পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের, যেসব পরিবর্তন মানুষ ও উদ্ভিদসহ অন্যান্য প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর তাই দূষণ।
পানির সর্বোৎকৃষ্ট ব্যবহার হচ্ছে পানি আমরা পান করি। কিন্তু দূষিত পানি পান করলে আমাশয়, ডায়রিয়া, কলেরা, জন্ডিস, টাইফয়েড ইত্যাদি রোগ হয়। পানি দূষিত হলে সে পানিতে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও বাঁচতে পারে না। ফলে পানির পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এজন্য পানি দূষণ ক্ষতিকর।
উদ্দীপকের চিত্রে গাড়ি থেকে যে ধোঁয়া (P) নির্গত হচ্ছে তার ফলে বায়ু দূষণ ঘটে। পরিবেশে এ ধোঁয়া নানা রকম সমস্যার সৃষ্টি করে। এসব ধোঁয়ার সাথে নির্গত হয় কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন কণা এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড। বায়ুতে কার্বন মনোক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গেলে মানুষের শ্বাসকষ্টজনিত রোগ থেকে শুরু করে ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে। এ ধোঁয়া বায়ুর সাথে মিশে এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি করে, যা শুধু মানুষের জন্য নয়, জলজ প্রাণীর জন্যও ক্ষতিকর। এর ফলে বনভূমিও ধ্বংস হচ্ছে। আবার এসব ধোঁয়া বায়ুমণ্ডলের সংস্পর্শে আসার পর পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। যার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে সমুদ্র উপকূলবর্তী নিচু এলাকা পানিতে ডুবে যাবে। এছাড়া কোনো কোনো অঞ্চল খরার কবলে পড়বে। ফলে স্থানীয় জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটবে।
পরিশেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকের গাড়ি হতে নির্গত ধোঁয়া (P) মানুষসহ অন্যান্য প্রাণী ও উদ্ভিদের তথা পরিবেশের বিপর্যয় সৃষ্টি করছে।
উদ্দীপকের সমস্যাটি হচ্ছে বায়ু দূষণ। আর বায়ু দূষণের কারণেই পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। উদ্দীপকের সমস্যাটি সমাধানে
আমাদের করণীয় কাজগুলো নিম্নরূপ-
১. যানবাহন থেকে যেন ক্ষতিকর ধোঁয়া বেরোতে না পারে সেজন্য যানবাহনে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ব্যবহার করতে হবে।
২. যানবাহনে CNG গ্যাসের ব্যবহার বাড়াতে হবে।
৩. বাড়িঘর, স্কুল, রাস্তার পাশে গাছপালা লাগাতে হবে।
৪. শিল্পকারখানা থেকে ধোঁয়া বায়ুতে ছাড়ার আগে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে দূষণমুক্ত করতে হবে।
৫. মানুষ ও অন্যান্য জীবের বসতি অঞ্চল ও শিল্পাঞ্চলের মধ্যে উপযুক্ত দূরত্ব রাখতে হবে।
৬. বায়ু দূষণ রোধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
৭. যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করা বন্ধ করতে হবে।
৮. ঘরবাড়ির ময়লা আবর্জনা ও খাদ্যদ্রব্যের উচ্ছিষ্ট যেখানে সেখানে না ফেলে মাটিতে গর্ত করে মাটিচাপা দিতে হবে।
৯. জনগণকে দূষণের ক্ষতিকারক দিক ও পরিবেশ সংরক্ষণের উপায় সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
পরিশেষে বলা যায় যে, বায়ু দূষণের সমস্যা যেহেতু সামগ্রিকভাবে পুরো পরিবেশের ক্ষতি সাধন করে। তাই তার সমাধানের জন্য সব স্তরের মানুষকে সমানভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।
আমাদের চারপাশের সব জড় ও জীবকে নিয়ে গড়ে উঠেছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। তোমরা জানো বিভিন্ন জড় ও জীবের মধ্যে রয়েছে সম্পর্ক। আবার জীব ও পরিবেশের অন্যান্য অংশের মধ্যেও রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক, যার ফলে আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে বিচিত্র সব কর্মকাণ্ড। পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করে, যার জন্য পরিবেশে সে বিভিন্ন কর্মকান্ড চালায়। কোনো একটি পরিবেশে মানুষ যখন এ ধরনের কর্মকান্ড চালায়, তখন সেখানকার উপাদানসমূহের উপর বিভিন্ন প্রভাব পড়ে।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা
