সাদৃশ্যানুমানের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Analogy।
সাদৃশ্যানুমানের দুটি বৈশিষ্ট্য নিচে উল্লেখ করা হলো-
- সাদৃশ্যানুমান এক ধরনের প্রকৃত আরোহ অনুমান। কেননা বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক আরোহের মতো এ ধরনের অনুমানেও জ্ঞাত সত্য থেকে অজ্ঞাত সত্যে পৌঁছার চেষ্টা করা হয়ে থাকে, অর্থাৎ আরোহের অন্যতম বৈশিষ্ট্য আরোহমূলক লম্ফটি এর মধ্যে বর্তমান।
সাদৃশ্যানুমানের প্রকৃতি আলোচনা করলে দেখা যায়, এ শ্রেণির অনুমান সর্বদাই বিশেষ থেকে বিশেষে যায়। তাই এ প্রকারের অনুমানকে অসম্পূর্ণ আরোহ অনুমান বলে।
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি পাঠ্যসূচির সাদৃশ্যানুমান বিষয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ। নিচে তা আলোচনা করা হলো-
মিল সাদৃশ্যমূলক অনুমানকে প্রকৃত আরোহ অনুমান বলে উল্লেখ করেন। তিনি এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, দুটি বস্তুর মধ্যে এক বা একাধিক বিষয়ে যদি সাদৃশ্য থাকে এবং কোনো একটি যৌক্তিক উক্তি বস্তু দুটির একটি সম্পর্কে যদি সত্য হয়, তাহলে সেই উক্তি অন্য বস্তুটি সম্পর্কেও সত্য হবে। যুক্তিবিদ বেইন বলেন, অনুমান প্রক্রিয়ার একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি হিসেবে সাদৃশ্যমূলক অনুমানকে মনে করা হয়, দুটি বস্তুর মধ্যে কতগুলো বিষয়ে মিল থাকলে তাদের মধ্যে অন্য কোনো বিষয়েও মিল থাকতে পারে। প্রসঙ্গত বলতে হয়, এরূপ সাদৃশ্য নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বেইন অবশ্য কোনোরকম কার্যকারণ সম্বন্ধের প্রভাবের কথা অস্বীকার করেননি।
যুক্তিবিদ ওয়েলটন এর মতে, সাদৃশ্যমূলক অনুমান হলো বিষয়ের আংশিক অভিন্নতা থেকে আরও অধিকতর অভিন্নতায় উপনীত হওয়ার পদ্ধতি; অর্থাৎ দুটি বিষয়ের মধ্যে কতগুলো বিষয়ে আংশিকভাবে অভিন্নতা রয়েছে। সুতরাং এ থেকে আমরা দুটি বিষয় সম্পর্কে আরও অধিকতর একটি অভিন্নতায় পৌছাতে পারি।
কার্ভেথ রিড বলেন, উপমার উপাত্ত (Data) এবং অনুমানের বিষয়বস্তুর মধ্যে অসম্পূর্ণ সাদৃশ্যের উপর নির্ভর করে যে সম্ভাবনামূলক অনুমান করা হয়, তাকেই সাদৃশ্যমূলক অনুমান বলে। অর্থাৎ কার্ডেথ রিড এর সংজ্ঞাটি এ শ্রেণির অনুমানের বিষয়টিকে প্রচুর পরিমাণে সম্ভাবনামূলক করে তুলেছে।
উপরে উল্লিখিত সংজ্ঞাগুলোকে বিশ্লেষণ করার প্রেক্ষিতে বলা যায়, দুটি বস্তু বা ঘটনার মধ্যে একটিতে যদি সাধারণভাবে বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট্য উপস্থিত থাকে, তবে অন্যটিতে সেই সাধারণ বৈশিষ্ট্য উপস্থিত থাকবে বলে যে অনুমান করা হয়, তাকেই সাদৃশ্যমূলক অনুমান বলে। যেমন:
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের বর্ণিত বিষয়টি আলোচনা করলে সাদৃশ্যানুমান সম্বন্ধে যথার্থ ধারণা পাওয়া যাবে।
