ফসলের জিনগত বিন্যাস বদলানো অর্থাৎ বংশগতিতে পরিবর্তন এনে যে ফসল উৎপাদন করা হয় তাকে জেনেটিক্যাল মডিফাইড ক্রপ বলে।
যেসব জাত অভিজ্ঞ কৃষকের পর্যবেক্ষণ চয়ন ও নিরীক্ষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মৌসুম নির্ভরতা এড়িয়ে বিশুদ্ধ-লাইন শনাক্ত ও উন্নয়ন করে তৈরি করা হয় তাদের কালটিভার বলে।
চিত্রের পদ্ধতিটি হলো গ্রিন হাউজ, যেখানে ফসলের জীবতাত্ত্বিক গুণাগুণ পরিবর্তন না করেই ফসল উৎপাদন করা হয়। এ ক্ষেত্রে উন্মুক্ত মাঠে বা উদ্যানে কাঙ্ক্ষিত ফসল উৎপাদন না করে গ্রিন হাউজে তা উৎপাদন করা হয়। অর্থাৎ বদ্ধ ঘরে কৃত্রিম উপায়ে ঐ ফসলের উপযুক্ত দিবস, দৈর্ঘ্য, পর্যাপ্ত আলো, উত্তাপ, বায়ুর আর্দ্রতাসহ পরিবেশগত যাবতীয় উপাদান সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়। অপরদিকে প্রত্যেক উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় সুষম পুষ্টি সরবরাহ করার যথাযথ ব্যবস্থা করা হয়। এই কৌশল বাস্তবায়নের প্রাথমিক পূর্বশর্ত হলো ফসলের পরিবেশ ও পুষ্টি সম্পর্কে বিস্তারিত এবং পরীক্ষিত তথ্যাদি। দ্বিতীয় শর্ত হলো প্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টি ও পুষ্টি সরবরাহের নিখুঁত যান্ত্রিক ব্যবস্থা স্থাপন ও পরিচালনা। তৃতীয়, গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো নিরবচ্ছিন্ন শক্তির (বিদ্যুৎ) নিশ্চিত প্রবাহ। নিখুঁত আয়োজন. ও পরিচালনা নিশ্চিত করতে পারলে প্রায় যে কোনো উদ্যান ফসল এই কৌশল অবলম্বন সম্ভব।
চিত্রের গ্রিন হাউজ পদ্ধতিতে পরিবেশগত যাবতীয় উপাদান নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রয়োজনীয় সুষম পুষ্টি সরবরাহ করে বিশেষ করে উদ্যান ফসল উৎপাদন করা হয়। তবে যে কোনো উদ্যান ফসল এ পদ্ধতিতে চাষ করা গেলেও এর উৎপাদন খরচ অনেক বেশি পড়ে। কারণ এ প্রযুক্তিটি অতি মাত্রায় যন্ত্র নির্ভর। তাছাড়া এ বিশেষ কৌশলে উৎপাদন আয়োজন সম্পন্ন করে এ আয়োজন অলস বসিয়ে রাখার অর্থনৈতিক ঝুঁকি রয়ে যায়। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে এ প্রযুক্তিটি স্বল্প পরিসরে চাহিদা সম্পন্ন ফসলের উৎপাদনের জন্য উপযোগী। বাংলাদেশের কৃষকরা বেশিরভাগই দরিদ্র এবং লেখাপড়ায় অজ্ঞ। তাদের এ প্রযুক্তি ব্যবহার করার আর্থিক সামর্থ্য যেমন নেই, তেমন নেই এর কারিগরী জ্ঞান। এমনকি বাংলাদেশে সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়েও এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফসল উৎপাদনের পুরোপুরি সামর্থ্য ও সুবিধা বিদ্যমান নেই। তাই বিপুল পরিমাণে ফসল উৎপাদনে চিত্রের পদ্ধতিটি বাংলাদেশের জন্য সবক্ষেত্রে উপযোগী নয়।
Related Question
View Allকৃষিতে বিজ্ঞানীদের দুটি অবদান নিম্নরূপ
১. নিরলস গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন প্রযুক্তি সংযোজন করেছেন।
২. মাটির ধরন বিবেচনা করে কোন অঞ্চলে কোন ফসলে কী মাত্রায় সার প্রয়োগ করা হবে সে বিষয়ে কৃষকদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
কৃষিতে প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন প্রযুক্তি। আর এসব প্রযুক্তি উদ্ভাবনে প্রতিনিয়ত কাজ করে চলছে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা। তারা জলবায়ু, পরিবেশ, মাটি, পানি উৎপাদন পদ্ধতি এসব বিষয় বিবেচনায় এনে উচ্চতর গবেষণা করছেন। তাদের নিরলস গবেষণার ফলেই কৃষিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন প্রযুক্তি।
বন্যা প্রতিরোধী ৪টি ধানের জাতের নাম হলো-
১. ব্রি ধান ২২,
৩. ব্রি ধান ৩৭,
২. ব্রি ধান ২৩,
৪. ব্রি ধান ৩৮।
গ্রামীণ সাংস্কৃতিক কাঠামোতে কৃষির ব্যাপক প্রভাব লক্ষ করা যায়। কৃষকের সাংস্কৃতিক জীবন ও জনমানুষের সাংস্কৃতিক ভাবনায় চমৎকার মেলবন্ধন লক্ষ করা যায়। যেমন- কৃষি সংক্রান্ত নানা বিষয়ে চারণ কবি খনার নানা মন্তব্য 'খনার বচন' নামে খ্যাত যা আমাদের সংস্কৃতিকে আরো সমৃদ্ধ করেছে।
ফসলের জন্য সারের মাত্রা নির্ধারণের শর্ত হলো-
১. পূর্ববর্তী ফসলে কোন মাত্রায় সার দেওয়া হয়েছে।
২. প্রয়োগকৃত সারের কোনগুলো নিঃশেষ হয়ে যায়
কৃত্রিম রাসায়নিক সারের উপর নির্ভরশীলতা কমানোর একটি উপায় হলো অণুজীব সার প্রয়োগ। এ ধরনের সার প্রয়োগে মাটির উর্বরতা বাড়ে, মাটিদ্ধ ফসফেট দ্রবীভূত হয়ে ফসলের গ্রহণোপযোগী হয়। সর্বোপরি ফসলের ফলন ও গুণগতমান বৃদ্ধি পায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
