কোনো বস্তুতে আলো পড়ে তা যদি ফিরে না আসে তাহলে তাকে শোষণ বলে।
কোনো বস্তুতে আলো পড়ে যদি তা বাধা পেয়ে ফিরে আসে তা হলো প্রতিফলন, আর মসৃণ তলের উপর এ প্রতিফলন হলো নিয়মিত প্রতিফলন। এখানে আলো এসে যে কোণে পড়ছে ঠিক সে কোণেই ফিরে যাচ্ছে। কোনো পৃষ্ঠে আলোর এ পতনকে বলা হয় আপতন এবং পৃষ্ঠ থেকে বাধা পেয়ে ফিরে যাওয়াকে বলা হয় প্রতিফলন। যেহেতু মসৃণ তলে আলো যে কোণে পড়ছে ঠিক সে কোণেই ফিরে যাচ্ছে। সুতরাং আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণ সমান।
উদ্দীপকের চিত্র-ক এ আলো মসৃণ তলে আপতিত হচ্ছে বলে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন হচ্ছে। আমরা জানি, একগুচ্ছ 'আলোকরশ্মি সমান্তরালভাবে কোনো পৃষ্ঠে আপতিত হয়ে প্রতিফলনের পর সমান্তরাল থাকলে আলোর সেই প্রতিফলন হবে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন। চিত্র-ক তে আলোকরশ্মি সমান্তরালভাবে মসৃণ তলে আপতিত হয়েছে এবং প্রতিফলিত হচ্ছে সমান্তরালভাবে। আর সমান্তরালভাবে প্রতিফলন হলো আলোর নিয়মিত প্রতিফলন। অতএব, বলা যায় যে, মসৃণ তলে অর্থাৎ চিত্র-ক তে আলো যে কোণে আপতিত হবে ঠিক সেই কোণে প্রতিফলিত হবে অর্থাৎ এর নিয়মিত প্রতিফলন হবে।
উদ্দীপকের চিত্র-ক ও চিত্র-খ এর আলোর প্রতিফলন যথাক্রমে মসৃণ তলে ও অমসৃণ তলে। সুতরাং এদের আলোর প্রতিফলন এক নয়। কোনো বস্তুতে আলো পড়ে যদি তা বাধা পেয়ে ফিরে আসে তা হলো আলোর প্রতিফলন। প্রতিফলন দুই প্রকার; যথা- নিয়মিত প্রতিফলন ও ব্যাপ্ত প্রতিফলন। যদি একগুচ্ছ সমান্তরাল আলোক রশ্মি কোনো পৃষ্ঠে আপতিত হয়ে প্রতিফলনের পর রশ্মিগুচ্ছ সমান্তরাল থাকে তবে আলোর সেই প্রতিফলন হলো নিয়মিত প্রতিফলন। প্রতিফলক পৃষ্ঠ মসৃণ হলে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে, অর্থাৎ সমতল দর্পণে নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে। এক্ষেত্রে প্রত্যেকটি আলোকরশ্মির আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণ সমান। আবার যদি একগুচ্ছ সমান্তরাল আলোকরশ্মি কোনো পৃষ্ঠে আপতিত হয়ে প্রতিফলনের পর সমান্তরাল না থাকে তবে আলোর সেই প্রতিফলন হলো ব্যান্ড প্রতিফলন। প্রতিফলক পৃষ্ঠ মসৃণ না হলে এরূপ ঘটে। এক্ষেত্রে সমান্তরাল রশ্মিগুলো প্রতিফলক পৃষ্ঠের বিভিন্ন বিন্দুতে বিভিন্ন কোণে আপতিত হয়, ফলে তাদের প্রতিফলন কোপও বিভিন্ন হয় অর্থাৎ প্রতিফলিত রশ্মিগুলো সমান্তরাল থাকে না। সুতরাং উপরোক্ত আলোচনার আলোকে বলতে পারি যে চিত্র-ক তে আলোকরশ্মি মসৃণ তলে আপতিত হয়ে সমান্তরালভাবে প্রতিফলিত হয়েছে তাই এটি আলোর নিয়মিত প্রতিফলন। আবার চিত্র-খ তে আলোকরশ্মি অমসৃণ তলে আপতিত হওয়ায় প্রতিফলন সমান্তরালে হয় নি, তাই এক্ষেত্রে ব্যাপ্ত প্রতিফলন হয়েছে।
