স্পোক ও আঠালো প্যাঁচ রয়েছে। এরা জাল বোনার শুরুতে একটি Y আকৃতির গঠন নির্মাণ করে। এরপর কাঠামো ও তারীয় স্পোক এবং সবশেষে অন-আঠালো ও আঠালো প্যাঁচ সৃষ্টি করে। এভাবে নিখুঁত জাল তৈরি করে। এটি উড়ন্ত শিকার ধরার ফাঁদ হিসেবে কাজ করে।
Related Question
View Allপ্রবাহমান পানির প্রতি প্রাণীর সাড়া প্রদানের প্রক্রিয়াই হলো রিওট্যাক্সিস।
যে প্রক্রিয়ায় কোনো প্রাণী নিজেদের জীবন বিপন্ন করে হলেও তার দলের অন্য সদস্যদেরকে সহায়তা করে তাকে পরার্থপরতা বা অ্যালটুইজম বলে। এ ধরনের আচরণ প্রাণীরা নিজ দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ মানুষের ক্ষেত্রে ভাই বা বোনের জীবন বাঁচাতে পানিতে/আগুনে ঝাঁপ দেওয়া, অঙ্গ প্রদান (চোখ, কিডনি) ইত্যাদি।
উদ্দীপকে 'A তে উল্লিখিত প্রাণীটি হলো পাখি। পাখির বিশেষ স্থানান্তর প্রক্রিয়াটি হলো পরিযান। নিচে পরিযান প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করা
হলো-
পরিযান বলতে প্রাণীদের একস্থান হতে অন্যস্থানে গমনকে বোঝায়। সাধারণত প্রতিকূল অবস্থা থেকে রক্ষা, খাদ্যপ্রাপ্তি ও প্রজননের জন্য প্রাণীরা পরিযান করে থাকে। পরিযান পাখির একটি সহজাত আচরণ। আবহাওয়ার পরিবর্তন, খাদ্যাভাব, প্রজননগত সমস্যা ইত্যাদি কারণে পাখিরা পরিযানে উদ্দীপিত হয়। পরিযান সাধারণত দু'রকম হয়ে থাকে যথা- অক্ষাংশিক পরিযান ও উলম্বিক পরিযান। উত্তর থেকে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ থেকে উত্তর গোলার্ধে পরিযানকে অক্ষাংশিক পরিযান বলে। যেমন- শীতকালে সাইবেরিয়ায় প্রচণ্ড তুষারপাত ঘটে তাই সেখানকার পাখিরা বাংলাদেশে পরিযান করে। আবার নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে পাখিরা আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে সাথে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে পাহাড়ের চূড়ায় পরিযান ঘটায় যাকে উলম্বিক পরিযান বলে। সাধারণত পরিযায়ী পাখিরা তাদের দিক নির্দেশক হিসেবে পৃথিবীর চুম্বকীয় ক্ষেত্র ব্যবহার করে থাকে। প্রায় সকল পরিযায়ী পাখি বছরের পর বছর একই পথ অনুসরণ করে। এসব পাখিরা চেনা যায় এমন স্থান, সূর্য, তারকারাজি, চাঁদ ইত্যাদিকে পথ চেনার কাজে লাগায় এবং পূর্বের বাসস্থানে ফিরে যায়।
উদ্দীপকের B-তে উল্লিখিত প্রাণীটি হলো তিন কাঁটা স্টিকলব্যাক মাছ। স্টিকলব্যাক মাছের অপত্য লালন নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
সাধারণত তিন-কাঁটা স্টিকলব্যাক ছোট ছোট দলে ঝাঁক বেধে ঘোরে। যৌন পরিপক্কতা এলে পুরুষ মাছ দলহীন হয়ে উপকূলবর্তী অগভীর পানির জলাশয়ে নিজস্ব বিচরণ পরিসীমা নির্ধারণ করে সতর্ক পাহারায় নিযুক্ত থাকে। বিচরণ পরিসীমা প্রতিষ্ঠার পর সেখানে বাসা নির্মাণ শুরু করে। এরপর পুরুষ মাছ জিগ-জ্যাগ নৃত্য প্রদর্শনের মাধ্যমে স্ত্রী মাছকে আকৃষ্ট করে ডিম পাড়তে উদ্বুদ্ধ করে। ডিম পাড়া শেষ হলে পুরুষ মাছ ডিমগুলোকে নিষিক্ত করে এবং ডিমের দেখা শোনা আরম্ভ করে। নীড় ও নীড়ের ভেতর থাকা নিষিক্ত ডিমগুলো থেকে সুস্থ পোনা উৎপাদন, রক্ষা, যত্ন নেওয়া ও সবশেষে নিরাপদে পরিবেশে ফিরে যাওয়া অনুকূলে রাখতে পুরুষ মাছ সদা ব্যস্ত থাকে। এ সময় বাসার কাছে নিজ প্রজাতির সদস্যসহ কোনো মাছ বা ক্ষতিকর প্রাণীর প্রবেশ রোধ করতে মাছ সদা তৎপর থাকে। ডিম ফোটার অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখার জন্য স্টিকলব্যাক এক অদ্ভুত আচরণ করে। বাসায় প্রবেশ পথের সামনে মাথা নিচু করে তির্যকভাবে অবস্থান নিয়ে বক্ষপাখনা সামনের দিকে সঞ্চালিত করে। এভাবে অক্সিজেন চাহিদা নিশ্চিত, করতে পানিস্রোত অব্যাহত রাখে। এ প্রক্রিয়ার নাম ফ্যানিং। ৭-৮ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে পোনা বের হয়ে আসে। তখন পোনাগুলো পাহারা দেওয়ার জন্য পুরুষ মাছটি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে। পোনার দল থেকে কিছু পোনা দলছুট হলে পুরুষ মাছটি দ্রুত সেগুলোকে মুখে তুলে এনে আবার মূল দলে ছেড়ে দেয়। প্রায় দুই সপ্তাহ পর পোনাগুলো ঝাঁক বেধে চলতে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে পুরুষ মাছটি তখন নিজ সঙ্গীদের কাছে ফিরে যায়। এভাবে স্টিকলব্যাক মাছ অপত্যের প্রতি যত্ন নেয়।
দেহের প্রতিরক্ষা তন্ত্র থেকে উৎপন্ন এক ধরনের দ্রবণীয় গ্লাইকোপ্রোটিন যা রোগব্যাধি সৃষ্টিকারী নির্দিষ্ট-অ্যান্টিজেনকে ধ্বংস করে তাই হলো অ্যান্টিবডি।
রজঃচক্র হলো বয়োঃপ্রাপ্ত মারীর নির্দিষ্ট সময় পর পর জরায়ু থেকে রক্ত, মিউকাস, এন্ডোমেট্রিয়ামের ভগ্নাংশ ও ধ্বংসপ্রাপ্ত অনিষিক্ত ডিম্বাণুর চক্রীয় নিষ্কাশন। স্ত্রী যৌনচক্রের সময় জরায়ুর প্রাচীরে যেসব ধারাবাহিক ও চক্রাকার পরিবর্তন ঘটে তাকে জরায়ু চক্র বলে। প্রতিবার জরায়ুচক্র শেষে রক্তসহ মিউকাস ও অন্যান্য পদার্থ যোনীপথে বের হয়ে যায়। একে রজঃস্রাব বলে। ২৮ দিন পর পর একটি জরায়ু চক্র শেষে আবার নতুন করে রজঃস্রাব হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
