যে স্থানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় অবস্থিত তা সচিবালয় নামে পরিচিত।
আইন প্রণয়নের ব্যাপারে রাষ্ট্রপতি সম্মতিদানসহ কিছু কাজ করেন যাকে রাষ্ট্রপতির আইনসংক্রান্ত কাজ বলা হয়।
রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান করতে, স্থগিত রাখতে ও প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে সংসদ ভেঙে দিতে পারেন। তিনি সংসদে ভাষণ দিতে ও বাণী পাঠাতে পারেন। সংসদ কর্তৃক গৃহীত কোনো বিলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দান করলে বা সম্মতি দান করেছেন বলে গণ্য হলে বিলটি আইনে পরিণত হয়। আর এগুলোই রাষ্ট্রপতির আইন সংক্রান্ত কাজ।
উদ্দীপকের ছকের যে তিনজন কর্মকর্তা কেবল কেন্দ্রীয় প্রশাসনে কাজ করেন তারা হলেন মন্ত্রী, সচিব ও অতিরিক্ত সচিব।
মন্ত্রণালয় হলো প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু। আর যে স্থানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অবস্থিত তা সচিবালয় নামে পরিচিত। দেশের সকল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এখানে গৃহীত হয়। এক একটি মন্ত্রণালয় এক একজন মন্ত্রীর অধীনে থাকে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে একজন সচিব আছেন। তিনি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান এবং মন্ত্রীর প্রধান পরামর্শদাতা। মন্ত্রণালয়ের সব প্রশাসনিক ক্ষমতা সচিবের হাতে। মন্ত্রীর প্রধান কাজ প্রকল্প প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণ। আর মন্ত্রীকে নীতি নির্ধারণে ও শাসনকার্যে সহায়তা করা এবং এসব নীতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব সচিবের। অতিরিক্ত সচিব মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তিনি সচিবকে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে সহায়তা করেন। কোনো মন্ত্রণালয়ে সচিব না থাকলে তিনি সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।
উদ্দীপকের ছকে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের কাঠামো বর্ণনা করা হয়েছে। মন্ত্রী, সচিব এবং অতিরিক্ত সচিব ছাড়াও মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব উপ-সচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব ও সহকারী সচিব দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও মন্ত্রণালয়ে আরও বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রয়েছেন। তারাও মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্য পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
উদ্দীপকের ছকে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থার স্বরূপ ফুটে উঠেছে।
রাষ্ট্রের সামগ্রিক শাসনকাজ পরিচালনা করে প্রশাসন। বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর একটি স্তর হলো কেন্দ্রীয় প্রশাসন এবং অন্যটি হলো মাঠ প্রশাসন। দেশের সব ধরনের প্রশাসনিক নীতি ও সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়। মন্ত্রণালয় হলো প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু। আর যে স্থানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় অবস্থিত তা সচিবালয় নামে পরিচিত। মন্ত্রী, সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, উপসচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব, সহকারী সচিব ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা কেন্দ্রীয় প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করে।
উপরের ছকে দেখা যায়, পদসোপান অনুযায়ী সবার উপরে রয়েছেন মন্ত্রী। তার নিচে সচিব ও অতিরিক্ত সচিব। এর পরে ক্রমানুসারে যুগ্ম সচিব, উপ-সচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব, সহকারী সচিব ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা। যা কেন্দ্রীয় প্রশাসন ব্যবস্থায় কর্মকর্তাদের পদসোপান নীতির অনুরূপ। কেন্দ্রীয় প্রশাসনের মধ্য দিয়েই দেশের সব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং তা মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে সারা দেশে বাস্তবায়িত হয়। মাঠ প্রশাসন মূলত কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়ে থাকে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের ছকে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থার স্বরূপ ফুটে উঠেছে।
Related Question
View Allশাসন বিভাগের অপর নাম নির্বাহী বিভাগ।
মাঠ প্রশাসনের প্রথম ধাপ হলো বিভাগীয় প্রশাসন।
বিভাগের উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন ও তত্ত্বাবধান করে বিভাগীয় প্রশাসন। তবে বিভাগের সব কাজ সম্পন্ন করা হয় বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে। তিনি কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে বিভাগের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
'A' চিহ্নিত স্থানটি সরকারের আইন বিভাগকে নির্দেশ করছে।
সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে আইনসভা অন্যতম। বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় জাতীয় সংসদ যাবতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। বাংলাদেশের আইন প্রণয়নের সব ক্ষমতা জাতীয় সংসদের। সংসদ যেকোনো আইন প্রণয়ন, প্রচলিত আইনের পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারে।
জাতীয় সংসদ নির্বাহী বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রধানমন্ত্রী ও 'মন্ত্রিসভার সদস্যরা সংসদের কাছে দায়ী থাকে। কোনো কারণে সংসদ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা আনলে মন্ত্রিসভা ভেঙে যায়। সংসদের অনুমতি ছাড়া কোনো কর বা খাজনা আরোপ ও আদায় করা যায় না। সংসদ প্রতি বছর জাতীয় বাজেট পাস করে। সংসদ সংবিধানে উল্লিখিত নিয়মের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে পারে। তবে এজন্য সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের দরকার হয়। সুতরাং বলা যায়, আইন বিভাগের কর্মকাণ্ডের পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'B' চিহ্নিত বিভাগটি হলো নির্বাহী বিভাগ এবং 'A' চিহ্নিত বিভাগটি হলো আইন বিভাগ। বাংলাদেশে আইন বিভাগ নির্বাহী বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। এ বিষয়টির সাথে আমি একমত।
সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় আইনসভার স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সরকারের যেসব কাজ করতে হয় সেগুলো হলো- আইনসংক্রান্ত কাজ, শাসনসংক্রান্ত কাজ এবং বিচারসংক্রান্ত কাজ। এই তিন প্রকার কাজ সম্পাদন করার জন্য আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগের ওপর দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে। তবে আইন বিভাগের কাজের পরিধি ব্যাপক। এটি শুধু আইন প্রণয়নই করে না, নির্বাহী বিভাগকে নিয়ন্ত্রণও করে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা সংসদের কাছে দায়ী থাকেন। কোনো কারণে সংসদ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা আনলে মন্ত্রিসভা ভেঙেযায়। মুলতুবি প্রস্তাব, নিন্দা প্রস্তাব, অনাস্থা প্রস্তাব, প্রশ্ন জিজ্ঞাসা, সংসদীয় বিভিন্ন কমিটি ও সংসদে সাধারণ আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাহী বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
উপরের আলোচনায় সুস্পষ্ট, আইন বিভাগের সাথে নির্বাহী বিভাগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। আইন বিভাগ তথা জাতীয় সংসদ নির্বাহী বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে।
যুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল।
রাষ্ট্রের শাসনকাজ পরিচালনা ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রশাসনকে রাষ্ট্রের হৃৎপিণ্ড বলা হয়।
রাষ্ট্রের শাসনকাজ পরিচালনার দায়িত্ব প্রশাসনের। রাষ্ট্রের ভিতরে শান্তি- শৃঙ্খলা রক্ষা ও রাষ্ট্রের সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সুষ্ঠু প্রশাসনের কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রশাসন রাষ্ট্রের হৃৎপিণ্ড হিসেবে পরিচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!