জোয়ারভাটার সময় তীরভূমির যে স্থানের মধ্যে পানি ওঠানামা করে, তাকে তটদেশীয় অঞ্চল বলে।
পৃথিবীর মহাদেশগুলোর চতুর্দিকে স্থলভাগে কিছু অংশ সামান্য ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানির মধ্যে পতিত হয়েছে। এভাবে সমুদ্রের উপকূলরেখা থেকে তলদেশের দিকে ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে বলা হয় মহীসোপান। স্থলভাগের উপকূলীয় অঞ্চল নিমজ্জিত হওয়ার কারণে অথবা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার পার্থক্যের কারণে মহীসোপান সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' ও 'খ' ভূমিরূপ দুটো হলো সমুদ্রের তলদেশের মহীসোপান ও মহীঢাল।
স্থলভাগের মতো সমুদ্র তলদেশেও রয়েছে বৈচিত্র্যপূর্ণ বহু অমসৃণ ভূভাগ। সমুদ্র তলদেশের এসব বৈচিত্র্যপূর্ণ অমসৃণ ভূভাগের মধ্যে মহীসোপান ও মহীঢাল অন্যতম দুটি ভূমিরূপ। মহীসোপান ও মহীঢালের মধ্যে অমিলগুলো নিম্নরূপ:
- মহাদেশের বাইরের দিকের নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বলে। অন্যদিকে মহীসোপানের শেষ প্রান্ত হতে ভূভাগ হঠাৎ খাড়াভাবে নেমে গেছে। এ ঢালু অংশকে বলা হয় মহীঢাল।
- মহীসোপানের বৈশিষ্ট্য পার্শ্ববর্তী স্থলভাগের ভূপ্রকৃতির ও গঠনের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। অন্যদিকে, মহীঢালের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অগণিত আন্তঃসাগরীয় গিরিখাতের অবস্থান।
- মহীসোপান সমুদ্রের দিকে ঢালু হওয়ায় যথেষ্ট প্রশস্ত। পক্ষান্তরে, মহীঢাল অনেক খাড়া হওয়ার কারণে যথেষ্ট প্রশস্ত নয়।
- মহীসোপান অবক্ষেপ সঞ্চিত হয়ে কালক্রমে পাললিক শিলার সৃষ্টি হয়। পক্ষান্তরে, মহীঢালে জলজ প্রকৃতির উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর দেহাবশেষ জমা হয়ে থাকে
- মহীসোপানের উপরিভাগ সমতল। পক্ষান্তরে, মহীঢালের উপরিভাগ সমান নয়।
উদ্দীপকের চিত্রের ভূমিরূপগুলো বঙ্গোপসাগরের তলদেশের ভূমিরূপ।
বঙ্গোপসাগরের তলদেশের ভূমিরূপগুলোতে রয়েছে নানা ধরনের সম্পদ। মৎস্য সম্পদের মধ্যে লাক্ষা, রূপচান্দা, চিংড়ি, গলদা চিংড়ি, হাঙ্গর, বোয়াল, কোরাল, ইলিশ প্রচুর পরিমাণে ধৃত হয়। বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলো নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার মৎস্য রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। ফলে এ সাগরের তীরবর্তী ভগ্ন উপকূলরেখায় বহু মৎস্য বন্দর গড়ে ওঠায় হাজার হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।
এছাড়া বঙ্গোপসাগরের তলদেশ খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার হিসেবেও প্রসিদ্ধ। ইদানীং বাংলাদেশের উপকূলীয় মহীসোপান অন্যলে প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের ভাণ্ডারের সন্ধান পাওয়া গেছে। এছাড়া এ সাগরের অনেক স্থানে বহু মূল্যবান লোহা, সিসা, তামা, মলিবডেনাম ইত্যাদিও পাওয়া যায়। এ সাগরের তলদেশের জলমগ্ন পাহাড় ও শৈলশিরা না থাকায় বাধাহীনভাবে সমুদ্রগামী জাহাজগুলো নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। এতে এ সমুদ্রের উপকূলবর্তী দেশগুলোর সাথে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্যের ব্যাপক উন্নতি ও প্রসার ঘটেছে।
