কোনো কোনো উদ্ভিদের কাক্ষিক মুকুলের বৃদ্ধি যথাযথভাবে না হয়ে একটি পিন্ডের মতো আকার ধারণ করে। এদের বুলবিল বলে।
একটি মঞ্জরির সম্পূর্ণ অংশ যখন একটি ফলে পরিণত হয় তখন তাকে বলা হয় যৌগিক ফল। আনারস একটি যৌগিক ফল। কারণ-আনারসের ক্ষেত্রে এর একটি মঞ্জরির সম্পূর্ণ অংশ ফলে পরিণত হয়। যৌগিক ফলের মতো আনারসেও অসংখ্য বীজ থাকে এবং রসাল হয়। এসব কারণেই আনারসকে যৌগিক ফল বলা হয়।
চিত্রে A ও D হচ্ছে যথাক্রমে ফুলের পাপড়ি ও বৃতি। পাপড়ি ও বৃতিকে ফুলের সাহায্যকারী স্তবক বলা হয়। এর কারণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
ফুলের সর্ব বাহিরের স্তবককে বৃতি বলে। সাধারণত এরা সবুজ রঙের হয়। বৃতি ফুলের অন্য অংশগুলোকে বিশেষত কুঁড়ি অবস্থায় রোদ, বৃষ্টি ও পোকামাকড় থেকে রক্ষা করে। সবুজ বৃতি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুতে সহায়তা করে। অপরদিকে কতকগুলো পাপড়ি মিলে দলমণ্ডল গঠন করে। পাপড়ি রঙিন হওয়ায় এটি পোকামাকড় ও পশুপাখিকে আকর্ষণ করে এবং পরাগায়ন নিশ্চিত করে। এছাড়া পাপড়ি ফুলের অন্যান্য অংশগুলোকে রোদ, বৃষ্টি থেকে রক্ষা করে। এরা সরাসরি জননকোষে অংশ নেয় না কিন্তু পরোক্ষভাবে পরাগায়নে সাহায্য করে। এছাড়াও বৃতি ও পাপড়ি ফুলের অন্য অংশগুলোর সুরক্ষায় কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তাই বৃতি ও পাপড়িকে ফুলের সাহায্যকারী স্তবক বলা হয়।
চিত্রের ৪ হচ্ছে ফুলের পুংস্তবক এবং ' হচ্ছে ফুলের স্ত্রীস্তবক। ফল ও বীজ উৎপাদনে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক গুরুত্বপূর্ণ ভূমি পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
উদ্দীপকের চিত্রে B তথা পুংস্তবকের দণ্ডের মতো অংশটি হলো পুংদণ্ড। পুংদন্ডের শীর্ষের থলির মতো অংশকে পরাগধানী বলে। পরাগধানীর মধ্যে পরাগরেণু উৎপন্ন হয়। এ পরাগরেণু থেকে পুংজননকোষ উৎপন্ন হয়। অপরদিকে চিহ্নিত অংশটি স্ত্রীস্তবক। এর নিচে গর্ভাশয়ের ভিতরে এক বা একাধিক ডিম্বক বিশেষ নিয়মে সজ্জিত থাকে। এসব ডিম্বকের মধ্যে স্ত্রী জননকোষ বা ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়।
জননকোষ সৃষ্টি নিষিক্তকরণের পূর্বশর্ত। একটি পুংজননকোষের সাথে অন্য একটি স্ত্রীজননকোষ বা ডিম্বাণু মিলিত হয়ে নিষেক সংঘটিত হয়।
নিষিক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষ হলেই ফল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। নিষিক্তকরণ প্রক্রিয়া গর্ভাশয়ে যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে তার কারণে ধীরে ধীরে গর্ভাশয়টি ফলে পরিণত হয় এবং এর ডিম্বকগুলো বীজে রূপান্তরিত হয়।
অর্থাৎ উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায়, ফল ও বীজ উৎপাদনে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবকের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
তোমরা লক্ষ করলে দেখবে একটি উদ্ভিদে বহু বীজ সৃষ্টি হয়। এই বীজগুলো থেকে নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়। এছাড়া উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গ থেকেও নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। এ সবই উদ্ভিদের প্রজনন বা বংশ বৃদ্ধির উদাহরণ।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
• যৌন এবং অযৌন প্রজননের মধ্যে পার্থক্য করতে পারব;
• পরাগায়ন ব্যাখ্যা করতে পারব;
• বিভিন্ন প্রকার পরাগায়নের মধ্যে পার্থক্য করতে পারব,
• পরিবেশে সংঘটিত স্ব-পরাগায়ন এবং পর-পরাগায়ন চিহ্নিত করে কারণ ব্যাখ্যা করতে পারব;
• নিষিক্তকরণ প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব;
