যেসব প্রাণীকে এদের দেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর একাধিকবার সমান দু'অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে অরীয় প্রতিসম প্রাণী বলে।
চিংড়ি আর্থ্রোপোডা পর্বভুক্ত প্রাণী। পক্ষান্তরে মাছ কর্ডাটা শ্রেণির অস্টিকথিস শ্রেণিভুক্ত। মাছের দেহ আঁইশ দ্বারা আবৃত থাকে, যা চিংড়িতে অনুপস্থিত। আবার মাছের মাথার দুইপাশে চারজোড়া ফুলকা থাকে, যা কানকো দিয়ে ঢাকা থাকে। চিংড়ির দেহে এ ধরনের কোনো ফুলকা নেই। অর্থাৎ মাছের বৈশিষ্ট্য থেকে ভিন্নধর্মী বৈশিষ্ট্যের কারণেই চিংড়ি মাছ নয়।
চিত্রের A প্রাণীটি হলো ইলিশ মাছ। যা অস্টিকথিস শ্রেণির অন্তর্গত। নিচে এ শ্রেণির বৈশিষ্ট্য দেওয়া হলো-
১. অধিকাংশই স্বাদু পানির মাছ।
২. দেহ সাইক্লোয়েড, গ্যানয়েড বা টিনয়েড ধরনের আঁইশ দ্বারা আবৃত।
৩, মাথার দুপাশে চার জোড়া ফুলকা থাকে।
৪. ফুলকাগুলো কানকো দিয়ে ঢাকা থাকে।
৫. ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্রের A ও B নির্দেশিত প্রাণীদ্বয় যথাক্রমে ইলিশ মাছ ও তারামাছ। প্রাণী দুটি একই পর্বভুক্ত কি-না তা নিচে যুক্তি প্রদর্শনপূর্বক উপস্থাপন করা হলো-
ইলিশ মাছ যা কর্ডাটা পর্বের অস্টিকথিস শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এ শ্রেণির অধিকাংশই স্বাদু পানিতে বসবাস করে। দেহ সাইক্লোয়েড, গ্যানয়েড বা টিনয়েড আইশ দ্বারা আবৃত। মাথার দুই পাশে চার জোড়া ফুলকা থাকে। ফুলকাগুলো কানকো দ্বারা ঢাকা থাকে। ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। তারামাছ যা একাইনোডারমাটা পর্বের অ্যাস্টেরইডি শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
এরা পৃথিবীর সকল মহাসাগরে এবং সকল গভীরতায় বসবাস করতে পারে। এরা অধিকাংশ মুক্তজীবী। দেহত্বক কাঁটাযুক্ত। দেহ পাঁচটি সমান ভাগে বিভক্ত। পানি সংবহনতন্ত্র থাকে এবং নালিপদের সাহায্যে চলাচল করে। এদের মাথা চিহ্নিত করা যায় না।
উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ইলিশ মাছ (A) ও তারামাছ (B) একই পর্বভুক্ত নয়।
Related Question
View Allযেসব প্রাণীর দেহকে কেন্দ্রীয় লম্ব অক্ষ বরাবর কেটে সদৃশ দুইয়ের বেশি সংখ্যক অংশে ভাগ করা যায়, তাদেরকে অরীয় প্রতিসম প্রাণী বলে।
দোয়েল পাখি উড়তে পারে কারণ দোয়েল পাখি Aves তথা পক্ষীকুল শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত একটি প্রাণী। এ পাখির অস্থি হালকা, ফাঁপা ও বায়ুপূর্ণ। এছাড়াও ফুসফুসের সাথে বায়ুথলি নামক বিশেষ ধরনের অঙ্গ উপস্থিত। যার কারণে দোয়েল পাখি সহজেই উড়তে পারে।
চিত্র: A এর প্রাণীটি হচ্ছে তেলাপোকা, যা আর্থ্রোপোডা পর্বভুক্ত। নিচে আর্থ্রোপোডা পর্বের সাধারণ বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো-
১.দেহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত ও সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ বিদ্যমান।
২. মাথায় একজোড়া পুঞ্জাক্ষি ও অ্যান্টেনা থাকে।
৩. নরম দেহ কাইটিন সমৃদ্ধ শক্ত আবরণী দ্বারা আবৃত।
৪. দেহের রক্তপূর্ণ গহ্বর হিমোসিল নামে পরিচিত।
যচিত্র: B হচ্ছে টিকটিকি যা কর্ডাটা পর্বের এবং চিত্র: C হচ্ছে শামুক যা মলাস্কা পর্বের অন্তর্ভুক্ত। জীবজগতে শ্রেণিবিন্যাসের রীতি অনুযায়ী বৈশিষ্ট্যের বিচারে অনুন্নত জীবগুলো শ্রেণিবিন্যাসের প্রথম দিকে থাকে এবং উন্নত জীবগুলো শ্রেণিবিন্যাসের শেষের দিকে থাকে। এ হিসেবে কর্ডাটা পর্বের প্রাণীরা অন্যান্য প্রাণী অপেক্ষা উন্নত। তাই টিকটিকি শামুক অপেক্ষা উন্নত। নিচে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হলো-
শামুকের দেহ নরম, নরম দেহ শক্ত খোলস দ্বারা আবৃত থাকে। এরা পেশিবহুল পা দিয়ে চলাচল করে। ফুসফুস বা ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। আর টিকটিকির ক্ষেত্রে, এদের সারা জীবন অথবা ভূণ অবস্থায় পৃষ্ঠীয়দেশ বরাবর নটোকর্ড থাকে। নটোকর্ড হলো একটা নরম, নমনীয় দণ্ডাকার দৃঢ় ও অখণ্ডায়িত অঙ্গ। পৃষ্ঠদেশে একক বা ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু থাকে। এই নটোকর্ড এক সময় মেরুদণ্ড দ্বারা
প্রতিস্থাপিত হয়। এই মেরুদন্ড থাকার কারণেই কর্ডাটা পর্বের প্রাণীরা মলাস্কা পর্বের প্রাণী অপেক্ষা উন্নত। তাই আমরা বলতে পারি টিকটিকি ও শামুকের মধ্যে টিকটিকি উন্নত।
নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের দেহগহ্বরকে সিলেন্টেরন বলে।
যেসব মেরুদণ্ডী প্রাণী বুকে ভর করে চলে এবং যাদের ত্বক শুষ্ক ও আঁইশযুক্ত তাদেরকে সরীসৃপ প্রাণী বলে। সাপ বুকে ভর করে চলে, এদের ত্বক শুষ্ক ও আঁইশযুক্ত। তাই সাপকে সরীসৃপ প্রাণী বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
