কালুমিয়ার বাগানে শিমুল গাছ ও কুমড়া গাছ রয়েছে। শিমুল ও কুমড়া ফুলের পরাগায়ন একই মাধ্যম দ্বারা সংঘটিত হয় না। নিচে তা যুক্তিসহকারে আলোচনা করা হলো-
মৃদগত ও মৃদভেদী অঙ্কুরোদগমের মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ-
| মৃদগত অঙ্কুরোদগম | মূদভেদী অঙ্কুরোদগম |
| ১. যখন ঘৃণকাণ্ড মাটি ভেদ করে উপরে উঠে আসে কিন্তু বীজপত্র মাটির ভিতরে থেকে যায় তখন তাকে মৃদগত অঙ্কুরোদগম বলে। | ১. যখন বীজপত্রসহ ভূণমুকুল মাটি ভেদ করে উপরে উঠে আসে তখন তাকে মৃদভেদী অঙ্কুরোদগম বলে। |
| ২. এপিকোটাইলের দ্রুত বৃদ্ধির কারণে হয়। | ২. হাইপোকোটাইলের দ্রুত বৃদ্ধির কারণে হয়। |
উদ্দীপকের চিত্রের Lদ্বারা ফুলের গর্ভাশয়কে দেখানো হয়েছে। গর্ভাশয় যেভাবে ডিম্বাণু তৈরি করে তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
ফুলের গর্ভাশয়ের অভ্যন্তরে ডিম্বক থাকে। এ ডিম্বকের ভেতরে সামান্য বড় আকৃতির একটি স্ত্রীজনন মাতৃকোষ (2n) সৃষ্টি হয়। এ কোষটি মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) স্ত্রী রেণু কোষ সৃষ্টি করে যার সর্বনিম্ন কোষটি ছাড়া বাকি তিনটি। কোষ নষ্ট হয়ে যায়। জীবিত কোষটির নিউক্লিয়াস বিভক্ত হয়ে দুটি নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে। এই নিউক্লিয়াস দুটি পরপর দুইবার বিভক্ত হয়ে চারটি করে মোট আটটি নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে। এ আটটি নিউক্লিয়াস একটি থলির ন্যায় অঙ্গের দু'মেরুতে অবস্থান করে। থলির ন্যায় এ অঙ্গকে ভূণথলি বলে। ভূণথলির' দু'মেরু হতে একটি করে নিউক্লিয়াস থলির মাঝখানে চলে আসে এবং পরস্পর মিলিত হয়ে গৌণ নিউক্লিয়াস তৈরি করে। ডিম্বকরন্দ্রের দিকে অবস্থিত মেরুর তিনটি নিউক্লিয়াসকে একত্রে ডিম্বাণুযন্ত্র বলে। ডিম্বাণুযন্ত্রের তিনটি নিউক্লিয়াসের মাঝখানের অপেক্ষাকৃত বড় কোষটি হলো ডিম্বাণু এবং অন্য কোষ দুটিকে সহকারী কোষ বলে। এভাবেই ভূণথলির অভ্যন্তরে ডিম্বাণুর উৎপত্তি ঘটে।
চিত্রের হচ্ছে ফুলের গর্ভমুণ্ড এবং M হচ্ছে দলমণ্ডল। এদের মধ্যে পরাগায়নের ক্ষেত্রে গর্ভমুন্ড সরাসরি অংশগ্রহণ করে। নিচে এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
ফুলের পরাগধানী হতে পরাগরেণু একই ফুলে অথবা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে। পরাগায়নের ক্ষেত্রে পরাগরেণু অব্যশই গর্ভমুণ্ডে পতিত হতে হবে। পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পতিত হলে পুংগ্যামেটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে পরবর্তীতে নিষেক সংঘটন সম্ভব হয়। পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পতিত না হওয়া পর্যন্ত পরাগায়ন হবে না। সুতরাং গর্ভমুন্ড পরাগায়নের কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করে। অন্যদিকে দলমণ্ডল পরাগায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। দলমণ্ডল রঙিন হলে বিভিন্ন পতঙ্গ ফুলের দিকে আকৃষ্ট হয় এবং মধু সংগ্রহের জন্য এক ফুল থেকে অন্য ফুলে যায়। এতে পরাগরেণু এক ফুল থেকে অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয় এবং পরাগায়ন সংঘটিত হয়। উপরোক্ত তুলনামূলক আলোচনার সাপেক্ষে বলা যায় পরাগায়নের ক্ষেত্রে চিত্রের 'O' তথা গর্ভমুণ্ড সরাসরি অংশগ্রহণ করে।
তোমরা লক্ষ করলে দেখবে একটি উদ্ভিদে বহু বীজ সৃষ্টি হয়। এই বীজগুলো থেকে নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়। এছাড়া উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গ থেকেও নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। এ সবই উদ্ভিদের প্রজনন বা বংশ বৃদ্ধির উদাহরণ।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
• যৌন এবং অযৌন প্রজননের মধ্যে পার্থক্য করতে পারব;
• পরাগায়ন ব্যাখ্যা করতে পারব;