• পরীক্ষার মাধ্যমে অঙ্কুরোদগম প্রদর্শন করতে পারব;
Related Question
View Allপ্রজনন বা জনন প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
১. অযৌন জনন ও
২. যৌন জনন।
টিউবার এক ধরনের রূপান্তরিত কান্ড। কিছু কিছু উদ্ভিদে মাটির নিচের শাখার অগ্রভাগে খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে স্ফীত হয়ে কন্দের সৃষ্টি করে, এদের টিউবার বলে। ভবিষ্যতে এ কন্দ জননের কাজ করে। কন্দের গায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গর্ত থাকে। এগুলো দেখতে চোখের মতো তাই এদের চোখ বলা হয়। একটি চোখের মধ্যে একটি কুঁড়ি থাকে। আঁশের মতো অসবুজ পাতার (শঙ্কপত্র) কক্ষে এসব কুঁড়ি জন্মে। প্রতিটি চোখ থেকে একটি স্বাধীন উদ্ভিদের জন্ম হয়, যেমন- আলু।
উদ্দীপকে পুরবী কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজননের কলম পদ্ধতির মাধ্যমে উক্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। নিচে প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করা হলো-
কলম করার জন্য প্রথমে একটি সুস্থ গাছের কচি ও সতেজ শাখা নির্বাচন করা হয়। উপযুক্ত স্থানে বাকল সামান্য কেটে নিতে হয়। এবার ঐ ক্ষত স্থানটি মাটি ও গোবর মিশিয়ে ভালোভাবে আবৃত করে দিতে হবে। এবার সেলোফেন টেপ অথবা পলিথিন দিয়ে এ স্থানটি মুড়ে দিতে হবে যাতে পানি লেগে মাটি ও গোবরের মিশ্রণ খসে না পড়ে। নিয়মিত পানি দিয়ে এ অংশটি ভিজিয়ে দিতে হবে। এভাবে কিছুদিন রেখে দিলে এ স্থানে মূল গজাবে। এর পরে মূলসহ শাখার এ অংশটি মাতৃউদ্ভিদ থেকে কেটে নিয়ে মাটিতে রোপণ করে দিলে নতুন একটি উদ্ভিদ হিসেবে বেড়ে উঠবে।
পুরবী তার কুল গাছের ফলন বৃদ্ধির জন্য কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজননের কলম পদ্ধতিটি বেছে নেওয়ার যৌক্তিকতা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
যেহেতু পুরবীর কুল গাছের ফলন কম ছিল। তাই সে তার গাছের ফলন বৃদ্ধির জন্য পাশের বাড়ির রানুদের ভালো জাতের কুল গাছকে নিজের গাছে কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজননের কলম পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করে কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজননের মাধ্যমে মাতৃউদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করা যায়। অর্থাৎ মাতৃউদ্ভিদের মতো একইরকম গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ উৎপন্ন করা সম্ভব হয়। এ কারণে কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজননের মাধ্যমে পুরবী তার কুল গাছে কাঙ্ক্ষিত ফলন লাভ করে। রানুদের কুল গাছের মতো সেও এখন তার গাছ থেকে ভালো জাতের কুল পাচ্ছে। এছাড়াও মাতৃউদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যও সংরক্ষিত হচ্ছে।
তাই বলা যায় যে, ভালো মানের কুল পাওয়া ও ফলন বৃদ্ধির জন্য পুরবী কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজননের যে প্রক্রিয়াটি বেছে নিয়েছে তা সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
দুটি ভিন্ন প্রকৃতির গ্যামিটের মিলনের মাধ্যমে যে জনন ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে যৌন প্রজনন বলে।
কচু গাছের প্রজনন স্টোলনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। স্টোলন হচ্ছে কচু গাছের শাখাকান্ড। এগুলো প্রজননের জন্যই পরিবর্তিত হয়। স্টোলনের মাথায় বা অগ্রভাগে মুকুল উৎপন্ন হয়। উপযুক্ত পরিবেশে এ মুকুল বড় হতে থাকে এবং পূর্ণাঙ্গ কচু গাছ জন্ম লাভ করে। এভাবেই স্টোলনের সাহায্যে কচু গাছের প্রজনন সম্পন্ন হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
