যে বিশাল পানিরাশিতে ভূত্বকের নিচু অংশগুলো পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে বারিমণ্ডল বলে।
ভূপৃষ্ঠে বৃষ্টিপাত বা বরফগলা পানির অধিকাংশই নদীবাহিত হয়ে সমুদ্রে গিয়ে পতিত হয়। কিছু পানি সূর্যের তাপে বাষ্পে পরিণত হয় এবং সামান্য পরিমাণ পানি উদ্ভিদসমূহ মূল দ্বারা গ্রহণ করে। অবশিষ্ট পানি মৃত্তিকা ও শিলার মধ্য দিয়ে ভূগর্ভে প্রবেশ করে। একে ভূগর্ভস্থ পানি বলে। অর্থাৎ পানির যে অংশ মৃত্তিকার গভীরে অবস্থান করে সে অংশকে ভূগর্ভস্থ পানি বলে।
চিত্রে 'ক' চিহ্নিত অঞ্চলটি মহীসোপান।
মহাদেশসমূহের বাইরে সমুদ্রের উপকূল রেখা থেকে তলদেশের দিকে ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বলে।
উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনধারায় মহীসোপানের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। মৎস্য খাদ্যের প্রাচুর্যের জন্য মহীসোপান অঞ্চলে প্রচুর মাছ (যেমন- লাখ্য, রূপচান্দা, চিংড়ি, কোরাল, ইলিশ) পাওয়া যায়। এর ওপর ভিত্তি করে উপকূলীয় অঞ্চলে মৎস্য শিকার ও ব্যবসায় উন্নতির মাধ্যমে বহু লোকের কর্মসংস্থান হয়। এ অঞ্চলে ঢেউয়ের সাথে অনেক মাছের (যেমন, চিংড়ি) রেণু চলে আসে যা সংগ্রহের মাধ্যমে বাজারজাত করে এ অঞ্চলের মানুষ আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়।
মহীসোপান অঞ্চলকে সমুদ্রতট বা সৈকত বলে। মানুষ আনন্দ ভ্রমণের জন্য সৈকতে যায় ফলে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটে। এছাড়াও এ অঞ্চলে ম্যাঙ্গানিজ, লোহা, সিসা, তামা, নিকেল, দস্তা ইত্যাদি বহু মূল্যবান ধাতু পাওয়া যায়।
সুতরাং বলা যায়, খনিজ সম্পদের ভান্ডার হিসেবে পরিবহন ও বাণিজ্যে,
কৃষি, শিল্প, কর্মসংস্থান ইত্যাদিতে মহীসোপান অঞ্চলটি উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকৃত মানুষের জীবনধারায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
চিত্রের 'খ' ও 'গ' অঞ্চলটি যথাক্রমে মহীঢাল ও গভীর সমুদ্রের সমভূমি। নিচে অঞ্চল দুটির বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য তুলে ধরা হলো-
মহীসোপানের শেষ সীমা হতে ভূভাগ হঠাৎ খাড়াভাবে নেমে সমুদ্রের গভীর তলদেশে মিশে গেছে। এ ঢালু অংশকে মহীঢাল বলে। সমুদ্রে এর গভীরতা ১৮০ হতে ৩,৬০০ মিটার। এটা অধিক খাড়া হওয়ার জন্য খুব প্রশস্ত নয়। এটি গড়ে প্রায় ১৬ হতে ৩২ কিমি প্রশস্ত। মহীঢালের উপরিভাগ অসমতল। অসংখ্য আন্তঃসাগরীয় খাত অবস্থান করায় তা খুবই বন্ধুর প্রকৃতির। এর ঢাল মৃদু বলে জীবজন্তুর দেহাবশেষ, পলি প্রভৃতির অবক্ষেপণ দেখা যায়।
মহীঢাল শেষ হওয়ার পর হতে সমুদ্র তলদেশে যে বিস্তৃত সমভূমি দেখা যায় তাকে গভীর সমুদ্রের সমভূমি বলে। এর গড় গভীরতা ৫০০০ মিটার। এ অঞ্চলটি সমভূমি নামে খ্যাত হলেও প্রকৃতপক্ষে তা বন্ধুর। কারণ গভীর সমুদ্রের সমভূমির উপর জলমগ্ন বহু শৈলশিরা ও উচ্চভূমি অবস্থান করে। এ সমস্ত উচ্চভূমির কোনো কোনোটি আবার জলরাশির উপর দ্বীপরূপে অবস্থান করে। সমুদ্রের এ গভীর অংশে পলিমাটি, সিন্ধুমল সঞ্চিত হয়। এ সকল পদার্থ স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে পাললিক শিলার সৃষ্টি করে।