উদ্দীপকের আলোকে বৈজ্ঞানিক আরোহের সাথে সাদৃশ্যানুমানের তুলনা নিচে বর্ণনা করা হলো-
সাদৃশ্যানুমান ও বৈজ্ঞানিক আরোহ উভয়ই আরোহের শাখা। উভয় পদ্ধতিতেই প্রকৃত আরোহাত্মক উল্লম্ফন আছে। কেননা উভয় পদ্ধতিতেই আমরা জানা থেকে অজানায় গমন করি। উভয় পদ্ধতির মধ্যে যেমন পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়, তেমনি উভয়ের মধ্যে সাদৃশ্যও রয়েছে। সাদৃশ্যগুলো হলো, সাদৃশ্যমূলক অনুমান যেমন প্রকৃত আরোহ তেমনি বৈজ্ঞানিক আরোহও প্রকৃত আরোহ। সাদৃশ্যমূলক অনুমান ও বৈজ্ঞানিক আরোহ উভয়ের মধ্যেই আরোহের প্রাণ হিসেবে আরোহমূলক লম্ফ বর্তমান, অর্থাৎ উভয়ই জানা থেকে অজানায় গমন করে। উভয় পদ্ধতিতেই বাস্তব ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং কতগুলো সাদৃশ্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়ে থাকে। সাদৃশ্যানুমান ও বৈজ্ঞানিক আরোহের মূল উদ্দেশ্য থাকে সিদ্ধান্তকে বস্তুগত সত্য হিসেবে স্থাপন করা, অর্থাৎ বস্তুগত সত্য উভয় অনুমানের লক্ষ্য।
সুতরাং বৈজ্ঞানিক আরোহের সাথে সাদৃশ্যানুমানের তুলনা পর্যালোচনা করে বলা যায়, উভয়ের গুরুত্ব অপরিসীম।
Related Question
View Allদুটি বস্তুর মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে সাদৃশ্য লক্ষ করে যদি অনুমান করা হয়, তাদের একটি বিশেষ গুণের অধিকারী বলে অপরটিও ওই গুণের অধিকারী হবে, তাহলে যে অনুমান করা হয় তার নাম সাদৃশ্যানুমান।
প্রকৃত আরোহে আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের মাঝে এমন কিছু ফাঁক বা ব্যবধান থাকে, যা অন্ধের মতো ঝুঁকি নিয়ে অতিক্রম করাই হলো প্রকৃত আরোহের প্রধান বৈশিষ্ট্য। প্রকৃত আরোহে এরূপ ব্যবধানে অতিক্রমের প্রক্রিয়াকেই আরোহাত্মক লম্ফ বলে। উদাহরণস্বরূপ, রহিম, করিম, যদু, মধু, জন, ডন প্রমুখ মানুষের মৃত্যুর অভিজ্ঞতা থেকে আমরা এক বিরাট ব্যবধান অতিক্রম করে অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যতের সব মানুষের মরণশীলতা সম্পর্কে যে সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি, তা আরোহমূলক লম্ফের উপর নির্ভর করেই সম্ভব হয়।
উদ্দীপকে স্বাগত আরোহ যুক্তিবিদ্যা বইয়ে যে আরোহ সম্পর্কে জেনেছে, তা হচ্ছে বৈজ্ঞানিক আরোহ। কারণ আরোহের যত প্রকারভেদ রয়েছে, তাদের মধ্যে একমাত্র বৈজ্ঞানিক আরোহে আরোহের সব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে। তাই একে প্রকৃত আরোহ বলা হয়ে থাকে। বৈজ্ঞানিক আরোহের বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে-
◇পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতি;
◇ আরোহমূলক লম্ফ;
◇সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য;
◇বাস্তবভিত্তিক অভিজ্ঞতা;
◇প্রকৃতি নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ সম্পর্ক;
