শ্রমিকের কাজ করার ক্ষমতা তথা উৎপাদন ক্ষমতাকে শ্রমের দক্ষতা বলে।
আর্থিক মজুরির ক্রয়ক্ষমতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ভিত্তিতে প্রকৃত মজুরি পরিমাপ করা হয়। শ্রমিক তার আর্থিক মজুরি দ্বারা যে পরিমাণ দ্রব্যসামগ্রী ও সেবা ক্রয় করতে পারে এবং কর্মস্থল থেকে অন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা পায় তার সমষ্টিকে প্রকৃত মজুরি বলে। শ্রমিকের প্রকৃত অর্থনৈতিক অবস্থা প্রকৃত মজুরির ওপর নির্ভরশীল। আবার, প্রকৃত মজুরি দামস্তর দ্বারা প্রভাবিত হয়। ফলে প্রকৃত মজুরি হ্রাস বা বৃদ্ধি পায়। এজন্য শ্রমিকের প্রকৃত অবস্থা আর্থিক মজুরি নয়, প্রকৃত মজুরির ওপর নির্ভর করে।
উদ্দীপকের চিত্রে শ্রমবাজারের ভারসাম্য মজুরি নির্ধারণ দেখানো হয়েছে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো:
ভারসাম্য অবস্থায় শ্রমবাজারে শ্রমের যোগান ও চাহিদা পরস্পর সমান হয়। অর্থাৎ শ্রমের চাহিদা (D₁) ও শ্রমের যোগান (S₁) এর সমতার ভিত্তিতে ভারসাম্য মজুরি নির্ধারিত হয়।
উদ্দীপকের চিত্রে লক্ষ করা যায়, E বিন্দুতে শ্রমের চাহিদা রেখা ও শ্রমের যোগান রেখা পরস্পরকে ছেদ করে। তাই বিন্দুতে D₁ ও S, পরস্পর সমান হয় তথা শ্রমবাজারে ভারসাম্য অবস্থা অর্জিত হয়। এক্ষেত্রে শ্রমের ভারসাম্য নিয়োগ 200 একক এবং শ্রমের ভারসাম্য মজুরি 100 একক। কাজেই প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী নির্ণেয় শ্রমের ভারসাম্য মজুরি হলো 100 একক।
উদ্দীপকে প্রদর্শিত চিত্র অনুযায়ী 50 ও 150 টাকা মজুরিতে শ্রমবাজারে যথাক্রমে শ্রমের ঘাটতি ও উদ্বৃত্ত দেখা যাবে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো: শ্রমবাজারে ভারসাম্য মজুরির চেয়ে কম মজুরি হলে শ্রমের ঘাটতি দেখা দেয় এবং মজুরি বৃদ্ধি পায় অন্যদিকে ভারসাম্য মজুরির চেয়ে মজুরি বেশি হলে শ্রমের উদ্বৃত্ত দেখা দেয় এবং মজুরি কমে।
উদ্দীপকের চিত্রে লক্ষ করা যায়, 50 টাকা মজুরিতে শ্রমের চাহিদা ও যোগান যথাক্রমে 300 একক ও 100 একক। ফলে শ্রমের চাহিদার চেয়ে শ্রমের যোগান কম হওয়ায় শ্রমবাজারে শ্রমের (300-100) বা 200 একক ঘাটতি দেখা দেয়। আবার মজুরি 150 হলে শ্রমের চাহিদা ও যোগান যথাক্রমে 100 একক ও 300 একক হয়। এক্ষেত্রে শ্রমের চাহিদার চেয়ে শ্রমের যোগান বেশি হয়। ফলে শ্রমবাজারে (300-100) বা 200 একক শ্রম উদ্বৃত্ত থাকে।
আবার, 50 টাকা মজুরিতে D₁ > S₁ হওয়ায় শ্রমবাজারে ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। একইভাবে 150 টাকা মজুরিতে D₁ < S₁ হওয়ায় শ্রমবাজারে ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই পরিশেষে বলা যায়, 50 টাকা ও 150 টাকা উভয় মজুরিতে শ্রমবাজারের ভারসাম্য পরিস্থিতি বিঘ্নিত হবে।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allউৎপাদন কাজে ব্যবহৃত মানুষের সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমকে অর্থনীতিতে শ্রম বলে।
শ্রমের গতিশীলতা বলতে শ্রমিকের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে, এক পেশা থেকে অন্য পেশা গ্রহণ, কিংবা একই পেশায় এক স্তর থেকে অন্য স্তরে উন্নীত হওয়াকে বোঝায়।
একজন শ্রমিক তার নিজস্ব প্রয়োজন এবং স্বার্থে এক পেশা থেকে অন্য পেশা গ্রহণ, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন, একই কাজে এক শিল্প থেকে অন্য শিল্পে গমন করতে পারে। এ ধরনের পরিবর্তনই হলো শ্রমের গতিশীলতা। যেমন- একজন শ্রমিক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি থেকে ঔষধের ফ্যাক্টরিতে কাজ নিতে পারে, আবার চট্টগ্রামের শ্রমিক ঢাকায় গিয়ে কাজ করতে পারে।
উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে আফসার দম্পত্তির শ্রমের যোগান রেখা নিচে অঙ্কন করা হলো-

প্রদত্ত সূচিতে লক্ষ করা যায়, আফসার এবং তার স্ত্রী প্রতি ঘণ্টায় ২৫ টাকা মজুরিতে ১৬ ঘণ্টা শ্রম প্রদান করে। যা চিত্রের ও বিন্দু দ্বারা দেখানো
হয়েছে। একইভাবে মজুরি ৪০ টাকা, ৬০ টাকা, ৭৫ টাকা এবং ১০০ টাকা হলে তারা যথাক্রমে ২০ ঘণ্টা, ২৪ ঘণ্টা, ২০ ঘণ্টা এবং ১৮ ঘণ্টা শ্রম প্রদান করে। যা চিত্রে যথাক্রমে b, c, d এবং বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত। এখন প্রাপ্ত a. b, c, d ও বিন্দুগুলো যোগ করে SLSL শ্রমের যোগান রেখা পাওয়া যায় যা সাধারণ যোগান রেখার মতো না হয়ে পশ্চাৎমুখী হয়েছে।
মজুরি বেড়ে যাওয়ায় যদি শ্রমিক মনে করে তার জীবনে পূর্বের চেয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বেড়েছে, তবে সে অধিক বিশ্রামের প্রতি মনোযোগী হয়। এ
কারণেই শ্রমের যোগান রেখার সাথে অন্যান্য পণ্যের যোগান রেখার ভিন্নতা লক্ষ করা যায়।
সাধারণত, মজুরির সাথে শ্রমের যোগানের সম্পর্ক সমমুখী। তাই শ্রমের যোগান রেখা অন্যান্য পণ্যের যোগান রেখার মতো ঊর্ধ্বগামী। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট মজুরিতে যদি শ্রমিকরা সন্তুষ্ট থাকে কিংবা মনে করে পূর্বের চেয়ে তাদের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে, তাহলে ঐ নির্দিষ্ট মজুরির পর আরও মজুরি বাড়লে শ্রমের যোগান বৃদ্ধি না পেয়ে বরং হ্রাস পায়। যার ফলশ্রুতিতে পশ্চাৎগামী যোগান রেখার সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, আফসার এবং তার স্ত্রী 'আজাদ ফেব্রিক্স' নামক একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে। কাজের প্রথম দিকে মজুরি বাড়ানো। হলে কাজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। যেমন- মজুরি ২৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা হলে শ্রমঘণ্টা ১৬ থেকে বেড়ে ২০ হয়। আর ৬০ টাকা মজুরিতে শ্রমের যোগান ২৪ ঘণ্টা হয়। এরপর মজুরি আরও বাড়লে শ্রমের যোগান হ্রাস পেতে থাকে। ফলে শ্রমের যোগান রেখা পশ্চাৎদিকে বেঁকে যায়।
শ্রম হলো একটি জীবন্ত উপাদান। অর্থাৎ শ্রম ও শ্রমিক একই সূত্রে গাঁথা। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের আয় বাড়লে সে বিশ্রাম ও বিনোদনের প্রতি মনোযোগী হয়। এর ফলে মজুরি বাড়ানো হলেই অন্যান্য পণ্যের মতো যোগান বাড়তে থাকে না। বরং তা একটি নির্দিষ্ট মজুরির পর কমতে থাকে। সুতরাং বলা যায়, মজুরির হার বাড়ানোর পর শ্রমিকরা অধিক মজুরিতে সন্তুষ্ট থাকায় শ্রমের যোগান রেখা পশ্চাৎগামী হয়।
উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত মানুষের সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমকে অর্থনীতিতে শ্রম বলে।
শ্রমের ব্যক্তিগত যোগান রেখা পশ্চাৎমুখী হয় কারণ মজুরি ও শ্রমের যোগানের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিরাজ করে।
শ্রমের মজুরি বাড়লে একজন শ্রমিক বেশি শ্রম দেয়। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মজুরি বৃদ্ধির সাথে শ্রমের যোগান বাড়বে। একপর্যায়ে মজুরি যখন অধিক হবে তখন শ্রমিক আরাম-আয়েশে মনোনিবেশ করবে। তখন শ্রমিক শ্রমঘণ্টা কমিয়ে বিশ্রামের সময় বাড়ালে শ্রমের যোগান হ্রাস পায়। তাই দেখা যায়, প্রথম অবস্থায় শ্রমের মজুরি ও যোগানের মধ্যে সমমুখী সম্পর্ক বিরাজ করলেও একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ মজুরি বৃদ্ধির পর, মজুরি ও শ্রমের যোগানের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিরাজ করে। এ কারণে শ্রমের ব্যক্তিগত যোগান রেখা পশ্চাৎমুখী হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
