কোনো কোনো ক্ষেত্রে মানচিত্রের আকার ও আয়তন ছোট করার প্রয়োজন। মানচিত্রের এ ছোট করার নামই হচ্ছে মানচিত্রের সংকোচন।
ছোট ও বড় ছক বা বর্গ অঙ্কনের সাহায্যে যখন মানচিত্র ছোট ও বড় করা হয়, তখন তাকে ছক বা বর্গ পদ্ধতি বলে। বর্গ পদ্ধতিতে সর্বপ্রথম মানচিত্রকে নির্দিষ্ট মাপের বাহুবিশিষ্ট কতিপয় বর্গক্ষেত্রে বিভক্ত করা হয়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন মানচিত্রের স্কেল অনুসারে অন্য কাগজে তুলনামূলকভাবে বৃহৎ আকৃতির বাহুবিশিষ্ট সমপরিমাণ বর্গক্ষেত্র অঙ্কন করা হয়। এ পদ্ধতিতে মানচিত্রের সম্প্রসারণ করতে হলে সর্বপ্রথম নির্ণয় করতে হবে মানচিত্রটিকে কতগুণ সম্প্রসারণ করতে হবে। নতুন মানচিত্রের স্কেলকে পুরাতন (মূল মানচিত্র) মানচিত্রের স্কেল দিয়ে ভাগ করলেই মানচিত্র কতগুণ বড় করতে হবে তা পাওয়া যাবে।
সূত্র: নতুন মানচিত্রের স্কেল
পুরাতন মানচিত্রের স্কেল
দেওয়া আছে, নতুন মানচিত্রের স্কেল ১:৮০,০০০
প্রশ্নে পুরাতন মানচিত্রের স্কেল ১ : ৬০,০০০
মানগুলো সূত্রে বসিয়ে পাই,
অনুপাত
= .৭৫
অর্থাৎ মানচিত্রটি ০.৭৫ গুণ সংকুচিত হবে। এবার সরবরাহকৃত মানচিত্রের বর্গের বাহু ০.৭৫ গুণ করে নতুন মানচিত্র অঙ্কন করি-

বর্গ পদ্ধতিতে মানচিত্রের যেমন সংকোচন হয় তেমনি সম্প্রসারণও হয়।
ছক বা বর্গ পদ্ধতির সাহায্যে মানচিত্রের সম্প্রসারণের জন্য সর্বপ্রথম মানচিত্রকে নির্দিষ্ট মাপের বাহু বিশিষ্ট কতিপয় বর্গক্ষেত্রে বিভক্ত করা হয়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন মানচিত্রের স্কেল অনুসারে অন্য কাগজে তুলনামূলকভাবে বৃহৎ আকৃতির বাহু বিশিষ্ট সমপরিমাণ বর্গক্ষেত্র অঙ্কন করতে হবে। এক্ষেত্রে মানচিত্রটি কতগুণ সম্প্রসারণ হবে সূত্রের সাহায্যে তার মান নির্ণয় করতে হবে।
সূত্র নতুন মানচিত্রের স্কেল = অনুপাত
পুরাতন মানচিত্রের স্কেল
মান নির্ণয়ের পর মানচিত্রের উপর কতগুলো বর্গক্ষেত্রের ছক অঙ্কন করার পর অপর একটি সাদা কাগজে যতগুণ বড় করার প্রয়োজন বর্গক্ষেত্রের প্রতিটি বাহুকে ঠিক ততটুকু বড় করে সমান সংখ্যক বর্গক্ষেত্র অঙ্কন করতে হবে। এরপর অঙ্কিত বর্গক্ষেত্রগুলোর মধ্যে নতুন মানচিত্রটি পুরাতন মানচিত্র অনুযায়ী অঙ্কঙ্কন করতে হবে। পুরাতন মানচিত্রের যে অংশ বর্গক্ষেত্রের যে স্থান দিয়ে যেভাবে গেছে নতুন বর্গক্ষেত্রগুলোর মধ্য দিয়ে ঠিক সেভাবে অঙ্কন করলে নতুন মানচিত্রটি হুবহু অঙ্কিত হবে। এভাবে উপরিউক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করে উক্ত সরবরাহকৃত মানচিত্রটিকে সম্প্রসারণ করা যায়।
Related Question
View Allমানচিত্রে দুটি স্থানের মধ্যবর্তী দূরত্ব এবং ভূমিতে ঐ দুটি স্থানের মধ্যবর্তী প্রকৃত দূরত্বের অনুপাত বা সম্বন্ধকে 'স্কেল' বলে।
