সৌদি আরবে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র বিদ্যমান।
যে সরকারব্যবস্থায় শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং শাসন বিভাগের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা আইন বিভাগের ওপর নির্ভরশীল, তাকে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় পদ্ধতির সরকার বলে।
সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় মন্ত্রিসভার হাতে দেশের শাসন ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে। সাধারণ নির্বাচনে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী দল মন্ত্রিসভা গঠন করেন। দলের আস্থাভাজন ব্যক্তি হন প্রধানমন্ত্রী। সংসদীয় সরকারে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভা তাদের কাজের জন্য আইন পরিষদের নিকট দায়ী থাকে।
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বসবে।
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য কর্মের সুযোগ সৃষ্টি করে, বেকার ভাতা প্রদান করে, বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। এ বিষয়গুলো উদ্দীপকেও উল্লেখ করা হয়েছে। আর এ কারণেই '?' চিহ্নিত স্থানে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হবে।
কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের কতগুলো বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র সমাজের মঙ্গলের জন্য সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে। খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করে। রাস্তাঘাট, এতিমখানা, সরাইখানা, খাদ্য ভর্তুকি প্রদান ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে। বেকার ভাতা, অবসরকালীন ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ইত্যাদি প্রদান করে। সচ্ছলদের উপর উচ্চহারে কর ধার্য করে দরিদ্র ও দুস্থদের সাহায্য ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে। কৃষক, শ্রমিক ও মজুরদের স্বার্থরক্ষার জন্য ন্যূনতম মজুরির ব্যবস্থা করে তাদের জীবনযাত্রার মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করে। সমবায় সমিতি গঠন ও শ্রমিক কল্যাণ সমিতি গঠন করে কৃষক, শ্রমিক ও মজুরদের স্বার্থ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যের আলোকে বাংলাদেশকে অনেকাংশে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলা যায়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- ন্যূনতম চাহিদা পূরণ, কর্মের সুযোগ সৃষ্টি, বেকার ভাতা প্রদান এবং বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসাব্যবস্থা। এ চারটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে বাংলাদেশ জনগণের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করে। এদিক থেকে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলা যায়। কর্মের সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে দেখা যায়, বাংলাদেশ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়া নারী জনগোষ্ঠীর জন্য কোটাব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে। হাঁস-মুরগির খামার ও মাছ চাষের মতো আয়বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচিতে নারীদের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। এদিক থেকেও বাংলাদেশকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলা যায়। তবে বাংলাদেশ বেকার ভাতা প্রদান করে না। কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের এই বৈশিষ্ট্যটি বাংলাদেশে অনুপস্থিত।
বাংলাদেশের পক্ষে সম্পূর্ণরূপে বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা 'সম্ভব না হলেও অনেকাংশে তা সম্ভব হয়েছে। যেমন- সরকার প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যবই সরবরাহ এবং ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের উপবৃত্তি প্রদান করছে। এছাড়া সরকার নাগরিকদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে খুব কম মূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে।
উল্লিখিত আলোচনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলা না গেলেও অনেকাংশেই কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলা যায় এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হবে এ আশাবাদ ব্যক্ত করা যায়।
Related Question
View Allউত্তরাধিকারসূত্রে গঠিত সরকারব্যবস্থার নাম হলো রাজতন্ত্র।
যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় সম্পত্তির ওপর নাগরিকদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকার করা হয় তাই পুঁজিবাদী রাষ্ট্র।
পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে উৎপাদনের উপাদানসমূহ ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকে। এর ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এখানে অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদনব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এ ধরনের রাষ্ট্রে নাগরিকগণ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সম্পদ ভোগ ও এর মালিকানা লাভ করে থাকে। বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রই পুঁজিবাদী। যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ভারত প্রভৃতি।
'ক' রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার বলতে সেই সরকারকে বোঝায় যেখানে শাসন বিভাগ আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে না। রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভার সদস্যগণ আইনসভার সদস্য নন। মন্ত্রীগণ তাদের কাজের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে দায়ী থাকেন। রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টির ওপর মন্ত্রীদের কার্যকাল নির্ভর করে। 'ক' রাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থায়ও এমন বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের শাসক আইনসভার নিকট দায়ী নন। এ ধরনের সরকারব্যবস্থায় জাতীয় স্বার্থ বেশি গুরুত্ব পায়। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারেরও এ ধরনের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এ ধরনের সরকারে রাষ্ট্রপতি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তিনিই প্রকৃত শাসক ও সরকার প্রধান। তিনি কোনো কাজে মন্ত্রীদের পরামর্শ গ্রহণ করতেও পারেন আবার নাও পারেন। ছকের 'ক' রাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থাটিও পাঠ্যবইয়ের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ছকে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী 'খ' রাষ্ট্রে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় জনমতের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়।
সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় সাধারণ নির্বাচনে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী দল মন্ত্রিসভা গঠন করে। দলের আস্থাভাজন ব্যক্তি হন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর দল আইনসভায় বিভিন্ন দল-মতের প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন আইন পাস করে।
সংসদীয় সরকারের আইনসভা সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভা তাদের কাজের জন্য আইন পরিষদের নিকট দায়ী থাকে। আইনসভার আস্থা হারালে মন্ত্রিসভার পতন ঘটে। সংসদীয় সরকারের সদস্যগণ বিশেষ করে বিরোধী দলের সদস্যগণ সংসদে বসে সরকারের কাজের সমালোচনা করার সুযোগ পায়। তাছাড়া সংসদীয় সরকার জনমতের দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় জনমতকে অনুকূলে রাখার জন্য সরকারি ও বিরোধী দল সবসময় তৎপর থাকে।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় জনমতের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়- উক্তিটি যথার্থ।
এক দলের শাসন কায়েম হয় একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায়।
উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে গঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় শাসনক্ষমতা বংশ পরম্পরা অনুযায়ী হয়ে থাকে।
বিশ্বের কোনো কোনো রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানগণ উত্তরাধিকারসূত্রে শাসনক্ষমতা লাভ করেন। এ ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রাজতন্ত্র বলা হয়। এ ব্যবস্থায় রাজার ছেলে বা মেয়ে উত্তরাধিকার সূত্রে রাষ্ট্রের রাজা বা রানি হয়ে থাকেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!