মানুষ তার নিজের প্রয়োজন মেটানোর জন্য পরিকল্পনা করে যে বন তৈরি করে তাকে সামাজিক বনায়ন বলে ।
একই জমিতে ইপিল-ইপিল, নারকেল ও লিচু গাছের সাথে আনারস চাষের দুটি সুবিধা হলো-
১. জমির উর্বরাশক্তি বৃদ্ধি পায়।
২. পশুপাখি ও কীটপতঙ্গের আবাস সৃষ্টি।
চিত্রে দেখানো দুই ধরনের বনায়নের মধ্যে ১নং চিত্রের বনায়নকে কৃষি বনায়ন এবং ২নং চিত্রের বনায়নকে সামাজিক বনায়ন বলে। নিচে এ দু ধরনের বনায়নের মধ্যে পার্থক্য দেখানো হলো-
| কৃষি বনায়ন | সামাজিক বনায়ন |
| ১. এ পদ্ধতিতে একই সাথে ফসল, বৃক্ষ, মাছ ও পশুপাখির খাদ্য উৎপাদন করা হয়। | ১. এ পদ্ধতিতে কেবল কাঠ ও ফল উৎপাদনকারী উদ্ভিদ উৎপাদন করা হয়। |
| ২. এ পদ্ধতিতে একই জমি বার বার ব্যবহার করে পর্যায়ক্রমে শস্য ও বৃক্ষ উৎপাদন করা হয়। | ২. এ পদ্ধতিতে একই জমি একাধিকবার ব্যবহারের সুযোগ কম। |
| ৩. ফসলি মাঠ, বাড়ির আঙ্গিনা পাহাড়ি পতিত জমিতে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি বনায়ন করা হয়। | ৩. সড়ক, রাজপথ, রেলপথ ও বাঁধের ধারে এ পদ্ধতিতে বনায়ন করা হয়। |
| ৪. এ পদ্ধতিতে খাদ্য বস্ত্রসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যায়। | ৪. এ পদ্ধতিতে মূল্যবান কাঠ ও নানারকম ফল পাওয়া যায়। |
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় চিত্রের বনায়ন পদ্ধতিদ্বয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় একটি দেশের মোট আয়তনের শতকরা ২৫ ভাগ ভূমিতে বন থাকা অপরিহার্য। আমাদের দেশে বর্তমানে বনের পরিমাণ মোট আয়তনের ১৭ ভাগ। সুতরাং দেশের বনজ সম্পদ বাড়ানোর জন্য কৃষি বন এবং সামাজিক বনের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। এবার দেখা যাক এসব বন কীভাবে পরিবেশের ভারসাম্য রাখতে অবদান রাখে।
১. বনের গাছপালা বাতাসের কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন পরিবেশে ছেড়ে দেয়। ফলে বায়ুমন্ডলে অক্সিজেনের ভারসাম্য বজায় থাকে।
২. এসব বনের গাছপালা বাতাসে জলীয় বাষ্প সরবরাহ করে। ফলে পরিবেশ ঠান্ডা থাকে। এ জলীয় বাষ্প মেঘ ও বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে।
৩. আবহাওয়ার চরমভাবাপন্নতা হ্রাস করে। বায়ু প্রবাহের গতিবেগ নিয়ন্ত্রণ করে।
৪. জীবজন্তুর খাদ্য উৎপাদন করে এবং আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে।
৫. ভূমিক্ষয় ও ভূমিধ্বস থেকে পরিবেশ রক্ষা করে।
৬. টর্নেডো, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে জনপদ রক্ষা করে।
Related Question
View Allবিজ্ঞানের ভাষায় লতা, গুল্ম ও ছোট বড় গাছপালায় আচ্ছাদিত এলাকাকে বন বলে।
সামাজিক বনায়নে অংশগ্রহণের মাধ্যমে গ্রামের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়। সামাজিক বন থেকে প্রাপ্ত মৌ, ফলমূল ও অন্যান্য সামগ্রী এ বনায়নে অংশগ্রহণকারী সবার মাঝে বণ্টন করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
রহিমা বেগমের গাছগুলো হলো নারকেল, শিশু, পেয়ারা ও জাম। এ গাছগুলো লাগানোর ক্ষেত্রে রহিমা বেগম নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করবে-
১. পেয়ারা ও নারকেল গাছ বাড়ির দক্ষিণ এবং পূর্বদিকে লাগাবে। কারণ দক্ষিণ ও পূর্বদিক দিয়ে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস বাড়িতে প্রবেশ করে।
২. শিশু গাছ দক্ষিণ ও পশ্চিমদিকে রোপণ করবে। কারণ এ গাছের পাতা শীতকালে ঝরে যায় বলে সহজে শীতকালে বাড়িতে রোদ আসতে পারে। এছাড়াও এ গাছ কাল-বৈশাখী ঝড়ের কবল থেকে বাড়িঘর রক্ষা করে।
৩. জামগাছ বাড়ির উত্তর, উত্তর-পশ্চিম এবং উত্তর পূর্বদিকে লাগাবে।
বসতবাড়ির চারপাশে যেসব খালি জায়গা থাকে সেখানে যদি পরিকল্পনামাফিক পরিকল্প গাছ লাগানো যায় তবে এসব গাছ থেকে প্রাপ্ত দ্রব্যাদি পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করে। অন্যদিকে বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে। এদিক বিবেচনায় রহিমা বেগমের লাগানো গাছগুলো থেকে প্রাপ্ত ফল তার পরিবারের সবার দৈনন্দিন ফলের চাহিদা পূরণ করবে। গাছগুলোর উচ্ছিষ্টাংশ ও শুকনো ডালপালা তার পরিবারের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করবে। গাছগুলো যখন বড় হবে তখন এগুলোর কাঠ দিয়ে সে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র তৈরি করতে পারবে। শুধু তাই নয় লাগানো এসব গাছপালার অতিরিক্ত ফলমূল, কাঠ তিনি বিক্রি করে দিতে পারবেন। এর মাধ্যমে তার বাড়তি আয় হবে। অর্থাৎ লাগানো গাছগুলো একদিকে' খরচ কমাবে অন্যদিকে আয়ের উৎস হিসেবে কাজ করবে। যার ফলে তার পরিবারে সমৃদ্ধি আসবে এবং সে সচ্ছলভাবে জীবন অতিবাহিত করতে পারবেন।
বাংলাদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার প্রাকৃতিক বনকে পাহাড়ি বন বলে।
বৃহত্তর ঢাকা, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লার সমতল এলাকায় যে প্রাকৃতিক বন রয়েছে তা সমতল ভূমির বন হিসেবে পরিচিত। এসব বনের প্রধান বৃক্ষ শালগাছ। তাই এ বনকে শালবন বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
