সাধারণ কাজ ছাড়াও ক্ষেত্র বিশেষে বিভিন্ন ধরনের কাজ সম্পন্ন করার জন্য যেসব কাণ্ডের আকৃতিগত ও অবস্থাগত পরিবর্তন ঘটে সেসব কাণ্ডকে রূপান্তরিত কাণ্ড বলে।
সুন্দরী উদ্ভিদে প্রধান মূল হতে শাখামূল বের হয়ে মাটির উপরে খাড়াভাবে থাকে। এসব মূলে' ছোট ছোট ছিদ্র থাকে। এ ছিদ্র দিয়েই। উদ্ভিদটির প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের সরবরাহ ঘটে। এজন্যই লবণাক্ত মাটির ঐ পরিবেশে সুন্দরী উদ্ভিদের শ্বাসকার্যের কোনো অসুবিধা হয় না।
উদ্দীপকের চিত্রে 'X' ও 'Y' হচ্ছে যথাক্রমে পেঁয়াজ ও আলু। এ দুটি ভূ-নিম্নস্থ রূপান্তরিত কাণ্ডের উদাহরণ। তবে এদের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। নিচে এ রকম কয়েকটি পার্থক্য দেখানো হলো-
| পেঁয়াজ | আলু |
| ১. এটি কন্দ প্রকৃতির কান্ড। | ১. এটি স্ফীত কন্দ প্রকৃতির কান্ড। |
| ২. এর কন্দটিকে দেখা যায় না। | ২. এর স্ফীত কন্দ বাহির থেকে দেখা যায়। |
| ৩. এর শল্কপত্র রসালো ও পুরু হয়। | ৩. এর শল্কপত্র পুষ্ট ও পাতলা হয়। |
| ৪. এর নিচ হতে গুচ্ছমূল বের হয়। | ৪. 'এর গুচ্ছমূল হয় না। |
| ৫. এদের শল্কপত্রে কোনো চোখ থাকে না। | ৫. এদের শল্কপত্রের গর্তে চোখ থাকে। |
| ৬. সাধারণত একটি নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়। | ৬. একাধিক নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়। |
উদ্দীপকের চিত্র X ও Y অর্থাৎ পেঁয়াজ ও আলু আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকার দুটি উল্লেখযোগ্য সবজি। নিচে এদের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা হলো-
পেঁয়াজের প্রয়োজনীয়তা: পেঁয়াজ মূলত সবজি। তবে পেঁয়াজকে আমরা সরাসরি সবজি হিসেবে ব্যবহার না করে মশলা হিসেবে ব্যবহার করে থাকি। রান্না-বান্নায় এমন কোনো তরকারি নেই যেখানে পেঁয়াজ ব্যবহৃত হয় না। মূলত পেঁয়াজের ঝাঁঝালো ঘ্রাণ তরকারির স্বাদকে বৃদ্ধি করে। পেঁয়াজের পাতাকেও রান্নার কাজে ব্যবহার করা যায়। তবে এটি মশলার পরিবর্তে বা সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
আলুর প্রয়োজনীয়তা: আলু একটি বহুল ব্যবহৃত সবজি। এটি একটি শর্করা জাতীয় খাদ্য। আমরা খাদ্য হিসেবে ভাতের পর আলুই বেশি খেয়ে থাকি। এটি আমাদের দৈনন্দিন শর্করার চাহিদাকে পূরণ করছে। বাচ্চা থেকে শুরু করে বৃদ্ধরা পর্যন্ত আলু পছন্দ করে। তাই খাদ্যে আলুর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। তাছাড়া আলু হতে তৈরি চিপস, ফ্রেঞ্চফ্রাই ইত্যাদি খাদ্য সবারই প্রিয়। অন্যদিকে, আলু চাষ করে অনেকেই নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করছে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা গেল, খাদ্য ও চাষাবাদের ক্ষেত্রে পেঁয়াজ ও আলুর প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত বেশি।
কখনো কখনো উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড ও পাতা এমনভাবে রূপান্তরিত হয় যে তাদের চেনাই যায় না। কেন এরা রূপান্তরিত হয় এবং কীভাবেই বা তাদের নিজ রূপে চেনা যাবে এ অধ্যায়ে তা আলোচনা করা হবে।

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
- রূপান্তরিত মূলের গঠন ব্যাখ্যা করতে পারব।
- রূপান্তরিত কান্ডের গঠন ব্যাখ্যা করতে পারব।
- রূপান্তরিত পত্রের গঠন ব্যাখ্যা করতে পারব।