কর্ণীয় স্কেলের সাহায্যে তিনটি একক জানা যায়।
কতিপয় কর্ণের সাহায্যে অঙ্কিত স্কেলকে কর্ণীয় স্কেল বলে। কোনো সরলরেখার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ নির্ধারণের জন্য কতিপয় কর্ণের সাহায্যে সৃষ্ট এ স্কেল ব্যবহার করা হয়। প্রকৃতপক্ষে একটি ক্ষুদ্র রেখাকে কয়েকটি সমান ভাগে ভাগ করার জন্য এরূপ স্কেলের ব্যবহার বেশি। আয়তাকার চাঁদায় এ স্কেলটি অঙ্কিত থাকে।
ভূমিতে দূরত্ব ৫০,০০০ ইঞ্চি হলে মানচিত্রে দূরত্ব = ১ ইঞ্চি
‘’ ‘’ ১ ‘’ ‘’ =
‘’ ‘’ ৬৩,৩৬০ ‘’ ‘’ =
= ১.২৭ ইঞ্জি
আমরা জানি, ৬৩,৩৬০ ইঞ্চি = ১ মাইল]
ভূমিতে দূরত্ব ১ মাইল হলো মানচিত্রে দূরত্ব = ১.২৭ ইঞি
‘’ ‘’ ৪ মাইল ‘’ ‘’
= ৫.০৮ ইঞি
= ৫ ইঞ্চি
স্কেল নির্ণয় :

উদ্দীপকের স্কেলটি একটি কর্ণীয় স্কেল; যার প্রতিভূ অনুপাত ১: ৫০,০০০। এ স্কেলের সাহায্যে একই সাথে তিনটি একক যথাক্রমে গজ, ফুট ও ইঞ্চি একক ব্যবহার করে উপস্থাপন করা যায়। এ স্কেল দ্বারা অধিকতর সূক্ষ্ম মাপ নেওয়া যায়। উদ্দীপকে প্রতিভূ অনুপাত ১: ৫০,০০০ দেওয়া আছে। এখানে মানচিত্রে দূরত্ব ১ ইঞ্চি এবং ভূমিতে দূরত্ব ৫০ ইঞ্চি নির্দেশ করে। এখান থেকে গজ বের করা হয়। অর্থাৎ মানচিত্রে ৫ ইঞ্চি = ভূমিতে ৬.৯৪ গজ বের করা হয়। ভূমিতে যদি ৬ গজ হিসাব করা হয় তবে
মানচিত্রের দূরত্ব আসবে ৪.৩২ ইঞ্চি। এভাবে ৪.৩২ ইঞি
দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট একটি রেখা নিয়ে তাকে ৬ ভাগে বিভক্ত করা হয়। প্রত্যেক ভাগের মান হবে ১ গজ।
এরপর বামপার্শ্বের ভাগটি ৩ ভাগ করতে হবে প্রত্যেক ভাগের মান হবে ১ ফুট। এবার ৪.৩২ ইঞ্চি রেখার উভয় পার্শ্বে ইঞ্চি দেখানোর জন্য ১ ইঞ্চি করে মোট ১২ টি বিন্দু নেওয়া হয়েছে। পরে বিন্দুগুলো যোগ করে ১২ ইঞ্চি নির্দেশ করে।
এভাবে দেখা যাচ্ছে যে, উপরিউক্ত কর্ণীয় স্কেলের সাহায্যে সহজেই তিনটি একক ব্যবহার করা হয়েছে এবং পরিমাপ অনেক সূক্ষ্ম বলে বিবেচিত হয়েছে।
পৃথিবী অথবা এর কোনো অংশের প্রতিকৃতি নির্দিষ্ট স্কেলে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাসহ সমতল কাগজের ওপর অঙ্কন করা হলে তাকে মানচিত্র বলে। মানচিত্রে দুটি স্থানের মধ্যবর্তী দূরত্ব এবং ভূমিতে বা ভূপৃষ্ঠে ঐ দুটি স্থানের মধ্যবর্তী প্রকৃত দূরত্বের অনুপাতকে স্কেল বলে।
মানচিত্রের যেকোনো দুটি স্থানের মধ্যে দূরত্ব এবং ভূপৃষ্ঠে বা ভূমিভাগে ঐ দু'টি স্থানের মধ্যে প্রকৃত দূরত্বের যে অনুপাত বা সম্পর্ক তাকে মাপনী বা স্কেল বলে। বিভিন্ন প্রকার স্কেল হচ্ছে-
(i) সরল স্কেল,
(ii) কর্ণীয় স্কেল,
(iii) তুলনামূলক স্কেল,
(iv) বিশেষ ধরনের স্কেল ও
(v) ভার্নিয়ার স্কেল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