• বিভিন্ন প্রকার পরাগায়নের মধ্যে পার্থক্য করতে পারব,
• পরিবেশে সংঘটিত স্ব-পরাগায়ন এবং পর-পরাগায়ন চিহ্নিত করে কারণ ব্যাখ্যা করতে পারব;
• নিষিক্তকরণ প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব;
• পরীক্ষার মাধ্যমে অঙ্কুরোদগম প্রদর্শন করতে পারব;
Related Question
View Allপ্রজনন বা জনন প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
১. অযৌন জনন ও
২. যৌন জনন।
টিউবার এক ধরনের রূপান্তরিত কান্ড। কিছু কিছু উদ্ভিদে মাটির নিচের শাখার অগ্রভাগে খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে স্ফীত হয়ে কন্দের সৃষ্টি করে, এদের টিউবার বলে। ভবিষ্যতে এ কন্দ জননের কাজ করে। কন্দের গায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গর্ত থাকে। এগুলো দেখতে চোখের মতো তাই এদের চোখ বলা হয়। একটি চোখের মধ্যে একটি কুঁড়ি থাকে। আঁশের মতো অসবুজ পাতার (শঙ্কপত্র) কক্ষে এসব কুঁড়ি জন্মে। প্রতিটি চোখ থেকে একটি স্বাধীন উদ্ভিদের জন্ম হয়, যেমন- আলু।
উদ্দীপকে পুরবী কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজননের কলম পদ্ধতির মাধ্যমে উক্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। নিচে প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করা হলো-
কলম করার জন্য প্রথমে একটি সুস্থ গাছের কচি ও সতেজ শাখা নির্বাচন করা হয়। উপযুক্ত স্থানে বাকল সামান্য কেটে নিতে হয়। এবার ঐ ক্ষত স্থানটি মাটি ও গোবর মিশিয়ে ভালোভাবে আবৃত করে দিতে হবে। এবার সেলোফেন টেপ অথবা পলিথিন দিয়ে এ স্থানটি মুড়ে দিতে হবে যাতে পানি লেগে মাটি ও গোবরের মিশ্রণ খসে না পড়ে। নিয়মিত পানি দিয়ে এ অংশটি ভিজিয়ে দিতে হবে। এভাবে কিছুদিন রেখে দিলে এ স্থানে মূল গজাবে। এর পরে মূলসহ শাখার এ অংশটি মাতৃউদ্ভিদ থেকে কেটে নিয়ে মাটিতে রোপণ করে দিলে নতুন একটি উদ্ভিদ হিসেবে বেড়ে উঠবে।
পুরবী তার কুল গাছের ফলন বৃদ্ধির জন্য কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজননের কলম পদ্ধতিটি বেছে নেওয়ার যৌক্তিকতা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
যেহেতু পুরবীর কুল গাছের ফলন কম ছিল। তাই সে তার গাছের ফলন বৃদ্ধির জন্য পাশের বাড়ির রানুদের ভালো জাতের কুল গাছকে নিজের গাছে কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজননের কলম পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করে কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজননের মাধ্যমে মাতৃউদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করা যায়। অর্থাৎ মাতৃউদ্ভিদের মতো একইরকম গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ উৎপন্ন করা সম্ভব হয়। এ কারণে কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজননের মাধ্যমে পুরবী তার কুল গাছে কাঙ্ক্ষিত ফলন লাভ করে। রানুদের কুল গাছের মতো সেও এখন তার গাছ থেকে ভালো জাতের কুল পাচ্ছে। এছাড়াও মাতৃউদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যও সংরক্ষিত হচ্ছে।
তাই বলা যায় যে, ভালো মানের কুল পাওয়া ও ফলন বৃদ্ধির জন্য পুরবী কৃত্রিম অঙ্গজ প্রজননের যে প্রক্রিয়াটি বেছে নিয়েছে তা সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
দুটি ভিন্ন প্রকৃতির গ্যামিটের মিলনের মাধ্যমে যে জনন ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে যৌন প্রজনন বলে।
কচু গাছের প্রজনন স্টোলনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। স্টোলন হচ্ছে কচু গাছের শাখাকান্ড। এগুলো প্রজননের জন্যই পরিবর্তিত হয়। স্টোলনের মাথায় বা অগ্রভাগে মুকুল উৎপন্ন হয়। উপযুক্ত পরিবেশে এ মুকুল বড় হতে থাকে এবং পূর্ণাঙ্গ কচু গাছ জন্ম লাভ করে। এভাবেই স্টোলনের সাহায্যে কচু গাছের প্রজনন সম্পন্ন হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