- রূপান্তরিত মূল, কাণ্ড ও পাতার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- রূপান্তরিত মূল, কাণ্ড ও পাতার চিত্র অঙ্কন করতে পারব।
- আমাদের জীবনে রূপান্তরিত মূল, কাণ্ড ও পাতার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারব।
Related Question
View Allকোনো কোনো আরোহী উদ্ভিদের কাক্ষিক মুকুল শাখায় পরিণত না হয়ে প্রচুর খাদ্য সঞ্চয় করে গোলাকার মাংসপিন্ডের আকার ধারণ করে, একে বুলবিল বলে।
পাথরকুচি পাতা এক ধরনের রূপান্তরিত পাতা। পাতার মাধ্যমে এরা প্রজনন করে থাকে। পাথরকুচি উদ্ভিদে পাতার কিনারা থেকে কুঁড়ি গজায়। ধীরে ধীরে এসব কুঁড়ি থেকে নিচের দিকে গুচ্ছমূলও গজায় এবং কোনো এক সময় গুচ্ছমূল মুক্ত হয়ে স্বাধীন উদ্ভিদের জন্ম দেয়।
উদ্দীপকের চিত্র X হলো ভূনিম্নস্থ পরিবর্তিত কাণ্ড আদা। আদার কান্ড রাইজোম জাতীয়। নিচে আদার ব্যবহারিক দিক ব্যাখ্যা করা হলো-
আদা একটি উদ্ভিদ মূল যা মানুষের রান্নার মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি তরকারির স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ায়। আদা খাদ্যশিল্পে পানীয় তৈরিতে, আচার, ঔষধ ও সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। মুখের রুচি বাড়াতে ও বদহজম রোধে আদা শুকিয়ে চিবিয়ে খাওয়া হয়। ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগ, যেমন- সর্দি-কাশি, গলাব্যথা, স্বরভঙ্গ, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস প্রভৃতি নিরাময়ে রং চায়ের সাথে আবার মিশ্রণ খুবই উপকারী, শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতেও আদার রস বেশ কার্যকরী। এছাড়া হৃৎপিন্ড ও মস্তিষ্কের উদ্দীপনা বাড়াতেও আদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
সুতরাং আমাদের প্রাত্যহিক জীবন-যাপনে আদার ব্যবহারিক দিক বা গুরুত্ব উল্লেখযোগ্য।
উদ্দীপকের চিত্র Y হলো গোল আলু এবং চিত্র Z হলো মিষ্টি আলু। নিচে এদের বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো-
১. গোল আলু ভূ-নিম্নস্থ রূপান্তরিত কাণ্ড। অপরদিকে মিষ্টি আলু রূপান্তরিত অস্থানিক মূল।
২. গোল আলু খাদ্য সঞ্চয়ের জন্য স্ফীত হয়ে গোলাকার রূপ ধারণ করে। অন্যদিকে মিষ্টি আলু খাদ্য সঞ্চয় করার ফলে অনিয়মিতভাবে স্ফীত হয়ে অনির্দিষ্ট আকার ধারণ করে।
৩. গোল আলু স্ফীতকন্দের উদাহরণ। পক্ষান্তরে মিষ্টি আলু কন্দাল মূলের উদাহরণ।
৪. গোল আলু থেকে মূল উৎপন্ন হয় না। কিন্তু মিষ্টি আলুর কন্দাল অস্থানিক মূল মাটির কাছাকাছি কাণ্ডের পর্ব হতে উৎপন্ন হয়।
৫. অনুকূল ঋতুতে গোল আলুর চোখ হতে কাক্ষিক মুকুল বৃদ্ধি পেয়ে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি করে। অন্যদিকে মিষ্টি আলুর অস্থানিক কন্দাল মূল প্রজননে অংশগ্রহণ করে পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ সৃষ্টি করে।
কোনো কোনো জলজ উদ্ভিদের পর্বমধ্যগুলো ছোট ও মোটা হওয়ার জন্য কাণ্ডকে খর্বাকৃতি দেখায়, এগুলোই অফসেট।
কলসি উদ্ভিদ এক ধরনের লতানো গাছ ও ঝাঁঝি নামক জলজ উদ্ভিদের পাতা রূপান্তরিত হয়ে কলসি বা থলের ন্যায় রূপ ধারণ করে। এর মধ্যে পোকামাকড় ঢুকলে কলসির ঢাকনাটি বন্ধ হয়ে যায়, পরে গাছ তার দেহ থেকে রস শুষে নেয়। এ কারণেই কলসি উদ্ভিদকে পতঙ্গ ফাঁদ বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!