মনোপসনি বাজার হলো এমন এক ধরনের বাজার, যেখানে বিক্রেতার সংখ্যা বেশি হলেও ক্রেতা একজন।
পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে দাম (P), গড় আয় (AR) ও প্রান্তিক আয় (MR) পরস্পর সমান হওয়ায় গড় আয় ও প্রান্তিক আয় রেখা ভূমি অক্ষের সমান্তরাল হয়। যেমন- একটি ফার্ম (একজন কৃষক) গম উৎপাদন ও বিক্রি করে। গমের সামগ্রিক বাজারে গমের দাম নির্দিষ্ট থাকে। আর এই নির্দিষ্ট দাম (ভারসাম্য দাম) বাজার চাহিদা ও বাজার যোগানের সমতা দ্বারা নির্ধারিত হয়। এই দাম পূর্ণ প্রতিযোগী শিল্পের অধীনে সকল ফার্মের জন্য প্রযোজ্য। উক্ত দাম মেনে নিয়ে একটি ফার্ম যতটা গম বিক্রি করতে চায়, ততটাই তার পক্ষে সম্ভব। যেহেতু ভারসাম্য দাম ফার্ম মেনে নেয় এবং দামের উপর কোনো প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা রাখে না তাই পূর্ণ প্রতিযোগী ফার্মের উৎপন্ন দ্রব্যের চাহিদা রেখা তথা গড় আয় = প্রান্তিক আয় রেখা ভূমি অক্ষের সমান্তরাল হয়।
উদ্দীপকের প্রদর্শিত চিত্র হতে ফার্মের অস্বাভাবিক মুনাফার পরিমাণ নির্ণয় করা যায়।
পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ভারসাম্য অবস্থায় ফার্মের প্রান্তিক আয় (MR) ও প্রান্তিক ব্যয় (MC) সমান হয় এবং MR রেখার ঢাল অপেক্ষা MC রেখার ঢাল বেশি হয়।
প্রদর্শিত চিত্রে লক্ষ করা যায়, ফার্মটির গড় ব্যয় (AC) রেখা বিন্দুতে প্রান্তিক আয় (MR) রেখাকে নিচের দিক থেকে ছেদ করেছে। ফলে বিবিন্দুতে MR = MC এবং MR রেখার ঢাল অপেক্ষা MC রেখার ঢাল বেশি। কাজেই ফার্মটি বিন্দুতে ভারসাম্য অর্জন করে। এ অবস্থায় ভারসাম্য দাম ও পরিমাণ যথাক্রমে টাকা ও একক। এই ভারসাম্য পরিমাণএককে ফার্মটির গড় ব্যয় টাকা। কাজেই
ফার্মটির মোট আয় (TR) = দাম উৎপাদনের পরিমাণ
মোট ব্যয় (TC) = গড় ব্যয় উৎপাদনের পরিমাণ
মুনাফা (n) = TR-TC =
অর্থাৎ, TR > TC হওয়ায় ফার্মটি টাকা অস্বাভাবিক মুনাফা অর্জন করে। যা ছায়াবৃত্ত অঞ্চল দ্বারা বেষ্টিত
প্রদত্ত চিত্রে প্রদর্শিত মুনাফা তথা অস্বাভাবিক মুনাফাই স্বল্পকালে পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে একটি ফার্ম সর্বদা অর্জন করে না।
পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে অস্বাভাবিক মুনাফা অর্জন ছাড়াও স্বাভাবিক মুনাফা কিংবা ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। ভারসাম্য অবস্থায় স্বল্পকালে একটি ফার্মের গড় ব্যয় গড় আয়ের চেয়ে বেশি হয়, তখন ফার্মটি ক্ষতির সম্মুখীন হয়। আর যখন AR = AC হয়, তখন ফার্মটি স্বাভাবিক মুনাফা অর্জন করে।

