পরিবেশের সকল জীবন্ত উপাদান বা বস্তুকে বাস্তুতন্ত্রের জীব উপাদান বলে।
মানুষ একাধারে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের বা সর্বোচ্চ খাদক। এক কথায় মানুষকে সর্বভুক বলা যায়। মানুষ যখন ভাত, ডাল, আলু, সবজি ইত্যাদি খায়, তখন সে প্রথম স্তরের খাদক। মানুষ যখন মাছ, মাংস খায় তখন সে দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্তরের খাদক। আর মানুষ মোটামুটিভাবে সব স্তরের খাবারই গ্রহণ করে তাই মানুষ সর্বভুক।
উদ্দীপকের চিত্র 'X' হলো একটি ছোট পুকুরের জলজ বাস্তুতন্ত্র। নিচে পুকুরের বাস্তুতন্ত্র বর্ণনা করা হলো-
পুকুরে রয়েছে অজীব ও জীব উপাদান। অজীব উপাদানের মধ্যে পুকুরে রয়েছে পানি, দ্রবীভূত অক্সিজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং কিছু জৈব পদার্থ। এসব উপাদান জীব সরাসরি ব্যবহার করতে পারে। জীব উপাদানগুলোর মধ্যে আছে-
উৎপাদক: পুকুরের ক্ষুদ্র উদ্ভিদ কণা যারা নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে তারা উৎপাদক নামে পরিচিত।
প্রথম স্তরের খাদক: বিভিন্ন প্রকার জলজ কীটপতঙ্গ, ছোট মাছ, ঝিনুক, শামুক ইত্যাদি যারা উৎপাদকদের খায় তারা প্রথম স্তরের খাদক।
দ্বিতীয় স্তরের খাদক: এরা প্রথম স্তরের খাদককে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। যেমন- একটু বড় মাছ, চিংড়ি, ব্যাঙ প্রভৃতি দ্বিতীয় স্তরের খাদকের অন্তর্ভুক্ত।
তৃতীয় স্তরের খাদক: শোল, বোয়াল প্রভৃতি বড় আকারের মাছ, বক, গাংচিল, কচ্ছপ প্রভৃতি তৃতীয় স্তরের খাদক। এরা দ্বিতীয় স্তরের খাদককে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
বিয়োজক: পুকুরের পানিতে ভাসমান অথবা নিচের কাদায় বিভিন্ন ধরনের অণুজীব (যেমন- ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ইত্যাদি) বাস করে। এদেরকে বিয়োজক বলা হয়।
বায়ুতন্ত্রে বেশ কয়েকটি খাদ্যশৃঙ্খল একত্রিত হয়ে একটি জালের মতো গঠন তৈরি করে। একে খাদ্যজাল বলে। উদ্দীপকের (i) ও (ii) এ প্রদর্শিত খাদ্যশৃঙ্খলে উপাদানগুলো নিয়ে একটি খাদ্যজাল তৈরি করা হলো-
নিচের চিত্রে দেখা যায় ঘাসকে পতঙ্গ, খরগোশ, ইঁদুর খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। ইঁদুর এবং খরগোশকে সাপ খাদ্য হিসেবে খায়। আবার পতঙ্গকে ব্যাঙ, ব্যাঙকে সাপ এবং সর্বশেষ সাপকে খেয়ে ঈগল বেঁচে থাকে।

এখানে সাতটি জীব বিভিন্নভাবে বেশ কয়েকটি খাদ্যশৃঙ্খল তৈরি করে। উপরের খাদ্যজালে মোট পাঁচটি খাদ্য শৃঙ্খল পাওয়া যায়।
১.ঘাস পতঙ্গ ব্যাঙ সাপ ঈগল
২. ঘাস খরগোশ ঈগল
৩. ঘাস খরগোশ সাপ ঈগল
৪. ঘাস ইঁদুর সাপ ঈগল
৫. ঘাস ইঁদুর ঈগল
এই খাদ্যশৃঙ্খলগুলো দিয়ে উপরের খাদ্যজাল তৈরি। পরিশেষে বলা যায়, খাদ্যজাল তৈরিতে (i) ও (ii) উভয়েরই প্রয়োজন রয়েছে।
আমাদের চারপাশের সবকিছু নিয়েই আমাদের পরিবেশ তা তোমরা জানো। আরও জানো, একটি স্থানে যে সকল জড়বস্তু ও জীব থাকে সেগুলো নিয়েই সেখানকার পরিবেশ গড়ে উঠে। তোমরা নিশ্চয়ই লক্ষ করেছ, এই ভূমণ্ডলে বিভিন্ন পরিবেশ রয়েছে। এসব পরিবেশকে আমরা স্বাদু পানি, লোনা পানি ও স্থল এই প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করতে পারি। এই তিন রকমের পরিবেশের প্রত্যেকটিতে স্বতন্ন ধরনের অজীব ও জীব উপাদান থাকে। এসব অৰ্জীৰ ও জীব উপাদানসমূহ একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তোমরা জানো, পরিবেশের জীব উপাদানসমূহের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণী। জীবন ধারণের জন্য এসকল উদ্ভিদ ও প্রাণী একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
• বাস্তুতন্ত্রের উপাদান ও প্রকারভেদ ব্যাখ্যা করতে পারব;
• খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদান ব্যাখ্যা করতে পারব;
• বাস্তুতন্ত্রে শক্তিপ্রবাহ ব্যাখ্যা করতে পারব;
• পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বাস্তুতন্ত্রের ভূমিকা বিশ্লেষণ করতে পারব;
• জীবে বাস্তুতন্ত্রের অবদান উপলব্ধি করব এবং সুরক্ষার অন্যদের সচেতন করতে পারব।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
