যে মিশ্রণ রেখে দিলে এর উপাদানসমূহ আংশিক আলাদা হয়ে যায় তাকে সাসপেনসন বলে।
আমরা জানি, একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের দ্রাবক সর্বোচ্চ যে পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত করতে পারে তার চেয়ে কম পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকলে সেই দ্রবণকে অসম্পৃক্ত দ্রবণ বলে। এখন অসম্পৃক্ত দ্রবণে সামান্য পরিমাণ। দ্রব যোগ করে নাড়া দিলে তা দ্রবীভূত হয়ে যাবে। এমনকি দ্রবণটি সম্পৃক্ত দ্রবণে পরিণত না হওয়া পর্যন্ত যোগকৃত দ্রব দ্রবীভূত হতেই থাকে।
উল্লিখিত মিশ্রণটি হচ্ছে অপরিষ্কার লবণ ও পানির মিশ্রণ, পরিস্রাবণ পদ্ধতিতে এটি থেকে পরিষ্কার বিশুদ্ধ লবণ প্রস্তুত করা যায়। এর জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষাটি নিচে বর্ণনা করা হলো-
প্রয়োজনীয় উপকরণ নাড়ানি, ত্রিপদী স্ট্যান্ড, তারজালি, ফিল্টার কাগজ, রিং যুক্ত স্ট্যান্ড ও পানি।
কাজের পদ্ধতি:
১. ফিল্টার কাগজটিকে প্রথমে সমান চার ভাগে ভাগ করি।
২. এরপর চিত্রের মতো করে একদিকে ৩ ভাঁজ অপরদিকে এক ভাঁজ রেখে ফানেলের ভেতর বসিয়ে দেই।
৩. ফিল্টার কাগজটিকে পরিষ্কার পানি দিয়ে অল্প করে ভিজিয়ে দিই।

৪. ফানেলকে চিত্রের ন্যায় স্ট্যান্ডের সাথে যুক্ত রিং এর উপর বসাই।ফানেলের নিচে একটি বিকার রাখি।
৫. অপরিষ্কার লবণের মিশ্রণটি ফিল্টার কাগজের উপর আস্তে আস্তে ঢালি এবং যতক্ষণ পর্যন্ত লবণ মিশ্রিত অপরিষ্কার পানি বিকারে পড়া শেষ না হয় ততক্ষণ অপেক্ষা করি।
৬. প্রাপ্ত পরিষ্কার লবণ পানির বিকারটিকে ত্রিপদী স্ট্যান্ডের উপর রেখে তাপ দিই।
৭. কিছুক্ষণ পর দেখতে পাই পানি বাষ্পায়িত হয়ে চলে গেছে এবং বিকারে পরিষ্কার বিশুদ্ধ লবণের স্তর পড়ে আছে।
চিত্রের দ্রাবকটিকে সার্বজনীন দ্রাবক বলা যায়।
যুক্তিসহ বিশ্লেষণ: চিত্রের দ্রাবকটি হলো পানি। সার্বজনীন দ্রাবক বলতে আমরা বুঝি এমন কিছু দ্রাবক যা সবরকমের পদার্থকে দ্রবীভূত করতে পারবে। বাস্তবে এ ধরনের দ্রাবক নেই। তবে অনেক রকমের পদার্থকে দ্রবীভূত করতে পারে এমন একটি আমাদের পরিচিত পদার্থ হচ্ছে পানি। অর্থাৎ পানিই হচ্ছে এখন পর্যন্ত পাওয়া একমাত্র সার্বজনীন দ্রাবক। পানি একদিকে যেমন অসংখ্য জৈব পদার্থকে দ্রবীভূত করতে পারে তেমনি অনেক অজৈব পদার্থকেও দ্রবীভূত করতে পারে। যেমন- স্পিরিট, এসিটোন, এসিটিক এসিড প্রভৃতি। এছাড়া পানি কিছু গ্যাসীয় পদার্থকেও দ্রবীভূত করতে পারে। এজন্য পানিকে সার্বজনীন দ্রাবক বলা যায়।
দৈনন্দিন জীবনে আমরা নানা রকমের জিনিস ব্যবহার করে থাকি। এদের কোনোটি বিশুদ্ধ আর কোনোটি মিশ্রণ। মিশ্রণের মধ্যে আবার কোনোটি দ্রবণ, কোনোটি সাসপেনসন আর কোনোটি কলয়েড।

