সমষ্টি উন্নয়ন হলো সমাজকর্মের নীতি ও কর্মকৌশল যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সমষ্টি জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও সার্বিক জীবনমান উন্নয়নের পদ্ধতি।
গ্রহণ নীতি বলতে ব্যক্তি সমাজকর্মে একজন সমাজকর্মী কর্তৃক সাহায্যার্থীকে আন্তরিকতার সাথে গ্রহণের নীতিকে বোঝায়।
সমাজকর্মী সাহায্যার্থীকে কীভাবে গ্রহণ করবে সমস্যা সমাধান তার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। কারণ সমাজকর্মী যদি আন্তরিকতা ও সহানুভূতির সাথে সাহায্যার্থীকে গ্রহণ না করে তবে তার প্রতি সাহায্যার্থীর বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হতে পারে। তাই সাহায্যার্থী যে শ্রেণিরই হোক না কেন তাকে আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করতে হবে। এটাই গ্রহণ নীতির মূলকথা।
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজকর্মের সহায়ক পদ্ধতির ইঙ্গিত করা হয়েছে।
সমাজকর্মের মৌলিক পদ্ধতিসমূহকে বাস্তব ক্ষেত্রে সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগ এবং লক্ষ্যার্জনে যে পদ্ধতি বিশেষভাবে সহায়তা করে থাকে তাকে সহায়ক পদ্ধতি বলে। সমাজকর্মের সহায়ক পদ্ধতিগুলো হলো-সমাজকর্ম প্রশাসন, সমাজকর্ম গবেষণা ও সামাজিক কার্যক্রম। এই শ্রেণিবিভাগটিই উদ্দীপকে উল্লিখিত হয়েছে। সমাজকর্ম প্রশাসন পদ্ধতিটি সমাজকর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি সমাজকর্মের এমন একটি কৌশল ও প্রক্রিয়া যা সামাজিক নীতিকে সামাজিক সেবায় পরিণত করে এবং বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক পরিকল্পনা ও কর্মসূচিকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও বাস্তবায়নে সহায়তা করে। অন্যদিকে, সমাজকর্ম গবেষণা এমন একটি বিজ্ঞানভিত্তিক অনুসন্ধান যার মাধ্যমে সমাজকর্মের জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে যথার্থ এবং সুসংহত করে তোলা হয়। এই পদ্ধতি সমস্যা সমাধানে বাস্তবমুখী নীতি, পরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নে সহায়তা করে। সমাজকর্মের সহায়ক পদ্ধতির তৃতীয়টি হলো সামাজিক কার্যক্রম। সমাজব্যবস্থায় যে সকল অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত অবস্থা বিরাজ করে তা সচেতন ও পরিকল্পিতভাবে পরিবর্তন করে কাঙ্ক্ষিত ও বাঞ্ছিত সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলাই হলো সামাজিক কার্যক্রম। উদ্দীপকে ছকের মাধ্যমে এ তিনটি পদ্ধতিই উপস্থাপিত হয়েছে।
উক্ত পদ্ধতি অর্থাৎ সমাজকর্মের সহায়ক পদ্ধতি সমস্যার পরিপূর্ণ সমাধানে যথেষ্ট নয় বলে আমি মনে করি।
সমাজকর্ম পদ্ধতি মৌলিক ও সহায়ক এ দুটি অংশে বিভক্ত। পৃথক পৃথক ভাবে এ পদ্ধতিগুলো আলোচিত হলেও এগুলো পরস্পর অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কিত। সমাজকর্মে কোনো সমস্যার সমাধানে এই দুই শ্রেণির পদ্ধতির সমন্বয় ঘটানো হয়। অর্থাৎ কেবল মৌলিক বা কেবল সহায়ক পদ্ধতি সমস্যা সমাধানে শতভাগ কার্যকর নয়। সমাজকর্ম একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভর সাহায্যকারী পেশা। এটি মূলত সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা সমাধানে কাজ করে। এ প্রেক্ষিতেই সমাজকর্মের মৌলিক পদ্ধতিগুলোর উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে। ব্যক্তি, দল ও সমষ্টি সমাজকর্ম এ তিনটি পদ্ধতি সমাজকর্মের মৌলিক পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়। যেকোনো সমস্যার বৈশিষ্ট্য ও প্রকৃতি অনুসারে এই তিনটির মধ্য থেকে উপযুক্ত পদ্ধতিটি প্রয়োগ করে সমাধানের চেষ্টা করা হয়।তবে এগুলোর পাশাপাশি সহায়ক পদ্ধতিরও প্রয়োজন আছে। সহায়ক পদ্ধতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মৌলিক পদ্ধতি বাস্তবায়নের উপায় বা প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করে। আর এ দুই ধরনের পদ্ধতির সমন্বয়েই সমাজকর্মের আওতাধীন সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করা সম্ভব হয়।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট যে, সমাজকর্মের মৌলিক ও সহায়ক পদ্ধতির সমন্বিত প্রয়োগেই যেকোনো সমস্যার পরিপূর্ণ সমাধান সম্ভব।
Related Question
View Allআইন পেশার মাধ্যমে সমাজের মানুষের আইনগত অধিকার ও সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
চিকিৎসা পেশা একটি মানবতাবাদী সেবা ও পেশা হিসেকে বিবেচিত।
সুদূর প্রাচীনকাল থেকে মানবসেবার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো মানুষকে সকল প্রকার অসুস্থতা থেকে মুক্ত রাখা, যার প্রেক্ষিতে চিকিৎসা পেশার উদ্ভব। মানুষের দৈহিক কাঠামো এবং দেহের জৈবিক প্রক্রিয়া কর্মক্ষম ও সচল রাখার জন্য যেসব চাহিদা ও প্রয়োজন পূরণের দরকার সেসব পূরণ করতে সাহায্য করে চিকিৎসা ও নার্সিং পেশা।
