বিশাল জীবজগতকে চেনা বা জানার জন্য এদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিভিন্ন স্তর বা ধাপে সাজানো বা বিন্যস্ত করার পদ্ধতিই হলো শ্রেণিবিন্যাস।
বৈজ্ঞানিক নাম বলতে আন্তর্জাতিকভাবে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি মেনে জীবের নাম নির্ধারণ করাকে বুঝায়। এ নামের দুটি অংশ বা পদ থাকে। প্রথম অংশটি গণ এবং দ্বিতীয় অংশটি প্রজাতি। বৈজ্ঞানিক নাম অবশ্যই ল্যাটিন অথবা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। যেমন-মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens.
উদ্দীপকের P প্রাণীটি ঘাস ফড়িং। এটি আর্থ্রোপোডা পর্বের ইনসেক্টা শ্রেণির প্রাণী। প্রাণীটি পর্যবেক্ষণ করলে আর্থ্রোপোডা পর্বের ইনসেক্ট। শ্রেণির প্রাণীদের নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যাবলি দেখা যায়-
১. দেহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত ও সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ বিদ্যমান।
২. এর মাথায় একজোড়া পুঞ্জাক্ষি ও' অ্যান্টেনা থাকে।
৩. দেহ সুস্পষ্ট মস্তক, বক্ষ ও উদরে বিভক্ত।
৪. নরম দেহ কাইটিন সমৃদ্ধ শক্ত আবরণী দ্বারা আবৃত।
৫. দেহের রক্তপূর্ণ গহ্বর হিমোসিল নামে পরিচিত।
উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যাবলির কারণে ঘাস ফড়িং আর্থ্রোপোডা পর্বের ইনসেক্টা শ্রেণির প্রাণী।
উদ্দীপকের P ও Q চিত্রের প্রাণী দুটি যথাক্রমে ঘাস ফড়িং ও পাখি।
ঘাস ফড়িং-এর দেহে মেরুদণ্ড নেই। এর দেহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত ও সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গবিশিষ্ট, মাথায় পুঞ্জাক্ষি ও অ্যান্টেনা আছে, দেহ আবরণী কাইটিন নির্মিত, দেহের রক্তপূর্ণ গহ্বর হিমোসিল। এসব বৈশিষ্ট্য আর্থ্রোপোডা পর্বের ইনসেক্টা শ্রেণির প্রাণীদের দেখা যায়। অন্যদিকে পাখির দেহ পালকে আবৃত, সামনের দুটি পা ডানায় ও চোয়াল চক্ষুতে পরিণত হয়েছে। উড়ার জন্য এর ফুসফুসের সাথে বায়ুথলি রয়েছে। এরা উষ্ণ রক্তের প্রাণী। এর ভ্রূণীয় নটোকর্ড মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত হয়েছে। এছাড়া এর হাড় শক্ত, হালকা ও ফাঁপা। কর্ডাটা পর্বের পক্ষীকুল (এভিস) শ্রেণির প্রাণীদের এসব বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। অর্থাৎ পাখি এভিস শ্রেণির প্রাণী।
চিত্রের প্রাণী দুটির তুলনামূলক আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে গঠন বৈশিষ্ট্যে পর্ব ও শ্রেণিগত পার্থক্যের কারণে প্রাণী দুটিকে ভিন্ন শ্রেণিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।
Related Question
View Allযেসব প্রাণীর দেহকে কেন্দ্রীয় লম্ব অক্ষ বরাবর কেটে সদৃশ দুইয়ের বেশি সংখ্যক অংশে ভাগ করা যায়, তাদেরকে অরীয় প্রতিসম প্রাণী বলে।
দোয়েল পাখি উড়তে পারে কারণ দোয়েল পাখি Aves তথা পক্ষীকুল শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত একটি প্রাণী। এ পাখির অস্থি হালকা, ফাঁপা ও বায়ুপূর্ণ। এছাড়াও ফুসফুসের সাথে বায়ুথলি নামক বিশেষ ধরনের অঙ্গ উপস্থিত। যার কারণে দোয়েল পাখি সহজেই উড়তে পারে।
চিত্র: A এর প্রাণীটি হচ্ছে তেলাপোকা, যা আর্থ্রোপোডা পর্বভুক্ত। নিচে আর্থ্রোপোডা পর্বের সাধারণ বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো-
১.দেহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত ও সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ বিদ্যমান।
২. মাথায় একজোড়া পুঞ্জাক্ষি ও অ্যান্টেনা থাকে।
৩. নরম দেহ কাইটিন সমৃদ্ধ শক্ত আবরণী দ্বারা আবৃত।
৪. দেহের রক্তপূর্ণ গহ্বর হিমোসিল নামে পরিচিত।
যচিত্র: B হচ্ছে টিকটিকি যা কর্ডাটা পর্বের এবং চিত্র: C হচ্ছে শামুক যা মলাস্কা পর্বের অন্তর্ভুক্ত। জীবজগতে শ্রেণিবিন্যাসের রীতি অনুযায়ী বৈশিষ্ট্যের বিচারে অনুন্নত জীবগুলো শ্রেণিবিন্যাসের প্রথম দিকে থাকে এবং উন্নত জীবগুলো শ্রেণিবিন্যাসের শেষের দিকে থাকে। এ হিসেবে কর্ডাটা পর্বের প্রাণীরা অন্যান্য প্রাণী অপেক্ষা উন্নত। তাই টিকটিকি শামুক অপেক্ষা উন্নত। নিচে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হলো-
শামুকের দেহ নরম, নরম দেহ শক্ত খোলস দ্বারা আবৃত থাকে। এরা পেশিবহুল পা দিয়ে চলাচল করে। ফুসফুস বা ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। আর টিকটিকির ক্ষেত্রে, এদের সারা জীবন অথবা ভূণ অবস্থায় পৃষ্ঠীয়দেশ বরাবর নটোকর্ড থাকে। নটোকর্ড হলো একটা নরম, নমনীয় দণ্ডাকার দৃঢ় ও অখণ্ডায়িত অঙ্গ। পৃষ্ঠদেশে একক বা ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু থাকে। এই নটোকর্ড এক সময় মেরুদণ্ড দ্বারা
প্রতিস্থাপিত হয়। এই মেরুদন্ড থাকার কারণেই কর্ডাটা পর্বের প্রাণীরা মলাস্কা পর্বের প্রাণী অপেক্ষা উন্নত। তাই আমরা বলতে পারি টিকটিকি ও শামুকের মধ্যে টিকটিকি উন্নত।
নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের দেহগহ্বরকে সিলেন্টেরন বলে।
যেসব মেরুদণ্ডী প্রাণী বুকে ভর করে চলে এবং যাদের ত্বক শুষ্ক ও আঁইশযুক্ত তাদেরকে সরীসৃপ প্রাণী বলে। সাপ বুকে ভর করে চলে, এদের ত্বক শুষ্ক ও আঁইশযুক্ত। তাই সাপকে সরীসৃপ প্রাণী বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