এই অধ্যায় শেষে আমরা
• মিশ্রণ এবং দ্রবণের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারব।
• বিভিন্ন প্রকার দ্রবণের মধ্যে পার্থক্য করতে পারব।
পানি এবং কঠিন পদার্থ দিয়ে বিভিন্ন প্রকার দ্রবণ প্রস্তুত করতে পারব।
• দ্রবণে তাপমাত্রার প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারব।
• সর্বজনীন দ্রাবক হিসেবে পানির ব্যবহার প্রদর্শন করতে পারব।
• সমসত্ব এবং অসমসত্ব মিশ্রণ প্রস্তুত এবং উপাদানসমূহ পৃথক করতে পারব।
• লবণাক্ত পানি হতে লবণের স্ফটিক এবং বিশুদ্ধ পানি প্রস্তুত করতে পারব।
• দ্রবণ, কলয়েড এবং সাসপেনসনের মধ্যে পার্থক্য করতে পারব।
• দৈনন্দিন জীবনে দ্রবণ, কলয়েড এবং সাসপেনসনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারব।
• আমাদের জীবনে দ্রবণ ও সাসপেনসনের প্রয়োগ উপলব্ধি করব।
• পরীক্ষণ কাজের যন্ত্রপাতি এবং উপকরণ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারব।
Related Question
View Allদুই বা ততোধিক পদার্থকে এক সাথে মিশালে যদি তারা নিজ নিজ ধর্ম বজায় রেখে পাশাপাশি অবস্থান করে তবে উক্ত সমাবেশকে মিশ্রণ বলে।
সার্বজনীন দ্রাবক বলতে সেই সমস্ত দ্রাবককে বুঝায় যারা সব রকমের পদার্থকে দ্রবীভূত করে। তবে বাস্তবে সকল পদার্থকে দ্রবীভূত করার মতো কোনো দ্রাবক নেই। তবে পানি এমন একটি দ্রাবক যা অনেক পদার্থকে সহজেই দ্রবীভূত করতে পারে। অন্যকোনো দ্রাবকের পক্ষে এটি সম্ভব নয়। যেমন- ক্যালসিয়াম কার্বনেট, সিলিকা ইত্যাদি জৈব যৌগ, স্পিরিট, এসিটোন, এসিটিক এসিড ইত্যাদি গ্যাসীয় পদার্থ সবগুলোকেই পানি দ্রবীভূত করতে পারে। অর্থাৎ পানিই এখন পর্যন্ত পাওয়া একমাত্র সার্বজনীন দ্রাবক।
রূপত্তিকে দেখানো প্রিয়ন্তির উপাদানটি হলো লবণ, 'যা সমুদ্রের পানি থেকে প্রস্তুত করা হয়। নিচে রেখা চিত্রের মাধ্যমে সমুদ্রের পানি থেকে লবণ প্রস্তুত প্রণালি দেখানো হলো-

উদ্দীপকের দ্রবণটি হলো লবণ ও পানির দ্রবণ। এ দ্রবণ হতে লবণ ও পানি দুটো উপাদানই আবার ফিরে পাওয়া সম্ভব। লবণকে সহজেই পরিস্রাবণ পদ্ধতির সাহায্যে আলাদা করা যায়। পানি পাতন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আলাদা করা যায়। প্রথমে দ্রবণকে ছাঁকন কাগজের সাহায্যে ছেঁকে পানিতে থাকা বালি ময়লা এবং লবণাক্ত পানি আলাদা করা হয় যা ক চিত্রে দেখানো হয়েছে।

এরপর পানিকে পাতন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিম্নোক্তভাবে আলাদা করা যায়।
প্রয়োজনীয় উপকরণ: ১টি ১টি পাতন যন্ত্র, ৫০০ মি. লি. লবণাক্ত পানি।
পদ্ধতি: খ চিত্রের মতো পাতন যন্ত্রটিকে সাজিয়ে 'গোলতলী ফ্লাক্সে লবণাক্ত পানি নিই। পাতন যন্ত্রটির পানি প্রবেশের নলটি একটি পানির ট্যাপের সাথে যুক্ত করে পানি প্রবাহ চালু করি। পানি নির্গমন নলের সাথে একটি প্লাস্টিকের পাইপ যুক্ত করে বেসিনে রাখি এবং বৈদ্যুতিক হিটারে তাপ দিই। বাষ্পীভূত পানি শীতকের সরু নলের মধ্য দিয়ে গোলতলী ফ্লাক্সে জমা হবে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর পর্যবেক্ষণ করি, দেখতে পাই যে, বিশুদ্ধ পানি জমা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় দ্রবণের লবণ পাত্রের তলায় জমা হয়।
যে মিশ্রণের বিভিন্ন অংশে তার উপাদানসমূহ বিভিন্ন অনুপাতে থাকে এবং একাধিক বস্তুর অস্তিত্ব সহজে বুঝা যায় তাকে অসমসত্ত্ব মিশ্রণ বলে।
কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ১০০ গ্রাম দ্রাবক নিয়ে কোনো দ্রবের সম্পৃক্ত দ্রবণ তৈরি করতে যতটুকু দ্রবের প্রয়োজন হয় তাকেই ঐ দ্রাবকে ঐ দ্রবের দ্রবণীয়তা বলে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, ২৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১০০ গ্রাম পানি সর্বোচ্চ ৩৬ গ্রাম লবণকে দ্রবীভূত করতে পারে। অর্থাৎ এ তাপমাত্রায় পানিতে লবণের দ্রবণীয়তা হলো ৩৬। আবার ২৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানিতে চিনির দ্রবণীয়তা হলো ২১১.৪। অর্থাৎ এ তাপমাত্রায় ১০০ গ্রাম পানি সর্বোচ্চ ২১১.৪ গ্রাম চিনি দ্রবীভূত করতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!