উদ্দীপকে বর্ণিত দীপ্তি সমাজকর্ম বিষয়টি অধ্যয়ন করছে। সমাজকর্ম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভর একটি সাহায্যকারী পেশা।
এর লক্ষ্য হলো সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন। এ লক্ষ্য অর্জনে এটি সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির হারানো ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে তাদেরকে সমস্যা সমাধানে সক্ষম করে তোলে। এক্ষেত্রে এই সেবা, সম্পদ ও সুযোগের সমন্বয় সাধনের ওপর গুরুত্ব দেয়। অর্থাৎ সমাজকর্ম সামাজিক বিপর্যয় রোধ করে একটি সুষ্ঠু সমাজ গঠনে কাজ করে। দীপ্তির অধ্যয়নরত বিষয়টির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সম্পদ, সেবা ও সুযোগের সাথে মানুষের সংযোগ ঘটানো এবং সামাজিক বিপর্যয় প্রতিরোধ করা যা সমাজকর্মের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ। সমাজকর্মের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণে ১৯৮১ সালে NASW কর্তৃক প্রকাশিত কতগুলো প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচনা করা হয়। এগুলো হলো-
১. জনগণের সমস্যার সমাধান, উপযোজন এবং উন্নয়ন ক্ষমতার উন্নয়ন,
২. সম্পদ, সেবা ও সুযোগের সাথে মানুষের সংযোগ ঘটানো;
৩. কার্যকরী ও মানবীয় সেবা ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করা; ও
৪. সামাজিক নীতির বিকাশ ও উন্নয়ন। আবার ওয়ার্নার ডব্লিউ বোহেম সমাজকর্মের তিনটি মৌলিক লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো-
১. মানুষের হৃতক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা;
২. কার্যকর সামাজিক ভূমিকা পালনের জন্য ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পদের সমাবেশ করা; এবং
৩. সামাজিক বিপর্যয় প্রতিরোধ করা। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত দীপ্তি সমাজকর্ম বিষয়টি অধ্যয়ন করছে।
দীপন ও সমাজকর্মীর সম্পর্ককে র্যাপো বা পেশাগত সম্পর্ক , যা সমাজকর্মের সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত দীপন প্যাথিড্রিনে আসক্ত। সে তার বোনের বান্ধবী দ্বীপ্তির পরামর্শে একজন সমাজকর্মীর নিকট যায়। সমাজকর্মী তার সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন এবং দীপন উক্ত সমাজকর্মীর ব্যবহারে মুগ্ধ হয়। দীপন ও সমাজকর্মীর মধ্যকার এ সম্পর্কই হলো 'র্যাপো'। ব্যক্তির সমস্যার সমাধানকে কেন্দ্র করে ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতি পরিচালিত হয়। এ সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলো র্যাপো বা পেশাগত সম্পর্ক। সাধারণত সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ায় সমাজকর্মী ও সাহায্যার্থীর মধ্যে যে পেশাগত সম্পর্ক স্থাপন করা হয় তাকে র্যাপো বলা হয়। এখানে সমাজকর্মী একজন পেশাদার ব্যক্তি হিসেবে তার আচরণের মাধ্যমে সাহয্যার্থীর আস্থাভাজন হন। ফলে সমাজকর্মী ও সাহায্যার্থীর সম্পর্কের মধ্যকার দূরত্ব দূর হয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে বন্ধুসুলভ আচরণের ক্ষেত্র তৈরি হয়, যা সাহায্যার্থী সম্পর্কিত তথ্যানুসন্ধানে সমাজকর্মীকে বিশেষভাবে সহায়তা করে। ফলে সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া অধিক উপযোগী ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এ সম্পর্ক সম্পূর্ণ অস্থায়ী এবং অন্যান্য সম্পর্কের মতো আত্মনির্ভর হবে না। অনেক সময় এ সম্পর্ককে 'Professional Relationship' বা 'Casework Relationship' নামেও, অভিহিত করা হয়। পরিশেষে বলা যায়, দীপন এবং সমাজকর্মীর মধ্যকার সম্পর্কই ব্যক্তি সমাজকর্মের মূল বিষয়। সাহায্যার্থী ও সমাজকর্মীর মধ্যে এ সম্পর্ক গড়ে না উঠলে অনেক সময় সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়ে যায়
সমষ্টি সংগঠন হলো সামাজিক উন্নতি ও ভারসাম্য রক্ষার জন্য পরিচালিত জনসমষ্টিকেন্দ্রিক সুশৃঙ্খল সেবাকর্ম প্রক্রিয়া।
যেসব মৌলিক নিয়ম-কানুন ব্যক্তি সমাজকর্মীর কার্যাবলি নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে, সেগুলোকেই ব্যক্তি সমাজকর্মের অনুশীলন নীতি বলা হয়।
ব্যক্তি সমাজকর্ম সমস্যা সমাধানের সুশৃঙ্খল এবং সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়া। সুশৃঙ্খল এবং সুপরিকল্পিত উপায়ে সমস্যা সমাধানে সাহায্য করার জন্যে ব্যক্তি সমাজকর্মীদের কতগুলো মৌলিক নীতি অনুসরণ করতে হয়। এসব নীতি সমাজকর্মীর কাজের নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করে। এগুলোকেই ব্যক্তি সমাজকর্মের অনুশীলন নীতি বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!