যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ খাদ্যবস্তু অক্সিজেনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিতে জারিত হয়ে খাদ্যস্থ রাসায়নিক শক্তিকে গতিশক্তি ও তাপশক্তিতে রূপান্তরিত ও মুক্ত হয় এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি উৎপন্ন হয় তাই শ্বসন।
উদ্ভিদের কোনো নির্দিষ্ট শ্বসন অঙ্গ নেই। পাতার পত্ররন্ধ্র, কান্ডের লেন্টিসেল এবং অন্তঃকোষের মাধ্যমে বায়ু দেহাভ্যন্তরে প্রবেশ করে। পত্ররন্দ্রের রক্ষীকোষগুলো পত্ররন্দ্রকে খোলা ও বন্ধ রাখতে সাহায্য করে। খোলা পত্ররন্দ্র দিয়ে বাতাস, O2 ও CO2 গ্যাস চলাচল করে। আর এ গ্যাস চলাচলের মাধ্যমেই পত্ররন্ধ্র শ্বসনে সহায়তা করে।
উদ্দীপকের চিত্রে Y দ্বারা উদ্ভিদ, Z দ্বারা প্রাণী এবং X দ্বারা সূর্যকে দেখানো হয়েছে।
Y এবং ২ এর মধ্যে Y-ই X-এর উপাদান সূর্যকে সরাসরি ব্যবহার করে। কারণ উদ্ভিদের সবুজ অঙ্গ (বিশেষ করে পাতা) সূর্যালোক হতে শক্তি সংগ্রহ করে এবং ঐ শক্তি কাজে লাগিয়ে পানি ও CO₂ ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করাজাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে। এ প্রক্রিয়ায় আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত হয়। সালোকসংশ্লেষণে উদ্ভিদ কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস গ্রহণ করে এবং উপজাত হিসেবে O₂ গ্যাস বের করে দেয়।
পক্ষান্তরে, চিত্র-Z অর্থাৎ প্রাণিদেহে ক্লোরোফিল না থাকার কারণে সূর্যশক্তিকে সরাসরি কাজেও লাগাতে পারে না। তাই সকল প্রাণীই খাদ্যের জন্য উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল থাকে।
উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, চিত্র-Y সরাসরি চিত্র-X কে ব্যবহার করে এবং চিত্র-Z সরাসরি চিত্র-X কে ব্যবহার না করলেও পরোক্ষভাবে এর উপর নির্ভরশীল।
চিত্রে Y হলো উদ্ভিদ এবং Z হলো প্রাণী, গ্যাসীয় বিনিময়ে অর্থাৎ অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড বিনিময়ের ক্ষেত্রে উদ্ভিদ ও প্রাণী একে অন্যের উপর নির্ভরশীল। নিচে তা যুক্তিসহ আলোচনা করা হলো-
উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুতের সময় বায়ুমণ্ডল থেকে যে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে, প্রাণীরা তা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে ত্যাগ করে। আবার প্রাণীরা প্রশ্বাসের মাধ্যমে যে অক্সিজেন গ্রহণ করে উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় তা উপজাত হিসেবে ত্যাগ করে। অর্থাৎ উদ্ভিদ যে অক্সিজেন পরিত্যাগ করে, প্রাণীরা তা গ্রহণ করে বেঁচে থাকে। আবার প্রাণীর পরিত্যাগকৃত কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে বেঁচে থাকে।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বুঝা যায়, উদ্ভিদ ও প্রাণী যথাক্রমে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড বিনিময়ের ক্ষেত্রে একে অন্যের উপর নির্ভরশীল।
প্রতিটি উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবন আছে। জীবদেহে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের জৈবনিক প্রক্রিয়ার জন্য শক্তি প্রয়োজন। জীব কোষের সাইটোপ্লাজমে সঞ্চিত স্টাচ, শর্করা, প্রোটিন ও ফ্যাটের অণুতে শক্তি সঞ্চিত থাকে। সকল জীবকোষের জৈবক্রিয়ার জন্য অক্সিজেন অপরিহার্য। প্রকৃতপক্ষে অক্সিজেন দ্বারা খাদ্যস্থ স্থৈতিক শক্তি যা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৌরশক্তি থেকে সঞ্চিত হয়, তাকে গতিশক্তি ও তাপশক্তিতে রূপান্তরিত করাই শ্বসনের মুখ্য উদ্দেশ্য। এই গতিশক্তি ও তাপশক্তির দ্বারা জীব খাদ্য গ্রহণ, চলন, রেচন, বৃদ্ধি, জনন প্রভৃতি শারীরবৃত্তীয় কাজ সম্পন্ন করে থাকে। শ্বসন এক প্রকার দহন প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন দ্বারা খাদ্য জারিত হয়ে শক্তি নির্গত হয়।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা
