বাংলাদেশে মোট ৪,৫৫৪টি ইউনিয়ন পরিষদ আছে।
জেলা পরিষদ হলো স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইউনিট।
২০০০ সালের জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী জেলা পরিষদ গঠিত হবে ১ জন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনে ৫ জন মহিলা সদস্যদের নিয়ে। এরা সবাই পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হবেন একটি নির্দিষ্ট জেলার অধীনে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, কমিশনারবৃন্দ, ইউপি চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের ভোটে। জেলা পরিষদের মেয়াদ পাঁচ বছর।
উদ্দীপকের সাথে বাংলাদেশের উপজেলা পরিষদের সাদৃশ্য রয়েছে।
একজন চেয়ারম্যান, দুজন ভাইস চেয়ারম্যান (এদের মধ্যে একজন হবেন মহিলা) এবং উপজেলার আওতাধীন ইউনিয়ন পরিষদসমূহের চেয়ারম্যানবৃন্দ, পৌরসভার (যদি থাকে) মেয়র এবং তিনজন মহিলা সদস্যের সমন্বয়ে উপজেলা পরিষদ গঠিত হয়। ২০০৯ সালের উপজেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্যদেরকে পরিষদের পরামর্শকের ভূমিকা প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা বা সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। উপজেলা পরিষদ নারী ও শিশুদের উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে। এ পরিষদের আয়ের উৎসের মধ্যে রয়েছে কর, ফি ও টোল এবং সরকার ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত অনুদান ইত্যাদি বর্তমানে বাংলাদেশে ৪৯২টি উপজেলা রয়েছে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, পরিষদটির সদস্য ইউপি চেয়ারম্যান, পরামর্শক সংসদ সদস্য, আয়ের উৎস কর, টোল এবং এর কার্যাবলি নারী ও শিশু উন্নয়ন। এগুলোর সাথে উপজেলা পরিষদের গঠন ও কাজের মিল রয়েছে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের স্থানীয় সরকারব্যবস্থা হলো উপজেলা পরিষদ।
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রশাসন অর্থাৎ উপজেলা প্রশাসন হলো বাংলাদেশের গ্রামীণ পর্যায়ের প্রশাসন- এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত।
বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো দুই ভাগে বিভক্ত। যথা- কেন্দ্রীয় ও মাঠ প্রশাসন। কেন্দ্রীয় প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু হলো সচিবালয়। মাঠ বা স্থানীয় প্রশাসনের তিনটি স্তর রয়েছে। এগুলো হলো বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন। আমাদের দেশে উপজেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্তর। বাংলাদেশে বর্তমানে ৪৯২টি উপজেলা রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের প্রধান হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন সদস্য। কেন্দ্রীয় সরকারের এজেন্ট হিসেবে সরকারের গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়ন করা উপজেলা প্রশাসনের মূল দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন গ্রামীণ পর্যায়ে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ পুলিশ বিভাগের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে। গ্রামীণ পর্যায়ে মহিলা ও শিশু উন্নয়ন, সমাজকল্যাণ, যুব, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে সহায়তা করে। উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, সংস্কৃতি প্রভৃতি কার্যক্রমে উপজেলা প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে। দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের ব্যবস্থা করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উপজেলা প্রশাসন বাংলাদেশের গ্রামীণ পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে।
Related Question
View Allবাংলাদেশে বর্তমানে ১৩টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে। সিটি কর্পোরেশনগুলো হলো ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও বগুড়া। দেশের সর্বশেষ ১৩তম সিটি কর্পোরেশন বগুড়া।
