সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
সকল সবুজ উদ্ভিদ সাধারণত উৎপাদক। সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করতে পারে। তাই বলা যায় উৎপাদকেরা স্বনির্ভর।
চিত্র A জলজ উদ্ভিদ। জলজ উদ্ভিদ বাস্তুসংস্থানের উৎপাদক। ঐ ধরনের উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে শর্করা জাতীয় খাদ্য উৎপাদন করে। এর অনুপস্থিতিতে সার্বিক বাস্তুসংস্থান ব্যাহত হয়।
জলজ উদ্ভিদ অজৈব বস্তু গ্রহণ করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত করে। এই খাদ্যের সামান্য অংশ নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার করে এবং অবশিষ্টাংশ দেহে জমা রাখে। পুকুরের তৃণভোজী প্রাণীগুলো এদের খায় এবং পর্যায়ক্রমে মাংসাশী প্রাণীগুলো তৃণভোজীদের ভক্ষণ করে। জলজ উদ্ভিদ, তৃণভোজী প্রাণী, মাংসাশী প্রাণী প্রভৃতি সমস্ত প্রকার জীবকে বিয়োজকগুলো খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে অজৈব বস্তুতে রূপান্তরিত করে। এ ধরনের জলজ উদ্ভিদের অনুপস্থিতিতে অজৈব বস্তু থেকে পুনরায় খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে এবং সার্বিক বাস্তুসংস্থান প্রক্রিয়া বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে
চিত্র B বড় মাছ যা পুকুরের বাস্তুসংস্থানে তৃতীয় স্তরের খাদক। ছোট মাছ, জলজ পতা, চিংড়ি, ব্যাঙ ইত্যাদি দ্বিতীয় স্তরের খাদক। দ্বিতীয় স্তরের খাদককে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে বড় মাছ। বড় মাছের সংখ্যা বেড়ে গেলে দ্বিতীয় স্তরের খাদকের সংখ্যা কমে যাবে। ফলে বড় মাছের খাদ্যাভাব দেখা দিবে এবং বড় মাছের সংখ্যা কমে যাবে। কিন্তু উৎপাদক এবং প্রথম স্তরের খাদকের সংখ্যা বেড়ে যাবে। ফলে বাস্তুসংস্থানে সাময়িক বিপর্যয় দেখা দিবে। এভাবে হ্রাস-বৃদ্ধির মাধ্যমে পুনরায় বাস্তুসংস্থানটির ভারসাম্য প্রাকৃতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে।
আমাদের চারপাশের সবকিছু নিয়েই আমাদের পরিবেশ তা তোমরা জানো। আরও জানো, একটি স্থানে যে সকল জড়বস্তু ও জীব থাকে সেগুলো নিয়েই সেখানকার পরিবেশ গড়ে উঠে। তোমরা নিশ্চয়ই লক্ষ করেছ, এই ভূমণ্ডলে বিভিন্ন পরিবেশ রয়েছে। এসব পরিবেশকে আমরা স্বাদু পানি, লোনা পানি ও স্থল এই প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করতে পারি। এই তিন রকমের পরিবেশের প্রত্যেকটিতে স্বতন্ন ধরনের অজীব ও জীব উপাদান থাকে। এসব অৰ্জীৰ ও জীব উপাদানসমূহ একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তোমরা জানো, পরিবেশের জীব উপাদানসমূহের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণী। জীবন ধারণের জন্য এসকল উদ্ভিদ ও প্রাণী একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
• বাস্তুতন্ত্রের উপাদান ও প্রকারভেদ ব্যাখ্যা করতে পারব;
• খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদান ব্যাখ্যা করতে পারব;
• বাস্তুতন্ত্রে শক্তিপ্রবাহ ব্যাখ্যা করতে পারব;
• পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বাস্তুতন্ত্রের ভূমিকা বিশ্লেষণ করতে পারব;
• জীবে বাস্তুতন্ত্রের অবদান উপলব্ধি করব এবং সুরক্ষার অন্যদের সচেতন করতে পারব।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
