বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ছিল ৩৪ জন।
প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের কেন্দ্র বিন্দু এবং সরকার প্রধান। তাঁকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের শাসনকার্য পরিচালিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা দেশের প্রকৃত শাসক। প্রধানমন্ত্রীর কার্যকাল পাঁচ বছর। তবে তার আগে কোনো কারণে সংসদ তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনলে এবং তা সংসদে গৃহীত হলে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়। প্রধানমন্ত্রী স্বেচ্ছায়ও পদত্যাগ করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে তাঁর মন্ত্রিসভাও ভেঙে যায়। তাই প্রধানমন্ত্রীকে সরকারের স্তম্ভ বলা হয়।
বিষয়বস্তু দিয়ে উদ্দীপকের চার্টটি পূরণ করা হলো-
সংবিধান সংশোধন ও সন | বিষয়বস্তু |
(ক) প্রথম সংশোধনী জুলাই, ১৯৭৩ | ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিধান করা হয়। |
(খ) চতুর্থ সংশোধনী জানুয়ারি, ১৯৭৫ | সংসদীয় সরকারব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। উপরাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি এবং সকল রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে মাত্র একটি জাতীয় দল সৃষ্টি করা হয়। |
(গ) দ্বাদশ সংশোধনী সেপ্টেম্বর, ১৯৯১ | রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তিত হয়। উপরাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত। |
(ঘ) পঞ্চদশ সংশোধনী জুলাই, ২০১১ | তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত, রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি পুনঃপ্রবর্তন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখার পাশাপাশি সকল ধর্মচর্চার স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন ৫০ এ উন্নীতকরণ। |
উদ্দীপকের 'খ' অংশে বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী দেখানো হয়েছে এবং 'গ' অংশে দ্বাদশ সংশোধনী দেখানো হয়েছে। দুটি সংশোধনীর তুলনামূলক পার্থক্য নিচে দেখানো হলো:
বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী গৃহীত হয় ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের আমূল পরিবর্তন সাধন করা হয়। ১৯৭২ সালে প্রণীত সংবিধানে বাংলাদেশে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল। চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে তা পরিবর্তন করে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা চালু করা হয়। এক্ষেত্রে উপ-রাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি হয়, যাতে রাষ্ট্রপতির অবর্তমানে শূন্যতা সৃষ্টি না হয়। এ সংশোধনীর সবচেয়ে সমালোচিত বিষয় ছিল বাকশাল কায়েম। অর্থাৎ বহুদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে একদলীয় রাজনীতি প্রবর্তন করা হয়। সবগুলো রাজনৈতিক দলের বিলুপ্তি সাধন করে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) নামে একটি মাত্র জাতীয় দল সৃষ্টি করা হয়।
পক্ষান্তরে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসনের পরিবর্তে পুনরায় সংসদীয় সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। স্বাভাবিক কারণে উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করা হয় এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করা হয়।
এ পর্যালোচনায় দেখা যায়, চতুর্থ সংশোধনী ও দ্বাদশ সংশোধনী সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী দুটি সংশোধনী। চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে যা বিলুপ্ত করা হয়েছিল, দ্বাদশ সংশোধনীতে তা পুনঃপ্রবর্তন করা হয় এবং চতুর্থ সংশোধনীতে যা প্রবর্তন করা হয়েছিল দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তা বিলুপ্ত করা হয়।
Related Question
View All১২১৫ সালে ইংল্যান্ডের রাজা জন যে অধিকার সনদ প্রণয়ন করেছিলেন তার নাম 'ম্যাগনাকার্টা'।
একটি রাষ্ট্রকে সঠিক ও যথার্থভাবে পরিচালনা ও রাষ্ট্রীয় জীবনের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য সুষ্ঠু সংবিধান প্রণয়ন অপরিহার্য।
সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক দলিল। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। সংবিধানে নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, শাসকের ক্ষমতা এবং নাগরিক ও শাসকের সম্পর্ক কীরূপ হবে তা সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকে। জনগণের মৌলিক অধিকার কী কী এবং কীভাবে সংরক্ষিত হবে তাও সংবিধান নির্দিষ্ট করে। সংবিধান ছাড়া একটি সভ্য রাষ্ট্র পরিচালনার কথা কল্পনা করা যায় না। তাই বলা যায়, রাষ্ট্র ও জনগণের সার্বিক দিক পরিচালনা ও উন্নয়নের জন্য সংবিধান প্রণয়ন প্রয়োজন।
'ক' সংগঠনটি পরিচালনার নিয়মাবলি অলিখিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অলিখিত সংবিধানের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- এটি ঐতিহাসিকভাবে উদ্ভূত সাধারণ প্রচলিত প্রথা, রীতি-নীতি, অভ্যাস-আচরণের ওপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়। কোনো পরিষদ, সম্মেলন বা বিশেষভাবে গঠিত আইন পরিষদ কর্তৃক অলিখিত সংবিধান সৃষ্টি করা হয় না। লিখিত সংবিধান যেমন দলিল আকারে পাওয়া যায়, অলিখিত সংবিধান সেরূপ পাওয়া যায় না। অলিখিত সংবিধানের পরিবর্তন প্রক্রিয়াও সহজ। অলিখিত সংবিধান ব্যবস্থায় সাধারণ আইন-কানুন ও শাসনতান্ত্রিক আইনের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
উদ্দীপকের 'ক' নামক সামাজিক সংগঠনটি চিরাচরিত নিয়ম-কানুন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এর নিয়মগুলো কোথাও লিপিবদ্ধ করা হয়নি। এতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। এখানে মূলত অলিখিত সংবিধানের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। কেননা 'ক' নামক সংগঠনের নিয়মগুলোর বৈশিষ্ট্যে উপরে আলোচিত অলিখিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্যেরই প্রতিফলন।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' সংগঠন পরিচালনার নিয়মাবলির সাথে অলিখিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্যেগুলো সাদৃশ্যপূর্ণ।
'খ' প্রতিষ্ঠানের নিয়মাবলির সাথে লিখিত সংবিধানের সাদৃশ্য রয়েছে। 'ক' ও 'খ' প্রতিষ্ঠান দুটির পরিচালনার নিয়মাবলির মধ্যে আমি 'খ' প্রতিষ্ঠানের নিয়মাবলি উত্তম বলে মনে করি।
লিখিত সংবিধানের অধিকাংশ ধারা লিখিত থাকে বলে এটি জনগণের নিকট সুস্পষ্ট ও বোধগম্য হয়। এতে সাধারণত সংশোধন পদ্ধতি উল্লেখ থাকে বিধায় খুব সহজে পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায় না। আবার লিখিত সংবিধান স্থিতিশীল বিধায় শাসক তার ইচ্ছামতো এটি পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারে না। লিখিত সংবিধানের সকল ধারা জনগণ ও শাসক মেনে চলতে বাধ্য হয়। সংবিধান লিখিত থাকায় জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত হয়।
অন্যদিকে অলিখিত সংবিধান অস্পষ্টতা দোষে দুষ্ট। শাসক-শাসিতের সম্পর্ক বা অন্যান্য বিষয়গুলো এ সংবিধানে লিখিত থাকে না। সে কারণে শাসক ও শাসিত তাদের সুনির্দিষ্ট অধিকার, কর্তব্য ইত্যাদি বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা গ্রহণ করতে পারে না। ফলে শাসনব্যবস্থায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। আবার অধিক পরিবর্তনশীলতার কারণে সংবিধানে স্থায়ী নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রতিকূলতা সৃষ্টি হয়। তাছাড়া অলিখিত সংবিধানে জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হবার আশঙ্কা থাকে।
উদ্দীপকের 'খ' নামক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও স্কুল পরিচালনায় সুস্পষ্টভাবে লিখিত নিয়মকানুন মেনে চলেন এবং যেকোনো ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সক্ষম হন। তাই আমি মনে করি 'ক' ও 'খ' প্রতিষ্ঠান দুটির নিয়মাবলির মধ্যে 'খ' প্রতিষ্ঠানের নিয়মাবলি উত্তম।
বাংলাদেশের সংবিধান ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭২ থেকে কার্যকর হয়।
যে সংবিধানের অধিকাংশ নিয়ম কোনো দলিলে লিপিবদ্ধ থাকে না তাকে অলিখিত সংবিধান বলে। এ ধরনের সংবিধানের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- প্রথা ও রীতিনীতিভিত্তিক, চিরাচরিত নিয়ম ও আচার- অনুষ্ঠানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা। কোনো পরিষদ, সম্মেলন বা বিশেষভাবে গঠিত আইন পরিষদ কর্তৃক অলিখিত সংবিধান সৃষ্টি করা হয় না। লিখিত সংবিধান যেমন দুলিল আকারে পাওয়া যায়, অলিখিত সংবিধান সেরূপ পাওয়া যায় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!