বারিপাম্প একটি লো-লিফট পাম্প। এটি একটি আধুনিক সেচ প্রযুক্তি।
বাংলাদেশে খাঁচায় তেলাপিয়া, নাইলোটিকা ও কার্পজাতীয় মাছ চাষ করা যায়। তবে খাঁচা বড় হলে পাঙ্গাস মাছও চাষ করা যায়।
চিত্রের প্রযুক্তিটি হলো খাঁচায় মাছ চাষ। এ প্রযুক্তিটি বাস্তবায়নের জন্য স্রোতহীন বা কম স্রোতের জলাশয় যেমন- নদী-নালা, হাওর, খাল-বিলে উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণ করতে হবে। নির্ধারিত জায়গায় খাঁচা বসানোর জন্য প্রথমে খাঁচা তৈরি করে নিতে হবে। খাঁচা তৈরির প্রথমেই চারদিকে চারটি খুঁটি দিয়ে এবং আড়াআড়ি বাঁশ বেঁধে খাঁচার আয়তাকার কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর খাঁচার কাঠামোর চারদিকে এবং উপরে নিচে জাল দ্বারা আবৃত করে খাঁচা তৈরি করা হয়। পরে খাঁচাটি তুলে নিয়ে নির্ধারিত স্থানের মাটিতে শক্ত করে বাঁশের খুঁটি পুঁতে এর সাথে খাঁচা বেঁধে দিতে হয়। খাঁচার উপরের দিকে মাছের খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়। খাঁচা ছোট, মাঝারি ও বড় রকমের হতে পারে। ছোট আকারের খাঁচার মাপ হচ্ছে দৈর্ঘ্য ৩ মিটার, প্রস্থ ২ মিটার এবং গভীরতা ২ মিটার। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে মাছ চাষের জন্য খাঁচার আকার এর চেয়েও দ্বিগুণ বা তিনগুণ আকারের হতে পারে। মাছের খাঁচা যে শুধু আয়তাকার হবে তা নয়। আবার গোলাকারও হতে পারে। লম্বা বাঁশের ফ্রেম বানিয়ে এর সাথে ঘন ছিদ্রযুক্ত নেট বা জাল লাগিয়ে অনেকগুলো খোপের মাছের খাঁচা তৈরি করা যায়। বিভিন্ন খোপে বিভিন্ন মাছের চাষ করা যেতে পারে।
বাংলাদেশে জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে মাছের চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু সে অনুযায়ী মাছের উৎপাদন বাড়ছে না, বরং কমছে। মাছের অভাবে মানুষের আমিষের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। একসময় বলা হতো- "মাছে-ভাতে বাঙালি"। মাছের অভাবে এ প্রবাদও আজ মিথ্যে হয়ে গেছে। এ অবস্থায় দেশের মাছের চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজন মাছচাষের সব ধরনের প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার করে মাছের - উৎপাদন বাড়ানো। মাছ চাষের এরকমই একটি প্রযুক্তি হলো খাঁচায় মাছ চাষ। যেসব এলাকায় নদী-নালা, হাওর, খাল-বিল আছে কিন্তু * পুকুর নেই সেসব এলাকার কৃষকরা এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছ চাষ করতে পারেন। বিশেষ করে ভূমিহীন ও সচ্ছল কৃষকেরা যারা নদীর তীর, হাওর, বিল বা উপকূল অঞ্চলে বাস করেন তারা খাঁচায় মাছ চাষের এ সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন। এভাবে মাছ চাষের মাধ্যমে একদিকে যেমন তারা পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে পারবে, অন্যদিকে চাষকৃত মাছ বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বাংলাদেশে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে খাঁচায় মাছ চাষ প্রযুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সাথে এ প্রযুক্তি ভূমিহীন ও দরিদ্র কৃষকদের আর্থিক সচ্ছলতা আনতে ভূমিকা রাখতে পারে।
Related Question
View Allকৃষি কাজ করার জন্য যেসব ধারণা, পদ্ধতি, যন্ত্র বা জিনিসপত্র ব্যবহার করা হয় সেগুলোই হচ্ছে কৃষি প্রযুক্তি।