উপর্যুক্ত বর্ণনা হতে এটাই পরিলক্ষিত হয় যে, মানুষের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পদ সরবরাহের জন্য বঙ্গোপসাগরের তলদেশ বিপুল সম্ভাবনাময়। কাজেই মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বঙ্গোপসাগরের তলদেশের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
Related Question
View Allমহাদেশসমূহের বাইরে সমুদ্রের উপকূল রেখা থেকে তলদেশের দিকে ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশই মহীসোপান।
সমুদ্রের গভীরে গর্তসদৃশ বিষয়টি গভীর সমুদ্রখাত নামে পরিচিত। গভীর সমুদ্রের সমভূমি অঞ্চলের l
পাশাপাশি অবস্থিত মহাদেশীয় ও সামুদ্রিক পাতের সংঘর্ষের ফলে সমুদ্রখাতের উদ্ভব হয় বিধায় প্রতিটি গভীর সমুদ্রখাত পাত সীমানায় অবস্থিত। এ পাত সীমানায় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি অধিক হয় বলেই এসব খাত সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত জলভাগটি হলো বঙ্গোপসাগর। বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত যার ভূমিরূপ বৈচিত্র্যপূর্ণ।
বঙ্গোপসাগরের মহীঢাল এলাকায় খাড়া ঢাল বিশিষ্ট অবস্থানজনিত একটি গভীর নিমগ্ন খাত রয়েছে। এটি প্রায় ১২ কিমি. চওড়া এবং প্রায় ১২৭০ মিটার গভীর। এছাড়া প্রচন্ড ঢেউয়ের প্রভাবে পলল মহীসোপান জমা হয়ে চরাভূমি গঠন করে।
বঙ্গোপসাগরে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড নামে একটি গভীর গিরিখাত; ৯০ ডিগ্রি পূর্ব শৈলশিরা, মায়ানমার ও চ্যাগোস পূর্ব উপকূলীয় সমুদ্রখাত ও কতিপয় নিমজ্জিত চরাভূমি। বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানের গভীরতা সর্বত্র ২০০ মিটারের কম। দক্ষিণ-পূর্বাংশের মহীসোপান খুবই চওড়া।
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত জলভাগটি হলো বঙ্গোপসাগর। নিচে বঙ্গোপসাগরের তলদেশের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হলো-
বঙ্গোপসাগরের তলদেশ নানা ধরনের সম্পদে সমৃদ্ধ। এ সাগরের তলদেশ খনিজ সম্পদ ও প্রাকৃতিক গ্যাসে সমৃদ্ধশালী। সম্প্রতি বাংলাদেশের উপকূলীয় মহীসোপান অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাস ও প্রচুর খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে।
সাগরের অনেক স্থানে আবার মূল্যবান লোহা, সিসা, তামা ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। মৎস্য সম্পদেও এ এলাকা সমৃদ্ধশালী। এখানকার মৎস্য সম্পদের মধ্যে লাক্ষা, রূপচান্দা, চান্দা, চিংড়ি, গলদা চিংড়ি, হাঙ্গর, কোরাল, বোয়াল, ইলিশ প্রভৃতি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। নিজেদের চাহিদা মিটিয়েও প্রচুর পরিমাণে বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
তটদেশীয় অঞ্চলের পর হতে মহীসোপানের প্রান্ত পর্যন্ত অঞ্চলকে ঝিনুক অঞ্চল বলে।
পানি ছাড়া জীবজগতের অস্তিত্ব সম্ভব নয়, তাই জীবজগতে পানিচক্রের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীবজগতের ওপর পানিচক্র প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখে। পানিচক্রের প্রক্রিয়া সংঘটিত হয় সূর্যের তাপশক্তি দ্বারা। বাষ্পীভবন ও বর্ষণ একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। বাষ্পীভবন বেশি হলে বৃষ্টিপাত বেশি হবে। এ বৃষ্টিপাত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ও জীজগতের ওপর প্রভাব রাখে। তাই বলা যায়, জীবজগতে পানিচক্রের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