অতএব বলা যায় সাগরের মহীঢাল ও গভীর সমুদ্রের সমভূমির মধ্যে বৈশিষ্ট্যগত অনেক পার্থক্য রয়েছে।
Related Question
View Allমহাদেশসমূহের বাইরে সমুদ্রের উপকূল রেখা থেকে তলদেশের দিকে ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশই মহীসোপান।
সমুদ্রের গভীরে গর্তসদৃশ বিষয়টি গভীর সমুদ্রখাত নামে পরিচিত। গভীর সমুদ্রের সমভূমি অঞ্চলের l
পাশাপাশি অবস্থিত মহাদেশীয় ও সামুদ্রিক পাতের সংঘর্ষের ফলে সমুদ্রখাতের উদ্ভব হয় বিধায় প্রতিটি গভীর সমুদ্রখাত পাত সীমানায় অবস্থিত। এ পাত সীমানায় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি অধিক হয় বলেই এসব খাত সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত জলভাগটি হলো বঙ্গোপসাগর। বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত যার ভূমিরূপ বৈচিত্র্যপূর্ণ।
বঙ্গোপসাগরের মহীঢাল এলাকায় খাড়া ঢাল বিশিষ্ট অবস্থানজনিত একটি গভীর নিমগ্ন খাত রয়েছে। এটি প্রায় ১২ কিমি. চওড়া এবং প্রায় ১২৭০ মিটার গভীর। এছাড়া প্রচন্ড ঢেউয়ের প্রভাবে পলল মহীসোপান জমা হয়ে চরাভূমি গঠন করে।
বঙ্গোপসাগরে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড নামে একটি গভীর গিরিখাত; ৯০ ডিগ্রি পূর্ব শৈলশিরা, মায়ানমার ও চ্যাগোস পূর্ব উপকূলীয় সমুদ্রখাত ও কতিপয় নিমজ্জিত চরাভূমি। বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানের গভীরতা সর্বত্র ২০০ মিটারের কম। দক্ষিণ-পূর্বাংশের মহীসোপান খুবই চওড়া।
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত জলভাগটি হলো বঙ্গোপসাগর। নিচে বঙ্গোপসাগরের তলদেশের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হলো-
বঙ্গোপসাগরের তলদেশ নানা ধরনের সম্পদে সমৃদ্ধ। এ সাগরের তলদেশ খনিজ সম্পদ ও প্রাকৃতিক গ্যাসে সমৃদ্ধশালী। সম্প্রতি বাংলাদেশের উপকূলীয় মহীসোপান অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাস ও প্রচুর খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে।
সাগরের অনেক স্থানে আবার মূল্যবান লোহা, সিসা, তামা ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। মৎস্য সম্পদেও এ এলাকা সমৃদ্ধশালী। এখানকার মৎস্য সম্পদের মধ্যে লাক্ষা, রূপচান্দা, চান্দা, চিংড়ি, গলদা চিংড়ি, হাঙ্গর, কোরাল, বোয়াল, ইলিশ প্রভৃতি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। নিজেদের চাহিদা মিটিয়েও প্রচুর পরিমাণে বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
তটদেশীয় অঞ্চলের পর হতে মহীসোপানের প্রান্ত পর্যন্ত অঞ্চলকে ঝিনুক অঞ্চল বলে।
পানি ছাড়া জীবজগতের অস্তিত্ব সম্ভব নয়, তাই জীবজগতে পানিচক্রের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীবজগতের ওপর পানিচক্র প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখে। পানিচক্রের প্রক্রিয়া সংঘটিত হয় সূর্যের তাপশক্তি দ্বারা। বাষ্পীভবন ও বর্ষণ একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। বাষ্পীভবন বেশি হলে বৃষ্টিপাত বেশি হবে। এ বৃষ্টিপাত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ও জীজগতের ওপর প্রভাব রাখে। তাই বলা যায়, জীবজগতে পানিচক্রের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