◇ আকারগত ও বস্তুগত সত্যতা; ◇ সর্বদা নিশ্চিত সিদ্ধান্ত;
◇ বিশেষ বিশেষ ঘটনা পর্যবেক্ষণ।
এসব বৈশিষ্ট্য থেকে বলা যায়, এখানে একটি আরোহের যতগুলো বৈশিষ্ট্য থাকলে তাকে প্রকৃত আরোহ বলা যায়, তার সব বৈশিষ্ট্যই বৈজ্ঞানিক আরোহের মধ্যে বিদ্যমান থাকে। এমনকি একমাত্র সঠিকভাবে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত কেবল বৈজ্ঞানিক আরোহই দিতে পারে। তাই এটি একটি প্রকৃত আরোহ।
উদ্দীপকে স্বাগতের বন্ধু যে জ্যামিতিক চিত্র দেখেছে, তা আরোহ যুক্তিবিদ্যার যুক্তিসাম্যমূলক আরোহের বিষয়বস্তু। কারণ একমাত্র যুক্তিসাম্যমূলক আরোহে জ্যামিতিক চিত্র ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তাই একে জ্যামিতিক আরোহ বলেও আখ্যায়িত করা হয়।
এ প্রকার অনুমানে একটি মাত্র দৃষ্টান্তের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত টানা হলেও এর সিদ্ধান্ত সচরাচর নিশ্চিত। যে যুক্তি দিয়ে একটি সার্বিক বাক্যের অন্তর্গত কোনো একটি বিশেষ ঘটনাকে প্রমাণ করা যায়, সেই একই যুক্তি দিয়ে তার অন্তর্গত সমশ্রেণিভুক্ত অন্যান্য বিশেষ ঘটনাকে প্রমাণ করা যায়- এই নীতির উপর নির্ভর করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত স্থাপন করার প্রক্রিয়াকে যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ বলে। যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ জ্যামিতির ক্ষেত্রেই বেশি প্রযোজ্য। এখানে জ্যামিতির সূত্র ব্যবহার করে যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ যুক্তি গঠন করে তা নিচে জ্যামিতিক চিত্রে তুলে ধরা হলো-
কোনো জ্যামিতিক প্রমাণে আমরা প্রথমে কোনো প্রদত্ত চিত্রের বৈশিষ্ট্য বা গুণকে প্রমাণ করি এবং তারপর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, প্রদত্ত চিত্রটিতে প্রমাণিত বৈশিষ্ট্য সেই একই শ্রেণির চিত্রের ক্ষেত্রেও সত্য হবে। যেমন: আমরা জানি, ত্রিভুজের তিনটি কোণের সমষ্টি দুই সমকোণের সমান; অর্থাৎ ১৮০০। এটি একটি জ্যামিতিক সূত্র। ত্রিভুজের তিনটি কোণ ABC নামক ত্রিভুজ অঙ্কন করে যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করি, ত্রিভুজের তিনটি কোণ মিলে ১৮০° হয়। অনুরূপ যুক্তি দিয়ে আমরা সার্বিককরণ করে বলতে পারি যে X, Y, Z কিংবা A, B, C। অর্থাৎ সব ত্রিভুজের তিন কোণের সমষ্টি দুই সমকোণের সমান।
কার্যকারণ নিয়মের অর্থ হলো, প্রত্যেক কার্য বা ঘটনার একটি কারণ আছে। কোনো ঘটনার আগে যা ঘটে তাকে কারণ বলে। আর সেই ঘটনার পরে যা ঘটে তাকে কার্য বা ফল বলে। কারণ ছাড়া কার্য বা ফল হয় না, বিনাকারণে কোনো ঘটনা ঘটে না, নিছক শূন্য (০) থেকে কোনো কিছুর সৃষ্টি হয় না। শূন্য থেকে শুধু শূন্য পাওয়া যায়। পৃথিবীতে এমন কোনো ঘটনা নেই, যার কোনো কারণ নেই; প্রতিটি ঘটনাই কার্যকারণে আবদ্ধ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!