পাঠাগার স্থাপন পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজ।
পৌরসভা নানারকম উন্নয়নমূলক কাজ করে থাকে। পাঠাগার স্থাপন তার মধ্যে অন্যতম। এটি পৌরসভার শিক্ষাসংক্রান্ত কাজের অন্তর্গত। পৌর এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের জন্য পৌরসভা পাঠাগার স্থাপন করে।
জনাব রমিজ আলীর কাজগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো তার এলাকার জনগণের স্বাস্থ্য রক্ষা করা।
পৌরসভার মেয়র হিসেবে জনাব রমিজ আলী মনে করেন, মহল্লার মোড়ে মোড়ে ডাস্টবিন স্থাপন করলে এলাকার লোকজন তাতে ময়লা-আবর্জনা ফেলবে। এতে পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকবে এবং জনগণ বিভিন্ন রকম রোগ থেকে রক্ষা পাবে। নর্দমা ও পুকুর পরিষ্কার করে মশার ওষুধ ছিটালে মশার বংশ ধ্বংস হবে। এতে এলাকাবাসী ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ইত্যাদি রোগ থেকে রক্ষা পাবে। এছাড়া মাতৃসদনে বিনামূল্যে শিশু ও প্রসূতি মায়েরা সেবা লাভ করলে তারা সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারবে। অকালে কোনো শিশু মারা যাবে না। সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে কোনো মায়ের মৃত্যু হবে না। মা ও শিশুর জীবন নিরাপদ ও সুন্দর হবে।
উদ্দীপকে জনাব রমিজ আলী পৌরসভার একজন মেয়র। কেননা উপজেলা শহরের স্থানীয় সরকার হলো পৌরসভা। আর পৌরসভার প্রধান হলেন মেয়র। একজন মেয়র হিসেবে জনাব রমিজ আলী তার এলাকার জনগণের স্বাস্থ্য রক্ষার উদ্দেশ্যেই অনুচ্ছেদে উল্লেখিত কাজগুলো সম্পাদন করেছেন।
অনুচ্ছেদে উল্লেখিত পৌরসভার প্রধান জনাব রমিজ আলীর কাজগুলো তার এলাকার উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট নয়।
পৌরসভা প্রধান জনাব রমিজ আলীর সম্পাদিত কাজগুলো হলো মহল্লার মোড়ে মোড়ে ডাস্টবিন নির্মাণ, নর্দমা ও পুকুর পরিষ্কার করে মশার ওষুধ ছিটানো, মাতৃসদন স্থাপন করে বিনামূল্যে শিশু ও প্রসূতি মায়েদের সেবা প্রদান প্রভৃতি। রমিজ আলীর এলাকার উন্নয়নের জন্য উক্ত কাজগুলো ছাড়াও আরও কাজের প্রয়োজন।
জনাব রমিজ আলীর পৌর এলাকার উন্নয়নের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রয়োজন। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য অনুদান প্রদান, হোস্টেল নির্মাণ, মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, পাঠাগার স্থাপন প্রভৃতি কাজ রমজান আলীর সম্পাদন করতে হবে। পৌর এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন ও জনগণের বিনোদনের জন্য উদ্যান নির্মাণ, মিলনায়তন স্থাপন করতে হবে। আবার পৌর এলাকার জনগণের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার জন্য নৈশপ্রহরী নিয়োগ করতে হবে। এছাড়া সুপরিকল্পিত শহর গড়া এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য পৌরসভায় মহাপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিকল্পিত শহর গড়ার জন্য বাড়িঘর নির্মাণের অনুমতি প্রদানসহ অননুমোদিত ও বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দিতে হবে। এছাড়া পৌরসভায় প্রধান জনাব রমজান আলীকে পৌর এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার জন্য সন্ত্রাস দমনসহ শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, আধুনিক শহর গড়ার ক্ষেত্রে পৌরসভার উল্লিখিত কাজগুলোর বাস্তবায়ন জরুরি।
১৯৯৭ সালে প্রণীত আইনে ইউনিয়ন পরিষদে ১৩,৪৫২টি নারী সদস্যপদ সৃষ্টি করা হয়েছে।
পরিবার, সমাজ ও জাতীয় ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ, মতামত প্রকাশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাই নারীর ক্ষমতায়ন।
অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের অধিকারের সমতা প্রতিষ্ঠাই নারীর ক্ষমতায়নকে নির্দেশ করে। যেমন- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী হলেন নারী। এছাড়াও নারীরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন সবক্ষেত্রে নির্বাচনে জয়লাভ করে সমাজ ও রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!