আধুনিক প্রযুক্তি কৃষি ক্ষেত্রের কার্যক্রমকে সহজতর করে তুলছে। যেমন- আগে জমি চাষে দেশি লাঙল ব্যবহার করা হতো। যাতে সময় ও শ্রম দুটোই বেশি লাগত। কিন্তু বর্তমানে জমি চাষে ব্যবহার হচ্ছে ট্রাকটর। যার মাধ্যমে অল্প সময়ে অনেক বেশি জমি চাষ করা যাচ্ছে। আবার ফসল কাটার যন্ত্র, মাড়াই যন্ত্র ব্যবহার করে অল্প সময়ে সব কাজ. শেষ করা যাচ্ছে। এভাবে কৃষি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার সময়ের অপচয় রোধ করছে।
কাশিমপুর গ্রাম একটি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিনির্ভর গ্রাম। এর মানে এ গ্রামের কৃষকরা তাদের কৃষিকাজের প্রতিটি ধাপে আধুনিক কলাকৌশল ব্যবহার করে চাষাবাদ করে থাকে। যেমন- জমিতে সময়মতো সার প্রয়োগ, জমিচাষে ট্রাকটর ব্যবহার, উন্নতজাতের বীজ ব্যবহার, ফসল কাটা ও মাড়াই-ঝাড়াই যন্ত্র ব্যবহার ইত্যাদি। কৃষি কাজে আধুনিক এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এ গ্রামের কৃষকরা- ফসল চাষের প্রতিটি। ক্ষেত্রে প্রতিটি নিয়মাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে সক্ষম হচ্ছেন। যা ফসল চাষ করে সর্বোচ্চ ফলন লাভের মূল বিষয়। কাশিমপুর গ্রামের কৃষকদের বেশি ফলন লাড়ের কারণ এটাই।
রাসেল সাহেব একজন কৃষিকর্মকর্তা। তিনি লক্ষ করেছেন হরিপুর গ্রামের কৃষকরা কৃষিকাজে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে না। এ কারণে তারা ফসলের ফলনও আশানুরূপ পান না। পক্ষান্তরে কাশিমপুর গ্রামের কৃষকরা কৃষিকাজে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ফলন লাভে সক্ষম হচ্ছে। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে রাসেল সাহেব হরিপুর গ্রামের কৃষকদের জন্য উঠোন বৈঠকের আয়োজন করেন এবং তাদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সুবিধা সম্পর্কে অবহিত করেন। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিকাজ সহজ হয়ে উঠবে; প্রত্যাশামাফিক ফলন পাওয়া যাবে-এ বিষয়গুলো হাতে-কলমে দেখানোর জন্য তিনি হরিপুর গ্রামের কৃষকদের নিয়ে কাশিমপুর গ্রামে যান এবং সরেজমিনে আধুনিক প্রযুক্তির কার্যক্রম দেখান।
হরিপুর গ্রামের কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর করার জন্য রাসেল সাহেবের এ উদ্যোগ একটি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পন্থা। যেকোনো গ্রাম বা এলাকাকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনার জন্য এ ধরনের উদ্যোগ খুবই কার্যকর হবে। রাসেল সাহেবের উদ্যোগটি হরিপুর গ্রামকেও আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর করে তুলতে সক্ষম হবে। এ গ্রামের কৃষকরাও ফসল চাষ করে সর্বোচ্চ ফলন লাভে সক্ষম হবে।
ভালো বীজের রং স্বাভাবিক হবে।
উন্নত জাতের বীজ বলতে এমন বীজকে বুঝায় যা সকল ধরনের দোষ ও মিশ্রণমুক্ত এবং পরিষ্কার, পুষ্ট ও স্বাভাবিক আকারের হয়ে থাকে। উন্নত জাতের বীজে যদি সামান্য পরিমাণেও অন্য কিছুর মিশ্রণ থাকে তবে সে বীজকে আর উন্নত জাতের বীজ বলা যাবে না। এ মিশ্রণ উন্নতজাতের বীজের গুণকে নির্গুণ করে দেয়। এ বীজ দিয়ে আর ভালো ফসল উৎপাদন সম্ভব হয় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