- জীবের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব।
- চিত্রের সাহায্যে প্রাণীর শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অংশসমূহের কাজ বর্ণনা করতে পারব।
- শ্বসনতন্ত্রের রোগের কারণ ও রোগের লক্ষণ বর্ণনা করতে পারব।
- শ্বসনতন্ত্রের রোগের প্রতিরোধ ও প্রতিকারের কৌশল ব্যাখ্যা করতে পারব।
- সালোকসংশ্লেষণ এবং শ্বসন প্রক্রিয়ার তুলনা করতে পারব।
- প্রাণীর শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অংশসমূহের চিত্র অঙ্কন করতে পারব।
Related Question
View Allপুরা হলো দুই ভাজবিশিষ্ট একটি ঝিল্লি বা পর্দা, যা ফুসফুসকে আবৃত করে রাখে।
নিউমোনিয়া একটি ফুসফুসের রোগ। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটি একটি মারাত্মক রোগ। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে রোগীর কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়। শ্বাস নেওয়ার সময় নাকের ছিদ্র বড় হয়। বেশি জ্বর হয়। কাশির সময় রোগী বুকে ব্যথা অনুভব করে। নিউমোনিয়া রোগে প্রতিবছর অনেক শিশু মারা যায়। তাই এটি একটি মারাত্মক রোগ।
উদ্দীপকের চিত্রে সংঘটিত প্রক্রিয়াটি হলো বহিঃশ্বসন প্রক্রিয়া।
বহিঃশ্বসন প্রক্রিয়ায় ফুসফুসের মধ্যে গ্যাসীয় আদান-প্রদান ঘটে। এ পর্যায়ে ফুসফুস ও রক্তজালিকা বা কৈশিক নালির মধ্যে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের বিনিময় ঘটে। বহিঃশ্বসন দুই পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। যথা-
১. প্রশ্বাস বা শ্বাস গ্রহণ: পরিবেশ থেকে আমরা যে অক্সিজেনযুক্ত বায়ু গ্রহণ করি একে শ্বাস গ্রহণ বা প্রশ্বাস বলে। প্রশ্বাসের সময় মধ্যচ্ছদা ও বক্ষপিঞ্জরাস্থির মাঝের পেশি সংকুচিত হয়।
২. নিঃশ্বাস: প্রশ্বাসের পর পরই নিঃশ্বাস পর্যায় শুরু হয়। এ পর্যায়ে মধ্যচ্ছদা ও পিঞ্জরাস্থির পেশিগুলো শিথিল ও প্রসারিত হয় বলে ফুসফুস আয়তনে ছোট ও সংকুচিত হয়। ফলে বায়ুথলির ভেতরের বায়ু, কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস ফুসফুস থেকে ব্রঙ্কাস, ট্রাকিয়ার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে নাসারন্ধ্র দিয়ে বাইরে নির্গত হয়।
উদ্দীপকের চিত্রের F উপাদানটি অর্থাৎ বাতাসে উপস্থিত ধুলাবালি E অংশে, অর্থাৎ ফুসফুসে প্রবেশের ফলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা যেমন- শ্বাসনালীর সংক্রমণে ব্রংকাইটিস হয়। বাতাসে উপস্থিত ধুলাবালি প্রশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করলে হাঁপানি হতে পারে এবং শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত সর্দি থেকে হাঁপানি হতে পারে। উক্ত সমস্যাগুলো প্রতিরোধের জন্য নিম্নোক্ত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করতে হবে-
১. আলো ও বিশুদ্ধ বাতাসপূর্ণ গৃহে বসবাস করতে হবে।
২. যেসব জিনিসের সংস্পর্শে আসলে বা খেলে শ্বাসকষ্ট বাড়ে তা থেকে বিরত থাকতে হবে। যেমন- পশমি কাপড়।
৩. ধোঁয়া, ধুলাবালি ইত্যাদি থেকে দূরে থাকতে হবে।
৪. ধূমপান পরিহার করতে হবে।
৫. বেশি করে পানি ও তরল পদার্থ পান করতে হবে।
৬. বাহিরে চলাফেরার সময় অবশ্যই মুখে রুমাল বা মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ খাদ্যবস্তু অক্সিজেনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিতে জারিত হয়ে খাদ্যস্থ রাসায়নিক শক্তিকে গতিশক্তি ও তাপশক্তিতে রূপান্তরিত ও মুক্ত হয় এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি উৎপন্ন হয় তাই শ্বসন।
উদ্ভিদের কোনো নির্দিষ্ট শ্বসন অঙ্গ নেই। পাতার পত্ররন্ধ্র, কান্ডের লেন্টিসেল এবং অন্তঃকোষের মাধ্যমে বায়ু দেহাভ্যন্তরে প্রবেশ করে। পত্ররন্দ্রের রক্ষীকোষগুলো পত্ররন্দ্রকে খোলা ও বন্ধ রাখতে সাহায্য করে। খোলা পত্ররন্দ্র দিয়ে বাতাস, O2 ও CO2 গ্যাস চলাচল করে। আর এ গ্যাস চলাচলের মাধ্যমেই পত্ররন্ধ্র শ্বসনে সহায়তা করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!