বাংলাদেশের একটি কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নাম হলো-বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।
কৃষি কার্যক্রমে যিনি গবেষণা করে নতুন নতুন জাত, প্রযুক্তি আবিষ্কার করেন তিনিই কৃষিবিজ্ঞানী। তিনি একটি ফসলের জীবন চক্র সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন। তাঁর নিকট কৃষি বিষয়ক নানা প্রকার তথ্য পুঞ্জীভূত থাকে। সুতরাং কৃষিবিজ্ঞানী কৃষি বিষয়ক তথ্য পরিবেশনের জন্য একজন নির্ভরশীল ব্যক্তি।
উদ্দীপকে উপস্থাপিত বিষয়টিতে একটি কৃষক সভা বা উঠোন বৈঠক দেখানো হয়েছে। কোনো একটি গ্রামের বা মহল্লার সকল কৃষককে একসাথে কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন সমস্যার সমাধান সম্পর্কে অবহিত করা, নতুন কৃষি বিষয়ক পরামর্শ প্রদান ও ভবিষ্যৎ সতর্কতা ইত্যাদি সম্পর্কিত বিষয়াবলি জানানোর জন্য এ ধরনের সভার আয়োজন করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত থাকেন একজন কৃষি কর্মকর্তা বা কৃষিবিদ। তিনি সকল কৃষককে পরামর্শ প্রদান করেন। পাশাপাশি তাদের সমস্যাগুলো সম্পর্কে অবহিত হন এবং তাৎক্ষণিক সমাধান প্রদান করেন। কোনো একটি নির্দিষ্ট কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে কৃষকদের অবহিত করার জন্যও এ ধরনের সভার আয়োজন করা হয়।
মোটকথা এ ধরনের সভার মাধ্যমে একসাথে বহু কৃষককে যেকোনো কৃষিবিষয়ক তথ্য দেওয়া যায় এবং প্রযুক্তি শেখানো যায়।
বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। এ দেশের বেশিরভাগ লোকই কৃষি পেশার সাথে জড়িত। আবার কৃষি পেশার সাথে জড়িত এসব লোকের অধিকাংশই অশিক্ষিত এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে অজ্ঞ। অজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই কৃষকরা তাদের কৃষি সমস্যার সমাধান পান না। এ অবস্থায় কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে জানানো এবং তাদের সমস্যার সমাধান দেওয়ার জন্য উদ্দীপকে দেখানো কৃষক সভা বা উঠোন বৈঠক কার্যকর একটি কৌশল হতে পারে। এ ধরনের সভার মাধ্যমে একসাথে অনেক কৃষকের কাছে সরাসরি তথ্য পৌছানো যায়। আবার কৃষক সরাসরি প্রশ্ন করে তাদের সমস্যার সমাধান সম্পর্কেও জানতে পারেন। অর্থাৎ কোনো জটিলতা ছাড়া স্থানীয়ভাবে কৃষি বিষয়ে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছ থেকে সমাধান পাওয়ার ক্ষেত্রে, কৃষক সভা বা উঠোন বৈঠক খুবই কার্যকর একটি কৌশল।
Related Question
View Allজমিতে বেড়া ছাড়া অর্থাৎ খোলা অবস্থায় যেসব ফসল চাষ করা হয় সেগুলোকে মাঠ ফসল বলে। যেমন- ধান, গম, পাট ইত্যাদি।
মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো সংবিধান অনুসারে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা। এ সবকটি চাহিদা পূরণ হয় কৃষি থেকে। ধান থেকে চাল, গম গাছ থেকে গম, ফলগাছ থেকে ফল খাদ্য হিসেবে পাই। পাট, তুলা ও রেশম থেকে কাপড় তৈরির সুতা পাই। কাঠ, বাঁশ, খড়, শন, গোলপান্ডা ইত্যাদি থেকে গৃহনির্মাণ সামগ্রী ও আসবাবপত্র পাই। বাঁশ, খড়, নাড়া, গবাদিপশুর বিষ্ঠা, গাছের ডালপালা ইত্যাদি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করি। কাঠ ও আখের ছোবড়া, বাঁশ ইত্যাদি থেকে কাগজ পাই। আমলকী, হরীতকী, বহেড়া, কেশুটি, থানকুনি, বাশক ইত্যাদি থেকে ঔষধ পাওয়া যায়। আর এ সবকিছুই হলো কৃষি।
সুতরাং বলা যায়, কৃষিই মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে।
চিত্র 'ক'- এর ফসলটি হলো ধান। আর ধান হলো মাঠ ফসল।
ধানকে মাঠ ফসল বলার কারণগুলো নিম্নরূপ-
১. ধান জমিতে বেড়া ছাড়া অর্থাৎ খোলা অবস্থায় চাষ করা হয়।
২. প্রতিটি গাছের আলাদাভাবে যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
৩. প্রতিটি গাছের গোড়ায় আলাদাভাবে সার দিতে হয় না।
৪. প্রতিটি গাছের গোড়ায় আলাদাভাবে সেচ দিতে হয় না।
৫. চাষ করার জন্য সমতল ও নিচু জমি উত্তম।
সর্বোপরি ধান একটি দানা জাতীয় ফসল। আর দানাজাতীয় ফসল মানেই মাঠ ফসল।
চিত্র 'ক'-এর ফসলটির নাম ধান এবং চিত্র 'খ'- এর ফসলটি হলো আম। ধান হলো মাঠ ফসল অন্যদিকে আম একটি উদ্যান ফসল। কারো যদি একখণ্ড জমি থাকে তবে সে তার জমিতে বছরে তিন বার ধান চাষ করতে পারে। এর মাধ্যমে সে তার সারা বছরের খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত অংশ বিক্রি করে অন্যান্য চাহিদাও পূরণ করতে পারে। ধানের উৎপাদন খরচও খুব বেশি লাগে না। পক্ষান্তরে আম চাষের জন্য উঁচু জমির দরকার হয়। একটি আমগাছ লাগিয়ে তা থেকে ফলন পাওয়ার জন্য কমপক্ষে ৪-৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়। আবার একবছর আম ধরলে পরবর্তী বছর আম নাও ধরতে পারে অথবা কম ধরবে। আম চাষে প্রতিটি গাছের আলাদা যত্ন নিতে হয় বলে গাছ প্রতি খরচও বেশি পড়ে।
সুতরাং অর্থনৈতিক বিবেচনায় আমের চেয়ে ধান বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।
কৃষি বিষয়ক একটি সমস্যার নাম হলো ফসলের রোগ-বালাই।
কৃষি একটি প্রযুক্তি। আর এ প্রযুক্তির সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ফল লাভের জন্য অভিজ্ঞতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন অভিজ্ঞ কৃষক তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কৃষির যেকোনো তথ্য দিতে পারেন। একজন অভিজ্ঞ কৃষকের কাছ থেকে নবীন কৃষকরা তথ্য নিয়ে তাদের সমস্যার সমাধান করেন এবং পরবর্তীতে তারাও অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেন। আর এভাবে অভিজ্ঞ কৃষক কৃষিকে চলমান রাখেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