Related Question
View Allকোনো বস্তুতে আলো পড়ে যদি তা বাধা পেয়ে ফিরে আসে, তা হলে তাকে আলোর প্রতিফলন বলে।
কোনো বিন্দু থেকে নিঃসৃত আলোক রশ্মিগুচ্ছ প্রতিফলিত বা প্রতিসরিত হয়ে যদি দ্বিতীয় কোনো বিন্দুতে মিলিত হয় বা দ্বিতীয় কোনো বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয়, তাহলে ঐ বিন্দুকে প্রথম বিন্দুর প্রতিবিম্ব বলে।
আমরা জানি, কোনো বস্তু থেকে আলো এসে আমাদের চোখে পড়লে আমরা বস্তুটি দেখতে পাই। আবার কোনো বস্তু থেকে কোনো মসৃণ তলে আলো প্রতিফলিত হয়ে অন্য কোনো মসৃণ বা চকচকে পৃষ্ঠে পড়লে ঐ পৃষ্ঠে বস্তুটির প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার কারণে আমরা কোনো দর্পণের সামনে দাঁড়ালে আমাদের প্রতিবিম্ব দেখতে পাই। সমতল দর্পণ বা আয়নার ক্ষেত্রে অসদ ও সোজা প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। এক্ষেত্রে দর্পণের যত সামনে বস্তু, থাকে, দর্পণের ঠিক ততটুকু পেছনে বস্তুটির প্রতিবিম্ব দেখা যায় এবং বিম্বের আকার বস্তুর আকারের সমান হয়। এ কারণে সামিন বেসিনের আয়নার সামনের দিকে যেতে থাকলে, আয়নায় তার প্রতিচ্ছবিও সামনের দিকে আসে এবং দূরে যাওয়ার সাথে সাথে প্রতিচ্ছবি দূরে সরে যায়।
সামিনের বাসায় প্রস্তুতকৃত পেরিস্কোপ দিয়ে স্কুলের অনুরূপ বাইরের দৃশ্য দেখা সম্ভব হবে না।
উত্তরের সপক্ষে যুক্তি: পেরিস্কোপে সাধারণত দর্পণ দুটিকে দর্পণের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণ করে রাখা হয়। এতে আলো প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়লে আমরা বস্তুটি দেখি। পেরিস্কোপের দর্পণদ্বয় সমান্তরালে থাকে এবং ৯০° কোণে আলোর বিসরণ ঘটায়। সামিন যে পেরিস্কোপটি তৈরি করেছে তাতে সে দর্পণকে ৩০° কোণে রেখেছে এতে বস্তু থেকে আলো এসে ১ম দর্পণে পড়লে তাতে আপতন কোণ হবে ৬০°। এর ফলে আলো দ্বিতীয় দর্পণে পৌছাতে পারবে না। কারণ এক্ষেত্রে আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণ সমান হবে না। দ্বিতীয় দর্পণে আলো না পৌছালে তা আর আমাদের চোখে পৌঁছাবে না। তাই সামিনের তৈরি পেরিস্কোপ দিয়ে স্কুলের অনুরূপ বাইরের দৃশ্য দেখা যাবে না।
কোনো মসৃণ পৃষ্ঠে আলো পড়ে বাধা পেয়ে ফিরে আসাকে প্রতিফলন বলে।
আলোর প্রতিফলনের দুটি নিয়ম রয়েছে।'
১. আপতিত রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি এবং আপতন বিন্দুতে প্রতিফলকের উপর অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে।
২. আপতন কোণ সর্বদা প্রতিফলন কোণের সমান হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
