আলোক এক প্রকার শক্তি বা বাহ্যিক কারণ যা চোখে প্রবেশ করে দর্শনের অনুভূতি জন্মায়।
একগুচ্ছ সমান্তরাল আলোকরশ্মি কোনো পৃষ্ঠে আপতিত হয়ে প্রতিফলনের পর যদি সমান্তরাল থাকে তবে আলোর সে প্রতিফলনকে নিয়মিত প্রতিফলন বলে। প্রতিফলক পৃষ্ঠ মসৃণ হলে এরূপ প্রতিফলন ঘটে। এক্ষেত্রে প্রতিফলিত রশ্মিগুচ্ছ সমান্তরাল থাকে।
উদ্দীপকের চিত্রে OA আপতিত রশ্মি ON অভিলম্বের সাথে ∠AON আপতন কোণ উৎপন্ন করেছে। OA আপতিত রশ্মি ০ বিন্দুতে প্রতিফলনের পর OB পথে প্রতিফলিত হয়েছে। OB রশ্মি ON অভিলম্বের সাথে ∠BON প্রতিফলন কোণ উৎপন্ন করেছে।
এখন উপরের চিত্রানুযায়ী OA রশ্মিকে অভিলম্ব ON এর দিকে সরাতে থাকলে OB রশ্মিও ON এর দিকে সরে আসতে থাকবে। ধরি, OA রশ্মির নতুন অবস্থান ΟA1 ও OA2 ফলে OB রশ্মির নতুন অবস্থান হবে যথাক্রমে OB1 এবং OB2।
প্রতিফলনের সূত্রানুযায়ী আমরা জানি, আপতন কোণ সর্বদা প্রতিফলন কোণের সমান।
অতএব চিত্রানুযায়ী,
∠AON = ∠BON, ∠A1ON = ∠BON এবং ∠A2ON = ∠B2ON হবে।
অর্থাৎ OA রশ্মি ON এর দিকে সরতে থাকলে আপতন কোণ যে হারে কমতে থাকবে, প্রতিফলনের পর OB রশ্মিও ON এর দিকে সরে আসতে থাকবে এবং প্রতিফলন কোণ সেই হারে কমতে থাকবে।
আলোর প্রতিফলনের দুটি সূত্র হলো-
১. আপতিত রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি এবং আপতন বিন্দুতে প্রতিফলকের উপর অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে।
২. আপতন কোণ সর্বদা প্রতিফলন কোণের সমান হয়।
চিত্র হতে দেখা যায়, AO আপতিত রশ্মি OB প্রতিফলিত রশ্মি এবং ON অভিলম্ব MM' দর্পণের একই পাশে একই সমতলে অবস্থিত। অতএব, প্রতিফলনের প্রথম সূত্র প্রমাণিত।

এখন, চাঁদার সাহায্যে ∠AON. আপতিত কোণ এবং ∠BON প্রতিফলন কোণ পরিমাপ করলে দেখা যায়, কোণদ্বয় পরস্পর সমান। AO আপতিত রশ্মির অবস্থান পরিবর্তন করে বিভিন্ন আপতন কোণের জন্য প্রতিফলন কোণ নির্ণয় করলে প্রতিক্ষেত্রেই আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণ সমান পাওয়া যায়। এ থেকে প্রতিফলনের দ্বিতীয় সূত্রটিও প্রমাণিত হয়।
Related Question
View Allকোনো বস্তুতে আলো পড়ে যদি তা বাধা পেয়ে ফিরে আসে, তা হলে তাকে আলোর প্রতিফলন বলে।
কোনো বিন্দু থেকে নিঃসৃত আলোক রশ্মিগুচ্ছ প্রতিফলিত বা প্রতিসরিত হয়ে যদি দ্বিতীয় কোনো বিন্দুতে মিলিত হয় বা দ্বিতীয় কোনো বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয়, তাহলে ঐ বিন্দুকে প্রথম বিন্দুর প্রতিবিম্ব বলে।
আমরা জানি, কোনো বস্তু থেকে আলো এসে আমাদের চোখে পড়লে আমরা বস্তুটি দেখতে পাই। আবার কোনো বস্তু থেকে কোনো মসৃণ তলে আলো প্রতিফলিত হয়ে অন্য কোনো মসৃণ বা চকচকে পৃষ্ঠে পড়লে ঐ পৃষ্ঠে বস্তুটির প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার কারণে আমরা কোনো দর্পণের সামনে দাঁড়ালে আমাদের প্রতিবিম্ব দেখতে পাই। সমতল দর্পণ বা আয়নার ক্ষেত্রে অসদ ও সোজা প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। এক্ষেত্রে দর্পণের যত সামনে বস্তু, থাকে, দর্পণের ঠিক ততটুকু পেছনে বস্তুটির প্রতিবিম্ব দেখা যায় এবং বিম্বের আকার বস্তুর আকারের সমান হয়। এ কারণে সামিন বেসিনের আয়নার সামনের দিকে যেতে থাকলে, আয়নায় তার প্রতিচ্ছবিও সামনের দিকে আসে এবং দূরে যাওয়ার সাথে সাথে প্রতিচ্ছবি দূরে সরে যায়।
সামিনের বাসায় প্রস্তুতকৃত পেরিস্কোপ দিয়ে স্কুলের অনুরূপ বাইরের দৃশ্য দেখা সম্ভব হবে না।
উত্তরের সপক্ষে যুক্তি: পেরিস্কোপে সাধারণত দর্পণ দুটিকে দর্পণের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণ করে রাখা হয়। এতে আলো প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়লে আমরা বস্তুটি দেখি। পেরিস্কোপের দর্পণদ্বয় সমান্তরালে থাকে এবং ৯০° কোণে আলোর বিসরণ ঘটায়। সামিন যে পেরিস্কোপটি তৈরি করেছে তাতে সে দর্পণকে ৩০° কোণে রেখেছে এতে বস্তু থেকে আলো এসে ১ম দর্পণে পড়লে তাতে আপতন কোণ হবে ৬০°। এর ফলে আলো দ্বিতীয় দর্পণে পৌছাতে পারবে না। কারণ এক্ষেত্রে আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণ সমান হবে না। দ্বিতীয় দর্পণে আলো না পৌছালে তা আর আমাদের চোখে পৌঁছাবে না। তাই সামিনের তৈরি পেরিস্কোপ দিয়ে স্কুলের অনুরূপ বাইরের দৃশ্য দেখা যাবে না।
কোনো মসৃণ পৃষ্ঠে আলো পড়ে বাধা পেয়ে ফিরে আসাকে প্রতিফলন বলে।
আলোর প্রতিফলনের দুটি নিয়ম রয়েছে।'
১. আপতিত রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি এবং আপতন বিন্দুতে প্রতিফলকের উপর অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে।
২. আপতন কোণ সর্বদা প্রতিফলন কোণের সমান হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