- পরিবেশ দূষণ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পরিবেশের উপাদানসমূহের দূষণের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পরিবেশের উপাদানের উপর দূষণের প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধের উপায় ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পরিবেশ সংরক্ষণে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টিতে উদ্যোগী হব।
- পরিবেশ দূষণ এবং এর প্রভাব পোস্টারে উপস্থাপন করতে পারব।
Related Question
View Allনাইট্রোজেন ও সালফারের অক্সাইডসহ বিভিন্ন অক্সাইড বৃষ্টির পানির সাথে মিশে পানিকে এসিডযুক্ত করে। এ এসিডযুক্ত পানি ভূপৃষ্ঠে বৃষ্টিরূপে পতিত হলে তাকে অম্ল বা এসিড বৃষ্টি বলে।
প্লাস্টিক দীর্ঘদিন যাবৎ মাটিতে পড়ে থাকলে তা পচে নাবা মাটিতে মিশে না। এতে মাটির উর্বরতা শক্তি কমে যায়। এছাড়া মাটির পানি ধারণ ক্ষমতাও কমে যায়। ফলে উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এসব কারণেই প্লাস্টিক মাটির জন্য ক্ষতিকর।
উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, নদীর তীরবর্তী কলকারখানার বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে। আবার নৌযান থেকে নদীতে তেল নির্গত হচ্ছে। এ দুটি ঘটনাই নদীর পানিকে দূষিত করছে। এ দূষণের ফলে নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে এবং পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এ দূষিত পানিতে জলজ প্রাণীগুলো বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারছে না। একই সাথে জলজ প্রাণীগুলো বেঁচে থাকার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ হারাচ্ছে। পানি দূষিত হয়ে বসবাসের অযোগ্য হওয়ায় পানিতে মাছ ও অন্যান্য জলজ পতঙ্গ মারা যায়।
উদ্দীপকের নদীটিতে কলকারখানার বর্জ্য এবং যানবাহন থেকে নির্গত তেল নদীর পানির সাথে মিশে নদীর পানিকে দূষিত করছে। এতে নদীর পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। নদীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে হবে-
১. আবর্জনা ও নর্দমার জঞ্জালসমূহ নদীতে গড়িয়ে পড়ার আগে শোধন করতে হবে।
২. জীবজন্তুর মৃতদেহ পানিতে পচে পানি যাতে দূষিত হতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
৩. শিল্প ও কল-কারখানার বর্জ্য পদার্থ পানিতে পড়ার আগেই তা দূষণমুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪. তেলবাহী জাহাজ ও ট্যাংকার হতে তেল যাতে না পড়ে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।
৫. প্লাস্টিক, পলিথিন ও রাবার নদীতে ফেলা যাবে না।
৬.কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
৭. নদীতে ফেলা ও জমা হওয়া আবর্জনা সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. নদীতে যেকোনো আবর্জনা ফেলা রোধ করতে কঠোর আইন প্রণয়ন করে তার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
৯. জনগণকে দূষণের ক্ষতিকারক দিক ও পরিবেশ সংরক্ষণের উপায় সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের, যেসব পরিবর্তন মানুষ ও উদ্ভিদসহ অন্যান্য প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর তাই দূষণ।
পানির সর্বোৎকৃষ্ট ব্যবহার হচ্ছে পানি আমরা পান করি। কিন্তু দূষিত পানি পান করলে আমাশয়, ডায়রিয়া, কলেরা, জন্ডিস, টাইফয়েড ইত্যাদি রোগ হয়। পানি দূষিত হলে সে পানিতে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও বাঁচতে পারে না। ফলে পানির পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এজন্য পানি দূষণ ক্ষতিকর।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!