উদ্দীপকে প্রদর্শিত চিত্রে লক্ষ করা যায়, স্বল্পকালে ভারসাম্য অবস্থায় ফার্মটির গড় আয় (AR) অপেক্ষা গড় ব্যয় (AC) কম হওয়ায় ফার্মটি অস্বাভাবিক মুনাফা অর্জন করে। এখন যদি। নং চিত্রের মতো ফার্মটির AR ও AC পরস্পর সমান হতো তাহলে ফার্মটি স্বাভাবিক মুনাফা অর্জন করতো। আবার II চিত্রের ন্যায় যদি AR < AC হতো, তাহলে ফার্মটিকে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতো। তাই পরিশেষে বলা যায়, প্রদত্ত চিত্রে প্রদর্শিত মুনাফাই শুধু পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারের ফার্ম স্বল্পকালে অর্জন করে না।
Related Question
View Allঅর্থনীতিতে সমজাতীয় দ্রব্য বা সেবা উৎপাদনকারী কোনো একক প্রতিষ্ঠানকে ফার্ম বলা হয়।
একচেটিয়া কারবারে বিবেচ্য দ্রব্যের কোনো নিকট পরিবর্তক না থাকায় বিক্রেতা ইচ্ছা অনুযায়ী দ্রব্যটির দাম নির্ধারণ করতে পারে।
একচেটিয়া কারবারে ফার্মকে দাম সৃষ্টিকারী বলা হয়। সাধারণত একচেটিয়া কারবারে বিক্রয়যোগ্য দ্রব্য কেবল একটিমাত্র ফার্ম দ্বারা উৎপাদিত হয়। তাই একচেটিয়া কারবারি দ্রব্যের যোগান বাড়িয়ে বা কমিয়ে দ্রব্যটির দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এভাবে একচেটিয়া কারবারি তার ইচ্ছা অনুযায়ী দ্রব্যের যোগান পরিবর্তন করে দামের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী প্রাথমিক অবস্থায় ফার্মটির গড় ব্যয় (AC) এর চেয়ে গড় আয় (AR) বেশি হওয়ায় অস্বাভাবিক মুনাফা অর্জিত হয়। নিচে ফার্মটির ভারসাম্য উৎপাদন ও মুনাফার পরিমাণ নির্ণয় করা হলো-

উদ্দীপকে উল্লিখিত তথ্য অনুসারে অঙ্কিত উপরের চিত্রে লক্ষ করা যায়, E বিন্দুতে MC = MR এবং MR এর ঢাল অপেক্ষা MC-এর ঢাল বেশি হয়। ফলে E বিন্দুতে ভারসাম্য অর্জিত হয়। এ অবস্থায় ভারসাম্য উৎপাদনের পরিমাণ OQ, এবং ভারসাম্য দাম OP,। OQ, পরিমাণ উৎপাদনে ফার্মটির গড় ব্যয় হয় OP।। ফলে ফার্মটির
মোট আয়, TR = OPOX OQo
= OPEQO
এবং মোট ব্যয়, TC = OP₁× OQD
= OPFQo
সুতরাং মুনাফা, π = TR – TC
= OPEQ- OPFQo
= POEFP1
অর্থাৎ, প্রাথমিক অবস্থায় ফার্মটির ভারসাম্য উৎপাদন OQ০ এবং মুনাফার পরিমাণ PoEFP, যা পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারের অস্বাভাবিক মুনাফাকে নির্দেশ করে।
বর্ষার সময় ফার্মটির গড় ব্যয় (AC)-এর চেয়ে গড় আয় (AR) কম হওয়ায় ফার্মটি ক্ষতির সম্মুখীন হবে। নিচে তা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-

উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, বর্ষার পানিতে ঘাস ডুবে যাওয়ায় ফার্মটির গড় ব্যয় রেখা AC থেকে উপরে AC, এ স্থানান্তরিত হয়। এতে গড় ব্যয় OP হতে বেড়ে OP₂ হয়। এ অবস্থায় গড় ব্যয় OP: তে ভারসাম্য দাম OP, এর চেয়ে বেশি হয়। ফলে বর্ষার সময় ফার্মটির উৎপাদন OQ, দাম OP, এবং গড় ব্যয় OP₂। সুতরাং-
মোট আয়, TROQX OP
=OPEQ
এবং মোট ব্যয়, TC-OQ OP
x= OPGQ
সুতরাং, মুনাফা, TR-TC
OPEQOP GQ
=-POPGE
সুতরাং ফার্মটির ক্ষতির পরিমাণ PP-GE হবে। এমতাবস্থায় ফার্মটির গড় পরিবর্তনশীল ব্যয় (AVC) যদি গড় আয়ের চেয়ে কম হয়। তবে ফার্মটি ক্ষতি স্বীকার করেও উৎপাদন চালিয়ে যাবে। আর যদি AVC > AR হয়, তবে ফার্মটি উৎপাদন বন্ধ করে দিবে। পরিশেষে বলা যায়, উল্লিখিত ফার্মটি বর্ষার সময় POP-GE পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
অর্থনীতিতে বাজার বলতে নির্দিষ্ট কোনো পণ্যকে বোঝায়, যা ক্রেতা ও বিক্রেতার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ দরকষাকষির মাধ্যমে নির্ধারিত দামে ক্রয়-বিক্রয় হয়।
পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতা একটি সমজাতীয় পণ্য একটি নির্দিষ্ট দামে অবাধে ক্রয়-বিক্রয় করে এবং প্রচলিত দামের ওপর কেউ প্রভাব বিস্তার করতে পারে না বলে একে দামগ্রহীতা বলে। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে চাহিদা ও যোগানের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে পণ্যের দাম নির্ধারিত হয়। এই দামকে মেনে নিয়ে একটি ফার্ম বাজারের মোট যোগানের সামান্য অংশ উৎপাদন ও সরবরাহ করে। বাজারের প্রচলিত দামের ওপর এককভাবে কোনো ফার্ম প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। তাই পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে একটি ফার্মকে দামগ্রহীতা বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!